কলকাতা 

যুবভারতী কান্ডে রাজ্যের গড়া তদন্ত কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা

শেয়ার করুন

যুবভারতীকাণ্ডের তদন্তের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে কমিটি গঠন করে দিয়েছে, তাকে চ্যালেঞ্জ করে সোমবার জোড়়া জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাই কোর্টে। মামলাকারীদের বক্তব্য, রাজ্যের গড়া কমিটির তদন্ত করার ক্ষমতাই নেই। সঠিক তদন্তের জন্য পৃথক কমিটি প্রয়োজন। চলতি সপ্তাহেই এই মামলা দু’টির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

যুবভারতীর ঘটনার তদন্তের জন্য মমতা যে কমিটি গড়েছেন, তার মাথায় রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়। এ ছাড়াও, কমিটিতে আছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীরা। এই কমিটির ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি পৃথক ভাবে আকর্ষণ করেছেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ও।

Advertisement

পরে আরও একটি মামলা হয়েছে আদালতে। মামলাকারীর নাম মৈনাক ঘোষাল। আদালতের নজরদারিতে তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে দর্শকদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার উচিত বলেও জানিয়েছেন। আর্থিক তছরুপের কথা উল্লেখ করে ইডি ও সিবিআইয়ের তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন মামলাকারী। দাবি, স্টেডিয়ামের ক্ষয়ক্ষতির অর্থও প্রদান করতে হবে আয়োজক সংস্থাকে।

গত শনিবার যুবভারতীতে এসেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার লিয়োনেল মেসি। তাঁকে দেখতে হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সল্টলেক স্টেডিয়ামে যান ভক্তেরা। কিন্তু মেসি মাত্র ১৬ মিনিট মাঠে ছিলেন। চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার কারণে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। অভিযোগ, এক মুহূর্তের জন্যেও মেসিকে দেখা যায়নি গ্যালারি থেকে। এর পরেই ক্রোধে উন্মত্ত জনতা তাণ্ডব চালায় স্টেডিয়াম জুড়ে। মাঠে ছোড়া হয় বোতল, ভাঙা চেয়ার। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। পরে তিনি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন মেসি এবং দর্শকদের কাছে।

মমতার গড়া তদন্ত কমিটির সদস্যেরা রবিবার সকালে যুবভারতীতে গিয়েছিলেন। সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তাঁরা। গ্যালারি এবং মাঠের বেশ কিছু অংশ পর্যবেক্ষণ করেছেন, তার ভিডিয়োগ্রাফিও করা হয়েছে। এর পর স্টেডিয়ামে দীর্ঘ ক্ষণ বৈঠকও করেছেন কমিটির সদস্যেরা। বেরিয়ে প্রাক্তন বিচারপতি রায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। কিন্তু তদন্তের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ