জেলা 

তোলাবাজির অভিযোগে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তাল খড়দহ

শেয়ার করুন

তোলাবাজি ও দলের ‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়ে প্রশ্ন। সেই ঘিরে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা, পরে সংঘর্ষ। অভিযোগ, ছোড়া হয় বোমা। জখম হন চার বিজেপি কর্মী। তাঁদের বন্দিপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও ফের দু’পক্ষের মারপিট ও বোমাবাজির অভিযোগ। পরপর ঘটনায় উত্তপ্ত খড়দহের পাতুলিয়া ও বন্দিপুর। পুলিশ পৌঁছতেই তাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে রহড়া থানার পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে বন্দিপুরের ঠাকুর কলোনি এলাকায় বিজেপির একটি কর্মসূচিকে ঘিরে। তোলাবাজি এবং দলের ‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়ে সেখানে প্রশ্ন ওঠে। তা নিয়েই প্রথমে বচসা। পরে হাতাহাতি থেকে শুরু হয় সংঘর্ষ। অভিযোগ, তখনই বোমা ছোড়া হয়। জখম কর্মীদের দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় বন্দিপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কিন্তু সেখানেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। জরুরি বিভাগের সামনেই ফের দুই গোষ্ঠীর লোকজন মারপিটে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরেও বোমা ছোড়া হয়। আচমকা ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে।

খবর পেয়ে রহড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কিন্তু পুলিশের সামনেই শুরু হয় বিক্ষোভ। পুলিশের গাড়ি আটকে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও ওঠে। দুই গোষ্ঠীই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে। একপক্ষের দাবি, দলের কয়েকজন নেতা বহিরাগতদের মদত দিয়ে পুরনো কর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছেন। পালটা অভিযোগও রয়েছে অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এর মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় পাতুলিয়ায়। পঞ্চায়েত সদস্য আশিস চক্রবর্তীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সব মিলিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রহড়া থানার পুলিশ। উত্তর শহরতলী জেলা বিজেপির সভাপতি চন্ডীচরণ রায় বলেন, “একটি গন্ডগোলের খবর শুনেছি। পুলিশ তদন্ত করছে। তবে দলের কেউই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে দলীয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ