চাকরি যাওয়ার আতঙ্কে আত্মঘাতী শিক্ষিকা পুরুলিয়ায়!
আর মাত্র এক মাস চাকরি আছে এই আতঙ্কে আত্মহত্যা করলেন পুরুলিয়ার এক শিক্ষিকা। ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলে নাম ছিল ঈপ্সিতার। পুরুলিয়া-২ ব্লকের একটি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা পড়াতেন ওই শিক্ষিকা। তবে এসএসসি দুর্নীতি মামলায় আদালত যে ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে, তাঁদের মধ্যে পুরুলিয়া শহরের ভাটবাঁধ এলাকার বাসিন্দা ঈপ্সিতাও একজন। ২০২৫ সালে এসএলএসটি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় জায়গা করতে পারেননি তিনি। ফলে তাঁর চাকরির মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ৩১ অগস্ট পর্যন্ত।
পরিবারের দাবি, ঈপ্সিতা কাউকে টাকা দিয়ে চাকরি পাননি। তিনি যোগ্য প্রার্থী ছিলেন। সম্প্রতি চাকরি হারানোর আতঙ্ক এবং আশঙ্কা তাঁকে গ্রাস করেছিল। মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। ঘুমের ওষুধ খেতে হত। গত বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বাংলার শিক্ষিকাকে। পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছিল তাঁকে। শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার ফলে মৃত্যু হয়েছে রোগিণীর। ঈপ্সিতার দেহের ময়নাতদন্ত করানোর পাশাপাশি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ।
যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ (জেএসএসএএম) বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই মৃত্যুর দায় এসএসসির। তারা লিখেছে, ‘‘২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের জেরে আমাদের আরও এক সহযোদ্ধা শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এর আগেও একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা চরম মানসিক অবসাদ এবং অনিশ্চয়তার কাছে হার মেনেছেন। সেই বেদনাদায়ক তালিকায় আরও একটি নাম যুক্ত হল— ঈপ্সিতা দাস মহাপাত্র।’’ তারা আরও জানিয়েছে, চাকরির মেয়াদ শেষ হতে আর এক মাস-ও বাকি নেই। এই অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণা ঈশিতাকে ক্রমশ ভেঙে দেয়। চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের পুরুলিয়া কোর কমিটির সদস্য শুভাশিস পান বলেন, ‘‘আমাদের অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাই চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। কারণ ৩১ অগস্ট আমাদের চাকরির সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরেও এখনও পর্যন্ত নতুন সরকার আমাদের জন্য সহানুভূতিশীল হয়ে একটি বাক্যও ব্যয় করেনি। এমনকি, আমাদের যোগ্যদের চাকরি ফেরানোর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা-ও রক্ষা করা হয়নি।’’
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের মামলায় নিয়োগের সময়সীমা বাড়াতে কলকাতা হাই কোর্টে আর্জি জানিয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। গত বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিংহের বেঞ্চে ওই মামলার শুনানি ছিল। তবে কমিশনের আইনজীবী সপ্তাহ দুয়েক সময় চান।

