মোদি সরকারের সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে ধর্না দিতে গিয়ে গ্রেফতার নওশাদ সহ একাধিক সংখ্যালঘু নেতা! মমতার রাজত্বে কেন গ্রেফতার?
বাংলার জনরব ডেস্ক : ওয়াকফ সংশোধিত আইনের বিরুদ্ধে ধর্মতলায় অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে, নওশাদ সিদ্দিকী সহ এই রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজের নেতারা। এরপরই সংখ্যালঘু সমাজের এই সকল নেতাদের গ্রেফতার করে লালবাজার। বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী অভিযোগ করেছেন তাকে পুলিশ মারধর করেছে যদিও পুলিশ এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এ রাজ্যের সংখ্যালঘুদের দাতা বলে নিজেকে দাবি করে থাকেন সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কেন ওয়াকাফ আইনের বিরোধিতা করার জন্য গ্রেফতার করা হবে নওশাদসহ মুসলিম নেতাদের।
যদিও পুলিশ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় নাকি নওশাদ সিদ্দিকীর লোকেরা গুন্ডামি করেছে।ঘটনাস্থলে কলকাতা পুলিশের ডিসি সেন্ট্রালের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। আইএসএফের বিক্ষোভে কার্যত স্তব্ধ যান চলাচল। চরম সমস্যার মুখে সাধারণ মানুষ। যে কোনও সময় বাংলায় চালু হতে পারে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী অর্থাৎ এসআইআর। আর এহেন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিতে আজ বুধবার বিক্ষোভের ডাক দেন নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফ সহ একাধিক মুসলিম সংগঠন। পুলিশের অভিযোগ এজন্য কলকাতা পুলিশের কাছে কোনও আগাম অনুমতি চাওয়া হয়নি। হঠাৎ করেই ধর্মতলা মেট্রো চ্যানেলে আইএসএফ কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন এবং ধর্না মঞ্চ তৈরির চেষ্টা করা হয়। তাতে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তিতে বেঁধে যায় আইএসএফ কর্মীদের।

একেবারে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয় ধর্মতলা এলাকায়। এর মধ্যেই রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন নওশাদ সিদ্দিকি। জানা গিয়েছে, পুলিশ তাঁকেও আটক করেছে। নওসাদের অভিযোগ, পুলিশ সজোরে তাঁর পেটে নাকি ঘুষি মেরেছে। যদিও পুলিশের তরফে সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে।
শুধু নওশাদ সিদ্দিকী নয় একইসঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাওলনা কামরুজ্জামানসহ একাধিক সংখ্যালঘু নেতা। কেন এই গ্রেফতার কোন অপরাধে এই গ্রেফতার তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন এই রাজ্যে ওয়াকাফ নিয়ে কোন আন্দোলন করা যাবে না এটাই কি মুসলিম নেতাদের অপরাধ নাকি এর পেছনে অন্য কোন কারণ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কলকাতা সফরের আগে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নরেন্দ্র মোদিকে চটাতে চাইছেন না। আসলে কি করতে চাইছেন সেটা পরিষ্কার নয়! কলকাতা পুলিশ এমনিতেই সাধারণ মানুষের স্বার্থে কতটুকু কাজ করে তা নিয়ে ভাবতে হবে কিন্তু তারা এই সকল অবস্থান ও আন্দোলন রুখতে বলিয়ান হয়ে উঠেছে বলে সংখ্যালঘু সমাজের অভিযোগ। এখন দেখার বিষয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়টিকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন।

