দেশ 

রাহুলের চাপে তেলেঙ্গানা পুলিশের তৎপরতা শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করলেন ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পুত্র!

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : ঘটনাটা ঘটেছিল গত বছর ডিসেম্বর মাসে। হায়দ্রাবাদের এক ফার্ম হাউসে এক ধনী ব্যবসায়ীর একমাত্র কন্যা ধর্ষণ করেছিল কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পুত্র। মন্ত্রীর নাম বান্দী সঞ্জয় কুমার আর তার ছেলের নাম বান্দি ভগিরথ। ভগিরথের বিরুদ্ধে ১৭ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল আর সেই অভিযোগ কে ধীরে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে লুকোচুরি খেলেছে কংগ্রেস শাসিত তেলেঙ্গানার পুলিশ এবং ধর্ষণ কারীর মধ্যে। কয়েকদিন আগে তেলেঙ্গানার সফরে গিয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে মঞ্চে বসিয়ে মিটিং ও করেছিলেন অথচ এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে সমগ্র হায়দারাবাদ উত্তাল হয়ে পড়েছিল সেই সময়।

নির্যাতিতার বাবা কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া সত্বেও তার মেয়ের প্রতি এই ধরনের পাশবিক অত্যাচারের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করতে পুলিশ দেরি করেছে। এমনকি একটি থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে নির্যাতিতা এবং নির্যাতিতার মাকে প্রায় পাঁচ ঘন্টা ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ইতিমধ্যেই আবার কেন্দ্রে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আরেকটা মামলা দায়ের করা হয়েছিল অন্য থানায়। নির্যাতিতার চোখে যখন সমগ্র দুনিয়া অন্ধকার হয়ে দেখা দিয়েছে বিচারের আশায় এ থানা থেকে ও থানা আদালতে আদালতে চক্কর কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ঠিক তখনই ইনসাফের দাড়িপাল্লা নিয়ে হাজির হলেন রাহুল গান্ধী।

Advertisement

রাহুল গান্ধীর সরাসরি ফোন করলেন তেলেঙ্গানার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে এবং জানতে চাইলেন তেলেঙ্গানায় কি এখন বিজেপি সরকার নাকি? তাহলে কেন মন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না! রাহুল গান্ধীর ফোন আসার দোকানটার মধ্যে সবকিছু পাল্টে গেল বারোটা দলে বিভক্ত হয়ে এক মহিলা আইপিএস এর নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হলো মন্ত্রীর বাড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয় গতকাল ভোর থেকে। এরপর পরিষ্কার হয়ে যায় আর কোন পরিত্রাণ নেই অতএব মন্ত্রী দীর্ঘদিনের অভিযোগ তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে তার ছেলেকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। সেসব এখন অতীত। এবার মন্ত্রী নিজেই থানায় গেলেন ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এবং থানার হাতে তুলে দিলেন কেন্দ্রে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমার।

আর সেটাকেই বড় করে গদি মিডিয়া দেখিয়ে যাচ্ছেন মন্ত্রী নাকি নিজেই তার পুত্রকে অপরাধের জন্য পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন আসল ঘটনা অন্য। মন্ত্রিত জানতেন গত ডিসেম্বর মাসে তার ছেলের কীর্তি তারপর এতদিন কেন পুলিশের হাতে তুলে দেন নি? মিডিয়া গল্প বানানোর জায়গা খুঁজে পাই না যা খুশি গল্প বানিয়ে চালিয়ে দিচ্ছে! সত্য কথাটা সামনে আনুক রাহুল গান্ধীর এক ধমকের ফলেই আজকে মন্ত্রীর ছেলে গ্রেফতার। এটা বলতে লজ্জা পাচ্ছে কেন মিডিয়া হাউস।

অবশ্য পুত্রের আত্মসমর্পণের পর বাবা লিখিত বিবৃতি দিয়ে বলেছেন,‘‘আমার ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি ভগীরথকে আইনজীবীদের মাধ্যমে পুলিশের হাতে তুলে দিলাম।’’ মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, আইনের চোখে সকলে সমান বলে তিনি মনে করেন। আর পাঁচ জন সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে এ ক্ষেত্রে তাঁর পুত্রের কোনও ফারাক নেই। তাই সকলেই আইন মানতে হবে।

এর আগে অবশ্য মন্ত্রী দাবি করেছিলেন, তাঁর পুত্রকে এবং তাঁর পরিবারকে এই অভিযোগের মাধ্যমে অবমাননার চেষ্টা চলছে। ভগীরথও দাবি করেছেন, তিনি কোনও অন্যায় করেননি। পুত্রের আত্মসমর্পণের পর সঞ্জয় জানিয়েছেন, অভিযোগ ওঠার পরেই তিনি ভগীরথকে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করার পর এবং তাঁদের হাতে তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করার পর কিছুটা অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। দাবি, আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, গ্রেফতারির আগেই তাঁর পুত্র জামিন পেয়ে যাবেন। কিন্তু তেলঙ্গানা হাই কোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। মন্ত্রীর বক্তব্য, এখনও তাঁর আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, এই মামলার শীঘ্রই নিষ্পত্তি হয়ে যাবে এবং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর পুত্র জামিন পাবেন। তবে লুক আউট সার্কুলার জারির পর আর তিনি অপেক্ষা করতে চাননি। পুত্রকে আইনের আওতায় এনেছেন।

মন্ত্রীর পুত্রের বিরুদ্ধে পকসো আইনে অভিযোগের পর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে। সঞ্জয়কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন তেলঙ্গানার টিআরএস নেত্রী কে কবিতা। তাঁর দাবি, মন্ত্রীকে বরখাস্ত না করলে তিনি এই তদন্ত প্রভাবিত করতে পারেন।

অন্যদিকে ছেলের গ্রেফতারি নিয়ে যে অভিযোগই বা যে সাফাই দিক না কেন এটা ঠিক কেন্দ্রের মন্ত্রী হিসাবে প্রায় ৬ মাস ধরে ছেলেকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর উদ্যোগ না হলে এখনো পর্যন্ত মন্ত্রীর ছেলেকে গ্রেপ্তার করাতো দুরস্ত তার বাড়িতে পর্যন্ত পুলিশ যেত না।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ