জেলা পরিষদের পর তিনজন কাউন্সিলার নিয়ে মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভা দখল করল বিজেপি
বাংলার জনরব ডেস্ক : ৪ সদস্য নিয়ে মালদা জেলা পরিষদ দখল করেছে বিজেপি এবার ওই জেলারি ইংরেজবাজার পৌরসভা দখল নিল বিজেপি মাত্র তিনজন সদস্যকে। অর্থাৎ বিজেপির অতীকে জিতে আসা তিনজন কাউন্সিলর ছিল তাদের সঙ্গে বর্তমানে বিদ্রোহী তৃণমূলের ১১ জন কাউন্সিলর যোগ দেন। এরপর আরো একজন নির্দল কাউন্সিলর এদেরকে সমর্থন করে এর ফলে মাত্র তিনজন কাউন্সিলর নিয়ে ইংরেজবাজার পৌরসভা তে গেরুয়া পতাকা উড়ল।
ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। তবে গত মাসে পুরপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা ছিল। বুধবার বোর্ড গঠনের জন্য সভা ডাকা হয়েছিল। তবে এই বোর্ড গঠন নিয়ে ‘নাটক’ কম হল না। বোর্ড গঠনের আগেই ১১ জন তৃণমূলের কাউন্সিলর জানান, তাঁরা নির্দল হচ্ছেন! সেই মতো জেলাশাসকের কাছে চিঠিও দেন। তার পরেই বোর্ড গঠনের সভায় যান তাঁরা। তৃণমূল থেকে নির্দল হওয়া কাউন্সিলর শুভময় বসু বলেন, ‘‘আমরা দলত্যাগ করিনি। আমরা নির্দল হলাম।’’
কেন আচমকা নির্দল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ওই ১১ জন? শুভময় বলেন, ‘‘আমরা তৃণমূল থেকে নির্বাচিত হয়েছিলাম। কিন্তু তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীক নির্বাচন কমিশন ফ্রিজ় করেছে। তার পর থেকেই আমরা পরিচিতির সঙ্কটে ভুগছিলাম। পুর পরিষেবা পুরো ভেঙে পড়েছিল। মানুষ আমাদের নির্বাচিত করেছিলেন পরিষেবা দেওয়ার জন্য। কিন্তু এই চার-পাঁচ মাস ওয়ার্ড অফিসে বসে শুধু শংসাপত্র লেখা ছাড়া কোনও কাজ ছিল না। এখন আমরা নির্দল হয়ে বাকি সময়টুকু সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতে চাই।’’
নির্দল হিসেবে কি তৃণমূলের এই ‘বিক্ষুব্ধ’ শিবির কোনও প্রার্থী দেবেন? সেই প্রশ্নের উত্তরে সভা শুরুর আগে শুভময় জানিয়ে দেন, তাঁরা কোনও প্রার্থী দেবেন না! বোর্ড গঠনের সভায় অম্লানের নাম চেয়ারম্যান হিসেবে প্রস্তাব করেন বিজেপি কাউন্সিলর সুতপা মুখোপাধ্যায়। সেই প্রস্তাব সমর্থন করেন কৃষ্ণা নাগ। তার পরেই অম্লানকে চেয়ারম্যান হিসেবে সমর্থন জানান ওই ১১ জন কাউন্সিলর। আর বোর্ডে থাকা এক নির্দল কাউন্সিলরও সমর্থন করেন অম্লানকে। ভোটাভুটিতে জাদুসংখ্যা পেতে তৃণমূল ভাঙানোর কথা মানতে নারাজ ইংরেজবাজারের বিধায়ক তথা পুরসভার নয়া চেয়ারম্যান। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা কাউকে ভাঙিয়ে আনিনি। চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছিলেন। তার পর প্রক্রিয়া হিসেবে বোর্ড গঠন হয়। আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেখানেই ওই ১১ জন সমর্থন জানান।’’
বোর্ড ভাঙলেও এত দিন ইংরেজবাজার পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল তৃণমূলেরই। ২৫ জন কাউন্সিলর ছিল রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের। বুধবারের ভোটাভুটির সময় তৃণমূলের বাকি ১৪ জন কাউন্সিলরও সভায় ছিলেন। তবে এক ভোট বেশি পেয়ে পুরবোর্ড দখল নিল বিজেপি। বুধবারের সভায় তৃণমূল কাউন্সিলর হিসেবেই উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণেন্দু। এ ছাড়াও ছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জন ঘোষের স্ত্রী গায়ত্রী ঘোষও। উল্লেখ্য, কৃষেন্দু ও নীহাররঞ্জনের মধ্যে আকচাআকচি বা দ্বন্দ্ব বিগত দিনে বার বার প্রকাশ্যে এসেছে। তবে ভোটাভুটি পর্বে একই শিবিরে দেখা গেল কৃষ্ণেন্দু ও নীহাররঞ্জনের স্ত্রীকে। ভোটাভুটি শেষে ইংরেজবাজারের কৃষ্ণেন্দু বলেন, ‘‘নিয়মে যা রয়েছে, তা-ই হয়েছে।’’ ১১ জন নির্দল হওয়া নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘কেন ওরা গেল আমার জানা নেই। ওটা ওদের নিজস্ব ব্যাপার।’’

