করিমপুর কান্ডে সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত ৮ হামলাকারী! অবিলম্বে গ্রেফতার না করলে পুলিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার বার্তা মহুয়ার
বাংলার জনরব ডেস্ক : নদিয়ার করিমপুর ২ নম্বর ব্লকে পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সাজেদুল হক শাহ ওরফে মিঠু শাহের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় পুলিশকে হুঁশিয়ারি মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra)। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের সনাক্তকরণের পর এবার নাম উল্লেখ করে থানায় নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার দুটি নথির ছবি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করে নদিয়ার পুলিশ ও প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। তাঁর স্পষ্ট কথা, হামলাকারীদের পরিচয় সামনে আসার পর এবার পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ করতেই হবে, নিষ্ক্রিয় থেকে পার পাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। অন্যথায় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন।
গত ২৪ জুন আনুমানিক দুপুর পৌনে দুটো নাগাদ করিমপুর ২ নম্বর ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (BDO) কার্যালয়ের ভেতরেই পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সাজেদুল হক শাহের ওপর একদল দুষ্কৃতী চড়াও হয়। অভিযোগ, মিঠু শাহকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে শারীরিক হেনস্থা করার পাশাপাশি তাঁকে খুনের উদ্দেশ্যে এবং গুরুতর আঘাত করার নিয়তে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল।
তৃণমূল সাংসদের পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ঘটনার দু’ দিন পর অর্থাৎ ২৬ জুন ২০২৬ তারিখে করিমপুর থানার আইসি-র (Inspector-in-Charge) কাছে দ্বিতীয় অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন আক্রান্ত সহ-সভাপতি। বিডিও অফিসে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে তিনি মোট ৮ জন হামলাকারীকে হাতেনাতে সনাক্ত করেছেন।
সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত মূল অভিযুক্ত হিসেবে যে আটজনের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন, সৌরভ বিশ্বাস, রঞ্জিত দত্ত, পিন্টু প্রামাণিক, সুমিত মণ্ডল, আকরাম মণ্ডল, নিশীথ ঘোষ, পিনাকী সাহা, নবারুণ সাহা। এছাড়াও এই হামলায় আরও বেশ কিছু অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী জড়িত ছিল বলে অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে।
আক্রান্ত সহ-সভাপতি পুলিশের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রভাবশালী অভিযুক্তরা পার পেয়ে যেতে মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ তথা বিডিও অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট বা বিকৃত (Tampering) করার চেষ্টা করতে পারে। তাই অবিলম্বে সেই ফুটেজ পুলিশের হেফাজতে নিয়ে সুরক্ষিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
মহুয়া দেখিয়েছেন, অভিযোগপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিডিও অফিসের মতো সরকারি দফতরে ঢুকে এই ধরনের তাণ্ডব চালানো ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারা লঙ্ঘন করে এবং এটি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর বড় আঘাত। এই চিঠির অনুলিপি করিমপুরের বিডিও, নদিয়ার জেলা শাসক (DM) এবং জেলা পুলিশ সুপারের (SP) কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এই ছবি প্রকাশ করে সাংসদ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধীদের হিংস্র রূপ এবং পরিচয় স্পষ্ট হওয়ার পর পুলিশ আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। প্রশাসন যদি অবিলম্বে এই চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতার না করে, তবে আক্রান্তের আইনি অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে তাঁরা দ্রুতই হাইকোর্টে মামলা রুজু করবেন।

