জেলা 

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের স্টেট অর্গানাইজার মিট ও রাজ্য ওয়াকফ কনভেনশন

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা থানার ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমিতে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলো অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড-এর স্টেট অর্গানাইজার মিট ও রাজ্য ওয়াকফ কনভেনশন । বোর্ডের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ও রাজ্য কনভেনার মাওলানা আবু তালিব রহমানী সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গণ সংগঠনের নেতৃত্ব ও সমাজকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মুসলিম সমাজের চলমান নানা সামাজিক ও আইনি ইস্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। ধর্মীয় অধিকার ও ওয়াকফ সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। সভার আহ্বায়ক ও বোর্ডের সদস্য মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন মোদি সরকারের কালা কানুন ওয়াকফ সংশোধনী আইন দেশের মুসলিম সম্প্রদায় মেনে না নিলেও দেশের সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী উমিদ পোর্টালে ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য আপলোড করতে হবে। প্রথমে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এই তথ্য আপলোডের বিরোধিতা করলেও সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী এখন আপলোড করার ঘোষণা দিয়েছেন সেজন্য আমরা রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড ও রাজ্যবাসীর কাছে অনুরোধ করবো রাজ্যের সমস্ত ওয়াকাফ সম্পত্তির তথ্য আপলোড করার জন্য।

Advertisement

 

সভায় বিভিন্ন বক্তারা অভিযোগ করেন ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন কবরস্থান ও মসজিদ মাদ্রাসার সম্পত্তির নিজস্ব খতিয়ান থেকে পরিবর্তন হয়ে সরকারি এক নম্বর খতিয়ান হয়ে যাচ্ছে এগুলো কিভাবে হচ্ছে অবিলম্বে ওয়াকফ বোর্ড সরকারের কাছে জানুক। মসজিদ মাদ্রাসার সম্পত্তি এভাবে এক নম্বর খতিয়ান হয়ে যাওয়া যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়। সভার সভাপতি মাওলানা আবু তালেব রহমানী বলেন কেন্দ্রীয় সরকার তো ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পোর্টালে তথ্য আপলোড করার সময় দিয়েছে তার আগে কিভাবে মসজিদ মাদ্রাসার সম্পত্তি এক নম্বর খতিয়ান হয়ে যাচ্ছে এটা আমরা সরকারের কাছে জানতে চাইবো। এবং বোর্ডের পক্ষ থেকে সুপ্রিমকোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে এত অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশের এত তথ্য আপলোড করা সম্ভব নয়, তাই উমিদ পোর্টালে তথ্য আপলোডের জন্য অন্তত এক বছর সময় দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

সভায় বক্তারা এসআইআর নিয়ে মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান। মোঃ কামরুজ্জামান এক সাক্ষাতে বলেন রাজ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশের উপর মুসলমানের ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম আছে। কিছু ক্ষেত্রে হয়তো নামের বানান বিভ্রাট আছে আমরা আশা করছি এস আই আর এ এ নিয়ে উদ্বেগের কোন কারণ নেই। ‌সচেতন থেকে বিএলওদের সঙ্গে সহযোগিতা করে সমস্ত কাজটা আমাদের করতে হবে। এ নিয়ে যে সমস্ত বিজেপি নেতারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিষেধাগার করছেন তা সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক মনোভাব বলে ক্ষোভ উগরে দেন মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

সভায় জানানো হয় খুব শীঘ্রই রাজ্যের সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য উমিদ পোর্টালে আপলোড করার সচেতনতা বাড়ানো হবে। না হলে এই সম্পত্তি এক নম্বর খতিয়ান অর্থাৎ সরকারি সম্পত্তি হয়ে গেলে তখন আর কিছু করার থাকবে না। এ বিষয়ে সমস্ত রকম সচেতনতা বাড়ানো হবে। সরকার ও ওয়াকফ বোর্ড এ নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে এবং আমরাও দায়িত্ব পালন করবো সকলে একসঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করতে হবে।

সবাই অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য হাজী মাহমুদ আলম, ফুরফুরা শরীফ জমিয়ত উলামায়ে বাংলার সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন , অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামাতের মুফতি আব্দুল মাতিন, জামিয়াতুল আইম্মা অল উলামার মুফতি ইমদাদুল্লাহ, জমিয়তে আহলে হাদিসের আলমগীর সরদার, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির সমাজকর্মী মুহাম্মদ নুরুদ্দিন, ঐকতানের মাওঃ আমিনুল আম্বিয়া, সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সভাপতি মাওঃ আনোয়ার হোসেন কাসেমী, মুতাওল্লি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব ইরফান শের, রাজ্য ওয়াকাফ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ওমর ওয়াইস, অল বেঙ্গল ইমাম-মুয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশনের হাফেজ আজিজুদ্দিন, ইমাম সংগঠনের নেতা হাফেজ আব্দুল্লাহ, সমাজকর্মী সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস সহ বিশিষ্টজনেরা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ