তামান্নার ইনসাফ গুমড়ে কাঁদছে! নীরব মমতা! আত্মহত্যার চেষ্টা মায়ের
বাংলার জনরব ডেস্ক : কালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থীর বিপুল ভোটে জয়লাভের পর জয়ের আনন্দে বোমা ফাটাতে গিয়ে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী তমান্না খাতুনের দেহচ্ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। সেই ঘটনায় মমতা প্রশাসন এখনো নীরব দর্শক দিল্লির প্রতি নাটকীয় রাজনীতি করার পাশাপাশি মমতা প্রশাসন দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের বিষয়ে এখনো কিছু করতে পারেননি। তামান্নার হত্যাকারীরা এখনো বেশ কয়েকজন ঘুরে বেড়াচ্ছে। এবং তারা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে চলেছে তামান্নার পরিবারকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে মুসলিম সমাজের মশিহা বলে দাবি করে থাকেন কিন্তু তিনি যে অপদার্থ তার পরিচয় দিচ্ছেন তামান্নার ক্ষেত্রে তা এক কথায় বাঞ্ছনীয় নয়।
তৃণমূলের পোষা দুষ্কৃতীরা এখনো তামান্নার পরিবারকে হুমকি দিয়ে চলেছে আর সেই হুমকি সহ্য করতে না পেরে মৃত মেয়ের প্রতি যে নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছে, ওই দুষ্কৃতীরা তাদের প্রতি বিতৃষ্ণা না থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তামান্নার মা সাবিনা বিবি।। পরিবারের দাবি, তাদের লাগাতার হুমকি দিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। পরিবারের সকলেই আতঙ্কিত। সন্তান হারানোর যন্ত্রণার সঙ্গে সেই হুমকি এবং আতঙ্ক নিতে পারেননি সাবিনা। তাই চূড়ান্ত পদক্ষেপ করেছেন। আপাতত তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল।

মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে অচৈতন্য অবস্থায় সাবিনাকে উদ্ধার করা হয়। গভীর রাতে নিয়ে যাওয়া হয় পলাশির প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পরে সেখান থেকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয়। পরিবার সূত্রে দাবি, একসঙ্গে অনেকগুলি ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিলেন তামন্নার মা। নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। এখনও তামন্নার খুনের অনেক অভিযুক্ত অধরা বলে দাবি করেছেন সাবিনার পরিবারের সদস্যেরা। অভিযোগ, ওই দুষ্কৃতীরাই হুমকি দেয়। তাই প্রতিনিয়ত তাঁদের প্রাণের আশঙ্কায় দিন কাটাতে হচ্ছে।
তামন্নার বাবা হুসেন শেখ জানিয়েছেন, এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি সাবিনা। একা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বিচারের আশায়। হুসেনের কথায়, ‘‘চোখের সামনে মেয়ের মৃত্যুর দৃশ্য ও ভুলতে পারেনি এখনও। বোমার আঘাতে মেয়ের ছিন্নভিন্ন দেহের ছবি এখনও ওর চোখে ভাসে। এই মানসিক অবস্থাতেও আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। বেশ কিছু আসামি এখনও অধরা। আমাদের পরিবারকে তারা নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। তামন্নার মা তাই এখন আমার জীবন নিয়ে আতঙ্কিত। তাই রাতে অনেক ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিল। এখন চিকিৎসা চলছে।’’
অভিযোগ, তামন্নার বাবাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সন্তানের পর স্বামীকেও হারাতে হতে পারে, এই আতঙ্ক গ্রাস করেছিল সাবিনাকে। মানসিক চাপ তিনি আর সহ্য করতে পারছিলেন না। তাই ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শক্তিনগর জেলা হাসপাতাল সূত্রে খবর, ঘুমের ওষুধের পাশাপাশি অবসাদের ওষুধ খেতেন সাবিনা। মঙ্গলবার রাতে সেই ওষুধও অনেক খেয়ে ফেলেছিলেন। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে আপাতত তিনি বিপণ্মুক্ত এবং স্থিতিশীল।
গত ১৯ জুন কালীগঞ্জে বিধানসভার উপনির্বাচন ছিল। ২৩ জুন ছিল ভোটের ফলঘোষণা। গণনা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই কালীগঞ্জে তৃণমূলের প্রার্থীর জয় একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। সে দিন সময়ের আগেই বেরিয়েছিল শাসকদলের বিজয়মিছিল। অভিযোগ, সেখান থেকে স্থানীয় সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। তার আঘাতে মৃত্যু হয় ১০ বছরের তামন্নার। তাদের পরিবার এলাকার পরিচিত সিপিএম সমর্থক।
এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত-সহ তমন্নার খুনে অভিযুক্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও অনেকে এখনও জেলের বাইরে। অভিযোগ, তাঁরাই তামন্নার পরিবারকে লাগাতার হুমকি দিচ্ছেন। যে কারণে সাবিনা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

