অন্যান্য কলকাতা 

মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি : আপনিই আনিস খানের হত্যা রহস্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা না করে যদি প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারেন, তাহলে রাজ্যের দশ কোটি জনতা আপনাকে মাথায় তুলে রাখবে! পারবেন তো ?/ ইফতেকার হোসেন

শেয়ার করুন

ইফতেকার হোসেন : গভীর রাতে ছাদ থেকে পায়ের কাছে ছেলের লাশ পড়ার পরে আনিস খানের বাবার আর্তনাদ হয়তো গ্রামের চৌহদ্দি পেরোত না, যদি না আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র_ছাত্রীরা পথে নামত। আনিসের মৃত্যুর পরে আমতা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতে গড়িমসি করেছে … তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তাহলে আপনিই বলে দিন, “এর পরে এধরনের ঘটনা ঘটলে শোকার্ত পরিবারটি কোথায় এবং কার কাছে যাবে”?

ঘটনার পরে পরেই আপনার দলের সংখ্যালঘু মন্ত্রীরা আন্দোলননের সারবত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, পুলিশ কে ক্লিন চিট দিয়েছেন …. কিন্তু পথের আন্দোলনই আনিস হত্যাকান্ডে পুলিশ কে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সিভিক, এ এস আই থেকে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত থানার ওসি পর্যন্ত পৌঁছেছে। এরপর হয়তো এস পি, ডি জি …….. জানি না কতদূর পৌঁছতে পারবে।

Advertisement

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, “আনিস হত্যাকান্ড শুধুমাত্র পুলিশের একার কাজ নয়”। কারন এর সাথে রাজনীতি জড়িত আছে, দূর্নীতিগ্রস্হ রাজনৈতিক নেতা_নেত্রী_কর্মীদের বিরুদ্ধে আনিস রাজপথে গণ আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছিল। প্রশাসনিক দপ্তরের সামনে সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল, সমাজ সেবামূলক কাজের মাধ্যমে জনগণ কে ঐক্যবদ্ধ করে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চেয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাজপথে সরব ছিল। অতএব শাসক তার পথের কাঁটা উপড়ে ফেলতে শাসন যন্ত্র কে হাতিয়ার করে একটি তরতাজা যুবক কে সরিয়ে দিয়েছে। এইটুকু বোঝার মতো বিদ্যা_বুদ্ধি বাঙালির আছে বলেই মনে হয়। তাই তারা রাস্তায় নেমেছে …. আনিস হত্যাকান্ডের নেপথ্যে রাঘব_বোয়ালদের মুখোশ উন্মোচন হউক।

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, আপনিই রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের প্রধান মুখ আবার শাসক দলের সর্বাধিনায়িকা …. আপনিই যদি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা না করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারেন, তাহলে রাজ্যের দশ কোটি জনগণ আপনার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে পারবে। দল_মত ও রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একটি বারের জন্য প্রকৃত শাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দেখান….. বাংলার মানুষ যে আশা ভরসা নিয়ে আপনাকে তৃতীয় বারের জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে তার প্রতি সুবিচার করুন। তাহলে হয়তো কেন্দ্র সরকারের তোতা পাখি “সিবিআই” তদন্তের দাবি জোরালো নাও হতে পারে। মানুষ রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে, “দেওয়াল লিখন” স্পষ্ট, শুধু আপনি ও আপনার স্তাবকদের চোখে তা পড়ছে না।

বি: দ্র: সমস্যা শুধু আনিস বা আমতা থানার নয়, বাংলার প্রতিটি থানায় পুলিশ ও দালাল (শাসক দলের নেতা_নেত্রী) আঁতাত ক্যান্সারের রূপ ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষ, প্রতিবাদী চরিত্র, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী থেকে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে কোনঠাসা মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। কিছুটা রাজনৈতিক স্বার্থ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থ উপার্জনের জন্য রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা তলানিতে ঠেকেছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ