কৃষ্ণনগরে ‘মুক্তধারা’-র ৬০তম আলোচনাসত্র
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) ‘মুক্তধারা’-র ৬০তম আলোচনাসত্র অনুষ্ঠিত হলো কৃষ্ণনগর পৌরসভার দ্বিজেন্দ্রমঞ্চে। প্রখ্যাত আখ্যানকার সুধীর চক্রবর্তীর ভাবনার ফসল রূপে নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে ‘মুক্তধারা’ নামক সংগঠনটির পথচলা শুরু হয়েছিল।
সময়টি ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশতবর্ষ। কৃষ্ণনগরে ‘মুক্তধারা’ সংস্থাটি গড়ে ওঠার পর্বে যাঁরা বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই আজ প্রয়াত, যাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন নাট্যকার অশোককুমার ভাদুড়ী, সমাজকর্মী শংকর সান্যাল, চিকিৎসক রমেন সরকার, সমবায়িক শিবনাথ চৌধুরী প্রমুখ। বর্তমানে এই সংগঠনের আহ্বায়ক সম্পদনারায়ণ ধর, তপনকুমার ভট্টাচার্য ও দীপাঞ্জন দে।
২৬ সেপ্টেম্বর ছিল মুক্তধারার ৬০তম আলোচনাসত্র। এদিনের আলোচনার বিষয় ছিল ‘নদিয়ারাজের জল-প্রজ্ঞা’। আলোচক ছিলেন বারাসাত গভর্নমেন্ট কলেজের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক ড. বলাইচন্দ্র দাশ। নদী-বিজ্ঞান ও জলাভূমি নিয়ে বলাইচন্দ্র দাশ দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক গবেষণা এদিন মুক্তধারার শ্রোতাবন্ধুদের সম্মুখে উপস্থাপিত হয়। তাঁর বক্তব্যে নদিয়া জেলার নদীগুলি সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত ভুল তথ্যগুলি যে কতটা বিভ্রান্তিকর, তা সকলে উপলব্ধি করতে পারেন। সেই সকল বদ্ধমূল ভুল ইতিহাস পরিবেশন (তাঁর কথায় ‘গল্পকথা’) প্রকৃত গবেষণাকে বিপথে যেন না নিয়ে যায়, সেই দায়িত্ব আমাদের সকলের। এহেন গহীন পর্যালোচনা সভাকক্ষে উপস্থিত সকলকে ঋদ্ধ করেছে বলতেই হয়।
বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত কৃষ্ণনগরের শ্রীরামকৃষ্ণ পাঠাগারের সহযোগিতায় ও সংগীতশিল্পী পিয়ালী রায়ের সঙ্গতে ‘মুক্তধারা’-র ৬০তম আলোচনাসত্রে উদ্বোধন-সংগীত পরিবেশন করে তিতাস। মুক্তধারার এদিনের অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন দীপাঞ্জন দে।

