ধারাবাহিক পথেই হতে পারে মাধ্যমিকের সেরা প্রস্তুতি, অনুসন্ধানের উদ্যোগে মাসিক পরীক্ষা পর্বের সূচনায় বললেন বিজ্ঞানী এণা রায় বন্দ্যোপাধ্যায়
নায়ীমুল হকের প্রতিবেদন: অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছুতে সবথেকে বড় যা প্রয়োজন, তা হল পরিকল্পনা এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দরকার নিবিড় অনুশীলন, ধারাবাহিক একটা পথে, যাকে এক কথায় বলা যায় কন্টিনিউয়াস প্রসেস। এই কন্টিনিউয়াস প্রসেসের মধ্যে প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এনে নিজেকে জীবনে কীভাবে গড়ে তুলতে হয় তার পথ দেখাচ্ছে অনুসন্ধান কলকাতার অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকারা, এমনই ভাবে নিজের মত ব্যক্ত করলেন দেশের অন্যতম সেরা জীব বিজ্ঞানী শিক্ষারত্ন অধ্যাপিকা এনা রায় বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার অনুসন্ধানের উদ্যোগে মাধ্যমিক প্রস্তুতির মাসিক পরীক্ষা পর্বের সূচনা লগ্নে অনলাইনে তিনি উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে ছাত্র ছাত্রীদের জন্য তিনি বলেন, জীবনের প্রথম বড় এবং স্কুল গণ্ডির বাইরে বোর্ড পরীক্ষা মাধ্যমিক। স্বাভাবিকভাবেই মাধ্যমিকে নিজের সেরা পারফরম্যান্স তুলে আনতে প্রয়োজন সুন্দর একটা পরিকল্পনা। আর সেই লক্ষ্যে নিজেকে কন্টিনিউয়াস প্রসেসের মধ্যে রাখা খুবই জরুরি। জীবনে আরও অনেক পথ পেরোতে হবে, আজকের এই প্রস্তুতি সেই বড় পথ অতিক্রম করার শক্তি ও সাহস যোগাবে। সেই কাজে আজ আমিও ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে থাকতে পেরে নিজেকে তৃপ্ত বোধ করছি। প্রত্যেককে মাধ্যমিকের জন্য সুন্দর প্রস্তুতি সহ একটা সেরা পারফরমেন্স দেখানোর জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিজ্ঞানী এণা রায় বন্দ্যোপাধ্যায়।

কৃষি বিজ্ঞানী মতিউর রহমান খান

এদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ছাত্রছাত্রীরা মাসের শেষ রবিবারে অনুসন্ধানের এই তৃতীয় পর্বের পরীক্ষায় যোগ দিয়েছিল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এর পর সেরাদের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হয় সৃজা পাল। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯, সর্বমোট নম্বর থেকে মাত্র এক কম। অনুসন্ধানের উদ্যোগে মাধ্যমিক প্রস্তুতির প্রথম পর্বের পরীক্ষাতেও সৃজা প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। সে বাঁকুড়া জয়রামবাটির রামকৃষ্ণ মিশন সারদা বিদ্যাপীঠের একজন কৃতী ছাত্রী। তাকে এবং সকল পরীক্ষার্থীদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান খান। পরীক্ষার পরে এবারের পরীক্ষা নিয়ে বিশ্লেষণী সভায় তিনি এবং বিশিষ্ট গণিতের শিক্ষক তথা অনুসন্ধানের উদ্যোগে মাধ্যমিক প্রস্তুতি পরীক্ষার পরিচালক গৌরাঙ্গ সরখেল জানান এমসিকিউ পদ্ধতিতে প্রতিমাসের এই পরীক্ষায় সার্বিকভাবে সকলের কিছু না কিছু উন্নতি হচ্ছে, বিটুইন-দা-লাইনস পড়ার অভ্যাস বাড়ছে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রতিটি অধ্যায়ের ভিত মজবুত হচ্ছে, আরেক দিকে পরীক্ষাভীতিও অনেকটাই কেটে যাচ্ছে। শারদীয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলকে পূজোর মাসে অংকের জ্যামিতির এক্সট্রা বা রাইডার, ভৌত বিজ্ঞানের রসায়ন, ইংরেজির রাইটিং স্কিল সহ বিশেষ কয়েকটা ক্লাস দেওয়ার সুখবরও জানিয়ে রাখেন তাঁরা।

সৃজা পাল – মাধ্যমিক প্রস্তুতির প্রথম ও তৃতীয় পর্বের সেরা ছাত্রী
অনলাইন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকেরাও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নিঃস্বার্থে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই অবদানকে ভুলতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পরিচালক মন্ডলীর প্রত্যেককে তাঁরা শারদীয় শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

