দেশ 

ভূপেন্দ্র সিং হুডার সঙ্গে বিজেপির গোপন সমঝোতায় হরিয়ানায় কংগ্রেসের পরাজয়?

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম: জনমত কংগ্রেসের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্ট্যাটেজি ঠিক করতে না পারার কারণেই হেরে গেল বলে রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের একাংশের মত। অন্যদিকে মনে করা হচ্ছে হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা ভূপেন্দ্র সিং হুডার সঙ্গে বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গোপন সমঝোতো থাকলেও থাকতে পারে। আমরা এর আগে দেখেছি মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে সব রকম কংগ্রেসের পক্ষে অনুকূল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র কমলনাথের এক গোয়ামি রাজনীতি শেষ পর্যন্ত জেতা ম্যাচকেও হেরে যেতে হলো মধ্যপ্রদেশে।

রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের একাংশের মত হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে আর.এস এস এর গোপন যোগাযোগ রয়েছে। হরিয়ানায় যেহেতু কংগ্রেস দলের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি সংঘাত সুতরাং এই এলাকায় কংগ্রেস বিজয়ী হলে আরএসএসের গুরুত্ব যে অনেকটাই কমে যাবে সেটাই এই নির্বাচনে আরএসএস কর্মীদের কাছে ইসু হয়ে ওঠে। আসলে আরএসএস গুজরাটের পর হরিয়ানাকে তাদের হিন্দুতে পরীক্ষাগার হিসাবে কাজে লাগাতে চাইছে। আর সেই কাজকে সফল করার জন্য কংগ্রেসের নেতাদের একাংশকে তাদের অনুকূলে আনতে পেরেছে। তা না হলে কংগ্রেস এর সঙ্গে আম আদমি পার্টির হরিয়ানা বিধানসভার নির্বাচনে সমঝোতা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রাহুল গান্ধীর নির্দেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল যে কোন মূল্যেই হোক আম আদমি পার্টির সঙ্গে কংগ্রেসকে সমঝোতা করতে হবে। কিন্তু হরিয়ানার কংগ্রেস নেতা ভূপেন্দ্র সিং হুডা এই সমঝোতার বিপক্ষে ছিলেন। অথচ এই সমঝোতার পক্ষে ছিলেন সাংসদ কুমারী শৈলজা। তা সত্ত্বেও শুধুমাত্র কংগ্রেসের একটি প্রবীণ নেতার চাপে আম আদমি পার্টির সঙ্গে সমঝোতা হলো না।

Advertisement

ভোটের ফলাফল বলছে যদি আম আদমি পার্টির সঙ্গে কংগ্রেসের সমঝোতা হত তাহলে কংগ্রেস দল কমপক্ষে 50 টির বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে যেত। কারন আম আদমি পার্টি একটি আসন না পেলেও তারা ভোট পেয়েছে দেড় শতাংশের বেশি। অন্যদিকে কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির ভোট শতাংশ প্রায় সমান সমান। এই অবস্থায় আম আদমিদের সঙ্গে জোট হলে স্বাভাবিকভাবে ওই ভোটের সিংহভাগ অংশ কংগ্রেসে চলে আসতো তাহলে কংগ্রেসের জয়যাত্রা খুব সহজ হয়ে যেত। আমরা জানি গত লোকসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির সঙ্গে জোট করে হরিয়ানা লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করেছিল কংগ্রেস দল। আর এই জোটের ফলেই কংগ্রেস দল পাঁচটি আসন পেয়েছিল যেটা এক কথায় ইতিহাস বলা যেতে পারে। অন্যদিকে কংগ্রেস চাইলে অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোটে যেতে পারত তাকে দু একটি আসন ছেড়ে দিয়ে অখিলেশকে দিয়ে প্রচার করাতে পারতো। তা কিন্তু কংগ্রেস করেনি। উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনের সময় অখিলেশের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর যে যুগলবন্দী হয়েছিল সেই যুগলবন্দী যদি রক্ষা করা যেত তাহলে হরিয়ানাতেও তার সুফল যে মিলতো তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

সব মিলিয়ে কংগ্রেসের দলের মধ্যে বিজেপির এজেন্টদের জন্যই হরিয়ানা হারাতে হলো রাহুল গান্ধীর দলকে। তবে এখানে রাহুল গান্ধীকে অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান নিতে হতো। কারণ রাহুল গান্ধীর মনে রাখা উচিত ছিল হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জয় শুধুমাত্র তাদের নিজেদের জয় নয়। এদেশের ধর্মনিরপেক্ষ এবং সংবিধান বাঁচানোর লড়াই যে তিনি শুরু করেছেন তার জয় হতো। সবমিলিয়ে কংগ্রেস নিজের অপদার্থতার কারণে হরিয়ানার জনতার সমর্থন থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক কৌশলের কাছে হার মানতে হলো রাহুলের দলকে। সব রকম প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি এবং কৌশল যথাযথভাবে প্রয়োগ করে বিজেপি এককভাবে হরিয়ানায় ক্ষমতায় চলে এলো।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ