আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা! এ বিষয়ে বামপন্থী আইনজীবির প্রতিক্রিয়া?
আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা! মদের বোতল ছুড়ে কাচ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ। এই ঘটনায় ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের’ দায়ী করেছেন প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন এই সিপিএম সাংসদ।
বিকাশ জানিয়েছেন, ভোর ৫টা নাগাদ ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা’ তাঁর পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার বাড়িতে হামলা চালান। প্রথমে একজন ব্যক্তি স্কুটারে এসে বাড়়ির কাচের জানলা লক্ষ্য করে মদের বোতল ছুড়তে থাকেন। পিছনে আরও কয়েকজন ছিলেন। হামলার সময় বিকাশের উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতীরা অশ্রাব্য গালিগালাজ দেন বলে অভিযোগ। এই হামলা থেকে তাঁর বাড়ির গৃহসহায়িকা অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিকাশ।
বাড়়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও হামলার ছবি ধরা পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি গামছায় মুখ ঢেকে বাইকে চেপে আসছেন। বিকাশের বাড়ির সামনে বাইক রেখে একটি ব্যাগ থেকে একের পর এক কাচের বোতল বার করে ছুড়ে যাচ্ছেন তিনি। গালিগালাজের পাশাপাশি বিকাশের নাম করে ‘আমাদের পিছনে লাগবি না, আমরা দেশভক্ত’ বলেও হুমকি দিয়ে যান ওই ব্যক্তি। ফুটেজে হুমকির এই অডিয়ো রেকর্ড হয়েছে।
বাড়িতে হামলা প্রসঙ্গে বিকাশ ভট্টাচার্য সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “হিন্দুত্ববাদীরা এসব করেছে। ওরা সব মায়ের সন্তান। ওরা আমাকে নাকি শিক্ষা দেবে। এই ভাবে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে। যাঁরা গরিব মানুষের হয়ে লড়াই করছেন, তাঁদের উপরেই হামলা করা হচ্ছে।”
বিকাশ জানিয়েছেন, হামলার পর বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল। কী ভাবে, কখন হামলা চালানো হয়, তা পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি। এর বাইরে যা করণীয়, তা তিনি করবেন বলে জানিয়েছেন বিকাশ। আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, বিকাশের মতো প্রবীণ আইনজীবীর বাড়িতে হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের নজরে আনা হবে।
সম্প্রতি রাজ্যে বেশ কয়েকজন আইনজীবীর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থেকে ফেরার পথে বামপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত শামিম আহমেদ এবং তাঁর সহযোগী আইনজীবীরা আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। শামিমের দাবি, তাঁরা বেনাচাপাড়ায় ঘরছাড়া পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে পুলিশের সামনেই তাঁদের গাড়িতে হামলা হয়। বাঁশ, শাবল ও লাঠি নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ। সঙ্গে থাকা এক মহিলা আইনজীবীকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন শামিম। পরে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের হস্তক্ষেপে তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।
গত সেপ্টেম্বরে বারুইপুর আদালতে এসএফআই সমর্থকদের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে ডিম-হামলার শিকার হল আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। সায়ন অভিযোগ করেন, আদালত চত্বরে উপস্থিত আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং তাঁকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে থাকেন। অভিযোগ, তাঁর পরনে থাকা কালো কোট লক্ষ্য করে আচমকা ডিম ছোড়া হয়। আরও অভিযোগ, হামলার শিকার হন তাঁর সহকারীরাও। পরে পদ্মপুকুরে সিপিএমের পার্টি অফিসের সামনেও ফের সায়নকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

