উত্তরাখণ্ডে ট্রেকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ পাঁচ অভিযাত্রীর মধ্যে চারজনের দেহ ফিরল বাঁকুড়ার শালবনীতে, এলাকায় শোকের ছায়া!
উত্তরাখণ্ডে ট্রেকিং করতে গিয়ে তুষারঝড়ে নিখোঁজ বাঁকুড়ার পাঁচ অভিযাত্রীর মধ্যে চার জনের দেহ ফিরল বাড়িতে।
রবিবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ বাঁকুড়ার শালবনি গ্রামে চার অভিযাত্রীর কফিনবন্দি দেহ পৌঁছোয়। পরে এক অভিযাত্রীর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাঁকুড়ার কেশরা গ্রামে। এখনও পর্যন্ত এক অভিযাত্রীর খোঁজ মেলেনি। রতন ঘোষ নামে ওই যুবকের পরিবার উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।
লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন উত্তরাখণ্ড রওনা দিয়েছিলেন বাঁকুড়ার শালবনির রিন্টু মণ্ডল, তাপস বাউড়ি, উদয় ঘোষ, রতন ঘোষ এবং কেশরা গ্রামের মনোজ খাওয়াস। গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতাল পর্যন্ত ট্রেকিং করার লক্ষ্য ছিল তাঁদের। গত ২৭ অক্টোবর সকালে গঙ্গোত্রীর বেসক্যাম্প থেকে একটি অভিযাত্রী দলের সঙ্গে রওনা দেন বাঁকুড়ার পাঁচ অভিযাত্রী। ২৯ অক্টোবর রাতে জানা যায়, ট্রেকিং রুটের ৪ হাজার মিটার উচ্চতায় প্রবল তুষার ঝড়ের কবলে পড়ে ওই অভিযাত্রী দলের আট জন নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। সেদিন থেকে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিল প্রশাসন।
উত্তরাখন্ড সিভিল অ্যাভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির হেলিকপ্টার নিয়ে খোঁজ চলে। প্রথমে দুই অভিযাত্রী, পরে আরও পাঁচ অভিযাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাঁকুড়ারই চার জন। তাঁদের দেহ শনাক্ত করেছে পরিবার। শনিবার দেহরাদূন থেকে চার জনের দেহ প্রথমে দিল্লি আনা হয়। সেখান থেকে বিমানে দমদম বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে দেহ। রবিবার সকালে দেহ পৌঁছোয় বাঁকুড়ায়। দুই গ্রামে যান বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষাণু রায়, বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা এবং বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। গ্রামের প্রান্তে ইন্দিরা সরোবর লাগোয়া ময়দানে দেহগুলি নামানো হয়েছিল। সেখানেই শেষশ্রদ্ধা জানান জেলাশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিধায়ক-সহ গ্রামবাসীরা।
নিখোঁজ রতনের বাবা ভোলানাথ ঘোষ বলেন, ‘‘চার বন্ধুর দেহ গ্রামে ফিরলেও আমার ছেলের এখনও কোনও খোঁজ নেই। সে যেখানেই থাকুক যেন দ্রুত বাড়ি ফিরে আসে। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব যেন দ্রুত তার সন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়।’’ মৃত রিন্টুর দাদা সিন্টু মণ্ডল বলেন, ‘‘ট্রেক সেরে আমার ভাই আর তার বন্ধুরা কালীপুজোর আগের দিনই বাড়ি ফিরবে বলেছিল। কালীপুজোতেই ফিরল। কিন্তু মৃত অবস্থায়। এখনও তো একজনের খোঁজ নেই।’’
বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে উত্তরকাশীর জেলাশাসকের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রাখা হয়। উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। আবহাওয়ার কারণে আপাতত উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রশাসন পরিবারগুলোর পাশে থাকবে। নীলাদ্রিশেখর বলেন, ‘‘অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। রাজ্য সরকার সবরকম ভাবে পরিবারগুলোর পাশে থাকবে।’’

