উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকা থেকে দু কোটি মানুষের নাম বাদ, সংকটে যোগী?
বাংলার জনরব ডেস্ক : এস আই আর এর চূড়ান্ত তালিকা উত্তরপ্রদেশে প্রকাশিত হয়েছে। এই তালিকায় কমপক্ষে ২ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে বলে জানা গেছে। খসড়া তালিকায় প্রকাশের সময় উত্তরপ্রদেশে মোট নাম পড়ে বাদ পড়েছিল 2 কোটি 89 লক্ষ। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে ৮৪ লক্ষ ভোটার বেড়েছে বলে জানা গেছে। এই তালিকায় 2 কোটি ভোটারের নাম কমেছে। এর মধ্যে অবশ্য এক কোটি চার লক্ষ আনম্যাপড। মোট ৩ কোটি ২৬ লক্ষ জনকে নোটিস পাঠানো হয়। নোটিস পাঠানো ভোটারদের মধ্যে ৮৪ লক্ষ ভোটারের নাম উঠেছে।
এসআইআর-এর পর উত্তরপ্রদেশে মোট ভোটার ১৩ কোটি ৩৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৭৯২। এসআইআর-এর আগে মোট ভোটার ছিল ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষ ৩০ হাজার ৯২। প্রসঙ্গত, আগামী বছরের শুরুতেই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। ৪০৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে। তার আগে বাকি দশটি রাজ্যের মতো যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) রাজ্যেও এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রাজ্যগুলির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হলেও, শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশই বাকি ছিল। শুক্রবার সেই তালিকা প্রকাশিত হল।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) নবদীপ রিনওয়া সাংবাদিক বৈঠক করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেন। জানান, রাজ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে আইন মেনে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতি না মেনে কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৫৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৫ জন। এর মধ্যে ৬.৮৮ কোটি পুরুষ, ৫.৬৭ কোটি মহিলা এবং ৪,১১৯ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন। ১৮-১৯ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৯৮১।
১০ এপ্রিল প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩ কোটি ৩৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৭৯২। এর মধ্যে ৭ কোটি ৩০ লক্ষ ৭১ হাজার ৭১ জন পুরুষ (প্রায় ৫৪ শতাংশ), মহিলা রয়েছেন ৬ কোটি ৯ লক্ষ ৯ হাজার ৫২৫ জন (৪৫.৪৬%) এবং ৪,২০৬ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। ১৮-১৯ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৭ লক্ষ ৬৩ হাজার ৩৬০ জন। যা মোট ভোটারের ১.৩২ শতাংশ। চূড়ান্ত তালিকায় মোট ভোটার বেড়েছে ৮৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৭৬৭ জন।
খসড়া তালিকায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রীতিমতো উদ্বেগপ্রকাশ করেন। সাফ বলে দেন, “যাদের নাম বাদ পড়ছে তারাও বিজেপির ভোটার।” যোগী দলের সাংসদদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভোটারদের নাম তুলতে হবে। শোনা যায় অন্তত দেড় কোটি ভোটারের নাম নতুন করে তুলতে চেয়েছিলেন যোগী। সেই টার্গেট নিয়ে নেমে প্রায় ৮৪ লক্ষ ভোটারের নাম তুললেও অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারল না গেরুয়া শিবির।

