আন্তর্জাতিক 

সংঘর্ষের দশম দিনে ইসরাইলের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে হিজবুল্লাহ সহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মুসলিম দেশ!

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম: ফিলিস্তিন এবং ইসরাইল সংঘর্ষ সময়ের বিচারে দশ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেল। আন্তর্জাতিক মহলের একটা অংশ ভেবেছিল যে, মাত্র তিন চার দিনের মধ্যেই গাজাকে কব্জায় নিয়ে চলে আসবে ইসরাইল। তা কিন্তু সম্ভব হলো না। বরং দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে ততই মনে হচ্ছে এই যুদ্ধ বা সংঘর্ষ দীর্ঘস্থায়ী হবে। অনেকটা চাপের মুখে পড়েছে ইসরাইল।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যে হুমকি দিচ্ছেন তা যে বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না এটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। চরমপন্থী সংগঠন হামাসকে খতম করার যে আহ্বান আমেরিকা ফ্রান্স ব্রিটেন এবং ইসরাইল একযোগে করেছিল তা কিন্তু এখনো পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যে খবর সামনে আসছে তা থেকে স্পষ্ট জানা যাচ্ছে, হামাসের দখলকৃত এলাকাগুলিকেও মুক্ত করতে এখনো পর্যন্ত পারেনি ইসরাইল। এমনকি ইসরাইলি যেসব নাগরিককে হামাস পনবন্দী করেছিল তাদেরকেও মুক্ত করতে পারেনি আমেরিকা কিংবা ইসরাইল।

Advertisement

সব মিলিয়ে মনে করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা হচ্ছে তাতে আর যাই হোক অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে গেছে ইসরাইল। এমনকি ইসরাইলের লেবানন সীমান্তকে বন্ধ করে দিতে হয়েছে। হুদহুদ নামক একটি জায়গা পুরোপুরি নিজেদের কব্জায় রেখেছে লেবাননের চরমপন্থী সংগঠন হিজবুল্লা। এই পরিস্থিতিতে হুদহুদ সীমান্ত থেকে ইসরাইলি বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এমনকি সীমান্তে অবস্থিত সিসিটিভিটিও দখলে রেখেছে লেবাননের হিজবুল্লা বলে জানা যাচ্ছে। এই হিজবুল্লার কাছে এমন কিছু যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র আছে যা দিয়ে কয়েক বছর তারা যুদ্ধ চালাতে পারবে। আর এসবই অস্ত্রশস্ত্র আধুনিক মানের ইরান চীন রাশিয়ার তৈরি অস্ত্র। সুতরাং পরিস্থিতি যে ঘোরালো হবে সে বিষয়ে সকলকেই একমত হতে হবে।

অন্যদিকে ইরান ফের বলেছে গাজার উপর বোমাবর্ষণ বন্ধ না হলে তারা সরাসরি যুদ্ধে নামবে। এবং শুধু তারা নয় সমগ্র মুসলিম বিশ্বও নাকি ইসরাইলের দিকে বন্দুক তাক করে রেখেছে বলে ইরানের বিদেশ মন্ত্রী দাবি করেছেন। অন্যদিকে ইসরাইল যেভাবে হুংকার দিচ্ছিল তারা অনেকটাই ব্যাক ফুটে চলে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে এজন্যই তারা এখন হামাস সহ ফিলিস্তিনি মানুষদের কাছে আবেদন করেছে আল্লাহর ওয়াস্তে যুদ্ধ বন্ধ করার।

উল্টোদিকে হামাস যেভাবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তাতে যে সহজে এই সংঘর্ষ থামবে না এটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দুদিন আগে ইসরাইল যেভাবে ফিলিস্তিনি জনতাকে আহবান করে বলেছিল যে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গাজার উত্তরভাগ থেকে সমস্ত ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র সরে যাক না গেলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। ইসরাইল ঘনিষ্ঠ সংবাদ মাধ্যম এই খবরের সত্যতা নিয়ে নানা মন্তব্য করলেও বাস্তব কথাগুলো কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ ছাড়া বাকি কোন মানুষই এখনো পর্যন্ত গাজা সীমান্ত থেকে অন্যত্র চলে যায়নি।

এদিকে ইসরাইল ঘনিষ্ঠ সংবাদ মাধ্যম দাবি করেছিল গাজার মধ্যে যে সুরঙ্গ তৈরি করেছে হামাস তার অধিকাংশকেই ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিন্তু এই দাবির সত্যতা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ হামাস জানিয়ে দিয়েছে কোন সুরঙ্গকেই ভাঙতে পারেনি ইসরাইল। বরং সাহস থাকলে ইসরাইলের সেনারা গাজার অভ্যন্তরে ঢুকে নিজেদের সামরিক শক্তির পরিচয় দিক। এদিকে ইসরাইল যাতে এই বোকামো করতে না পারে তার জন্য ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্পষ্ট করে ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেছে কোনভাবেই স্থলপথে গাজায় ইসরাইল সেনা যাতে প্রবেশ না করে সে বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে হবে। কারন বিভিন্ন সূত্র মাধ্যম যে খবর পাওয়া যাচ্ছে গাজার মধ্যে যে সুরঙ্গ হামাস তৈরি করেছে তার রীতিমতো একটা অন্য দেশে পরিণত হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর মাটির অভ্যন্তরে হামাস তৈরি করেছে সুন্দর একটা শহর। আর এই শহরের ভিতরে বসেই হামাস সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। আর এই শহরটা এমনই একটা গোলক ধাঁধা মতো তৈরি করা হয়েছে যেখানে ভালোভাবে এর ম্যাপ যদি না জানে কোন ব্যক্তি কোন সেনাবাহিনী কোন গোয়েন্দা দফতর সুষ্ঠুভাবে ফিরে আসতে পারবে না।

সব মিলিয়ে ইসরাইল ফিলিস্তিন সংঘর্ষের ১০ দিনে এটা স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে আমেরিকা, ফ্রান্স ব্রিটেন এবং ইসরাইলের সামরিক শক্তি নিয়ে আর গর্বের কিছু নেই। এই সংঘর্ষ আরও দীর্ঘায়িত হলে ইসরাইলের যে ক্ষতি হয়ে যাবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কারণ ফিলিস্তিন জাতিটার শৃঙ্খলা ছাড়া হারাবার তাদের কিছু নেই। তাই শৃঙ্খলা মুক্তির ডাক ফিলিস্তিন দিয়েছে সুতরাং তারা এই ডাককে কার্যকরী করার জন্য আত্মত্যাগ করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ইসরাইলরা আত্মত্যাগ করতে প্রস্তুত নয়। ফলে শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধের ফলাফল কি হয় সেটাই এখন দেখার।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ