নীতিশ কুমারের মুসলিম মহিলা ডাক্তারের হিজাব খোলার ঘটনায় প্রতিবাদ সভা বোলপুরে
বোলপুর প্রতিনিধি : বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার এক মুসলিম মহিলা আয়ুষ ডাক্তারের নেকাব (হিজাব) জোর করে টেনে খুলে দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই ঘটনাকে উগ্র হিন্দুত্ববাদের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখছে বোলপুর মুসলিম ইউনিটি। গত কাল ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৩:৩০ মিনিটে বোলপুর চৌরাস্তায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
মুসলিম ইউনিটির পক্ষ থেকে শেখ সোহরাব সুলতান বলেন, “নীতিশ কুমার উইমেন এমপাওয়ারমেন্টের নাম করে সরকারে এসেছেন, কিন্তু তাঁর এই কাজ দেখে মনে হয় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। অনেকে বলছেন তিনি বিকারগ্রস্ত—আমি জানি না তিনি বিকারগ্রস্ত কি না, তবে তিনি যে ধরনের উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের সঙ্গে চলাফেরা করছেন, তাতে তাঁর এমন আচরণ অস্বাভাবিক নয়। রাজস্থানে মহিলারা বড় ঘোমটা দেন—এটা শালীনতা, সম্ভ্রম ও সভ্য সমাজের নিদর্শন। কিন্তু নীতিশ কুমার যা করেছেন, তা ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষের এক জ্বলন্ত নমুনা।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দেশে মুসলমানদের উপর চলমান অত্যাচার ও উগ্র হিন্দুত্ববাদের সহযোগীদের দ্বারা সংঘটিত অত্যাচারের একটি স্পষ্ট নমুনা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৫ ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট অনুসারে, ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ‘বুলডোজার জাস্টিস’ নামে ধ্বংস করা হচ্ছে, যা প্রায়শই সম্মিলিত শাস্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মব ভায়োলেন্স, লিঞ্চিং এবং হেট স্পিচের ঘটনা বেড়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই বৈষম্যমূলক নীতি ও সহিংসতাকে নিন্দা করেছে। এটা মুসলমানদের জন্য একটি গুরুতর হুমকি স্বরূপ, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের উপর আঘাত। সারা ভারতে মুসলিম হওয়ার কারণে যেভাবে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা অত্যাচার চালাচ্ছে, তারই প্রতিফলন এই ঘটনা। একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যদি এমন হীন, নির্লজ্জ কাজ করেন, তাহলে বিচার কোথায় পাব? এটা তাঁর নীচু রুচির পরিচয় বহন করে। আমরা তাঁর উপযুক্ত শাস্তি ও প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
শেখ সোহরাব জোর দিয়ে বলেন, “এই প্রতিবাদ শুধু মুসলিম নারীর জন্য নয়, এটা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নারীজাতির সম্ভ্রম ও অধিকার রক্ষার প্রতিবাদ। একজন সম্মানিত ডাক্তারের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
সভায় উপস্থিত অন্যান্যরা এই ঘটনাকে ‘মহিলা অধিকারের উপর আঘাত’ ও ‘সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা করেন। তারা দাবি জানান, নীতিশ কুমারকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে এবং এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ ডিসেম্বর পটনায় এক সরকারি অনুষ্ঠানে নিয়োগপত্র বিতরণের সময় নীতিশ কুমার এক মুসলিম মহিলা আয়ুষ ডাক্তার নুসরত পরভীনের নেকাব টেনে খুলে দেন, যা ভিডিওতে ধরা পড়েছে এবং সারা দেশে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। বিরোধী দলগুলো এর তীব্র নিন্দা করেছে এবং নীতিশ কুমারের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

