উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে শুরু হল ‘অনুসন্ধান’ আয়োজিত আগামী বর্ষের মাধ্যমিক প্রস্তুতির মাসিক-পরীক্ষাপর্ব
বিশেষ প্রতিনিধি : আগামী বছরের (২০২৭) মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের যথাযথ প্রস্তুতির দিকে তাকিয়ে এক অভিনব উদ্যোগ নিল শিক্ষা সংগঠন ‘অনুসন্ধান সোসাইটি’। গত কয়েক বছর ধরে অনুসন্ধান-এর এই কর্মসূচিতে লাভবান হয়েছে সমস্ত ধরণের ছাত্র-ছাত্রী। রবিবার বাইশে ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সূচনা হল টার্গেট মাধ্যমিক ২০২৭-এর এই বিশেষ মাসিক পরীক্ষাপর্ব। এদিন পরীক্ষাপর্বের পূর্বে আলোচনা হয় সারা বছর ধরে ব্যক্তিগত স্তরে কিভাবে নিজেকে ধীরে ধীরে উন্নীত করতে হয়, তার বিশেষ পদ্ধতির কথা। এ’ বিষয় নিয়ে বিশদে আলোচনা করেন বিশিষ্ট শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরখেল, অর্পণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভজিৎ মাইতি, পান্থ মল্লিক প্রমূখ।
তাঁরা বলেন, প্রস্তুতির এই নতুন রূপরেখা পরীক্ষার্থীদের শেষ মুহূর্তের চাপ কমাতে এবং প্রতিটি বিষয়ে দখল বাড়াতে এই ধারাবাহিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেবল পাঠ্যবই শেষ করাই নয়, বরং কনসেপ্ট ক্লিয়ার করে, বিটুইন দা লাইনস পড়ে বিভিন্ন ধরনের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের অনুশীলন ও অভ্যাস তৈরি করাই এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য।

ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই পরীক্ষা পর্বে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করে MCQ প্রশ্নপত্র তৈরি হবে।
ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ মাস ধরে প্রতিমাসের শেষ রবিবার অনলাইন গুগল ফর্মে অনুষ্ঠিত হবে এই পরীক্ষাপর্ব।
প্রতিমাসে পরীক্ষার পর মূল্যায়নের ভিত্তিতে কমপক্ষে নব্বই শতাংশ প্রাপ্ত সেরা ছাত্রকে পুরস্কৃত করা হবে বলে এদিন অনুসন্ধান সোসাইটির পক্ষ থেকে জানান শুভজিৎ মাইতি। তিনি আরো বলেন প্রতি মাসেই প্রয়োজন মতো পরীক্ষার পর বিভিন্ন বিষয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকারা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে অনলাইনে আলোচনায় বসেন। এছাড়াও মনস্তাত্ত্বিকভাবে তাদেরকে সাহস যোগানো হয়।
এদিন পরীক্ষা শেষে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। এক পরীক্ষার্থীর কথায়, “স্কুলে পড়াশুনার সঙ্গে সংগতি রেখেই এই পরীক্ষার সিলেবাস তৈরি হয়েছে। সত্যিই এই ধরণের মাসিক পরীক্ষা আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারবো, কোন জায়গায় আমরা এগিয়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে কোন জায়গায় আমরা পিছিয়ে আছি।
অভিভাবক মহলেও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনুসন্ধান সোসাইটির এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। তাঁদের মতে, বাড়িতে পড়াশোনা পরীক্ষা ইত্যাদির সঙ্গে রাজ্যব্যাপী বিভিন্ন ধরনের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে পরীক্ষা ও পরবর্তীতে আলাপচারিতায় বসার অভিজ্ঞতা ছাত্রছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
অনুসন্ধান সোসাইটির পক্ষ থেকে আরো জানানো হয় এই উদ্যোগ কেবলমাত্র এগিয়ে থাকা ছাত্র ছাত্রীদের জন্যই নয় বরং কোনো কারণে যারা পিছিয়ে পড়েছে তাদের জন্যও। বিশেষ ‘ডাউট ক্লিয়ারিং ক্লাসের’ ব্যবস্থা করা হবে তাদের জন্য।
সব মিলিয়ে, আগামী বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা যাতে সকলের কাছে আনন্দের সাথে সাফল্যময় হয়ে ওঠে, সে ব্যাপারে অনুসন্ধান সোসাইটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক শিক্ষিকারা অত্যন্ত সজাগ ও সচেতন।

