১৫২ তে ১১০ পাবেন দাবি শাহের! ১১ হাজার বুথে এজেন্ট ছিল না বিজেপির! চিন্তায় মোদি শাহ!
সেখ ইবাদুল ইসলাম : বঙ্গ বিজেপির মুখ তথা তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম দফার নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দাবী করেছিলেন ১২৫ টা আসন আমরা জিতছি এবং নবান্নের ক্ষমতা দখল করছি। তার এই দাবিকে সামনে রেখে পরের দিনই রীতিমতো পাঁচতারা হোটেলে সাংবাদিক বৈঠক করে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ১৫২-র মধ্যে ১১০ টা আসন তারা পাচ্ছে। কিন্তু যে চাঞ্চল্যকর খবরটি এই রাজ্যবাসীকে বলা হয়নি তা হলো সদ্য সমাপ্ত প্রথম দফার নির্বাচনে ৪৪ হাজার বুথ ছিল, এর মধ্যে ১১ হাজার বুথে কোন এজেন্ট দিতে পারেনি বিজেপি।
তাহলে অমিত শাহ যে দাবি করেছেন তার সারবত্তা কী? বিজেপির গড় বলে পরিচিত প্রথম দফার নির্বাচন যেতে এলাকায় হয়েছে সেখানে যদি এজেন্ট দেওয়ার ক্ষমতা না থাকে তাহলে এটাই স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে যে এবারও বিজেপি বঙ্গ বিজয় করতে পারবেনা! মমতার কাছে কার্যত হার স্বীকার করে ফিরে যেতে হবে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহদের।

পরিসংখ্যান মতে মানুষ এবার ভোট দিয়েছে সবচেয়ে বেশি ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে ৮৩ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল সেবার ভোট দিয়েছিল ৩ কোটি ১৪ লক্ষ মানুষ। এবার ভোট শতাংশ যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে মানুষের ভোট দেওয়ার সংখ্যাটাও বেড়েছে এবার ভোট দিয়েছে তিন কোটি 40 লক্ষ মানুষ। এই বিপুল সংখ্যক মানুষ যে ভোট দিয়েছে এটা নিশ্চয়ই বিজেপিকে খাতির করার জন্য দেয়নি। কারণ এই ভোটটা হয়েছে মূলত এস আই আর এর বিরুদ্ধে ভোট। এস আই আর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বাঙালি যে অপমানের শিকার হয়েছে সেই অপমানের বদলা নেয়ার জন্যই বঙ্গ সন্তানরা সকাল সকাল লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন।
বাংলার মহিলারা যে ভোট দিয়েছেন লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য নয় তাদের বাড়ির মেয়েদের তাদের বাড়ির পুরুষদের যেভাবে নাম কেটেছে নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৯৩% মহিলা ভোট দিয়েছে পুরুষ ভোট দিয়েছে 91 শতাংশ। ১৫২ আসনে যে ভোট হয়েছে সেই অংকে যদি ধরে নেওয়া যায় তাহলে বিজেপি এখানে ৭০ টির বেশি আসন পেতে পারে না। যদিও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় যে প্রচার চলছে সেখানে খোদ আরএসএস নাকি বলেছে এবার বিজেপি প্রথম দফায় ৭৫ টার বেশি আসন পাবে না তাহলে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ কেন বলছেন ক্ষমতা এসে গেছি কারণ তাদের বলার একটাই উদ্দেশ্য তা হল প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু বঙ্গ প্রশাসনের যারা দায়িত্বে আছেন তারা স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছেন এবারও অন্তত বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসবে না এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে।
১১ হাজার বুথে এজেন্ট দিতে না পারার অংকটা এটাই দাঁড়াচ্ছে ৫৫ টা বিধানসভা কেন্দ্র কার্যত হোক বিজেপির এজেন্ট শূন্য ছিল। ১৫২ টা বিধানসভার মধ্যে যদি ৫৫ টা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির কোন এজেন্টি না থেকে থাকে তাহলে সে কি করে জিতবে সেই হিসাবটা যদি দয়া করে অমিত শাহ দিতে পারেন বঙ্গবাসীকে তাহলে অন্তত বঙ্গবাসী অংকটা শিখতে পারে উনার কাছ থেকে। এ থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে বাংলায় বিজেপির কোন ভবিষ্যৎ নেই বিজেপি এই বাংলা থেকে বিদায় নেওয়াটা সময়ের অপেক্ষা। তবে এই কথা ঠিক এবারও যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে বিজেপি বাংলায় হারাতে না পারে তাহলে দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সরকার যে পড়ে যাবে তার বলার অপেক্ষায় রাখেনা।

