কলকাতা 

দুর্গাপুর কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত পারিজাত গাঙ্গুলি এখনও অধরা, এর মধ্যেই হুগলিতে সংখ্যালঘু বিরোধী লিফলেট— সাম্প্রদায়িক মেরুকরণে মদদ দিচ্ছে রাজ্য সরকার: হাকিকুল ইসলাম 

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : সম্প্রতি বর্ধমানের দুর্গাপুর ও হুগলির দুটি ঘটনায় ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং সংখ্যালঘু বিরোধী মানসিকতার যে নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও রাজ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য হুমকি স্বরূপ।

প্রথমত, দুর্গাপুরে গরু পাচারের অপবাদে মুসলিম ব্যক্তিদের জনসমক্ষে নির্যাতন, হেনস্তা ও জয় শ্রী রাম স্লোগান দিতে বাধ্য করার ঘটনা এক গভীরভাবে পরিকল্পিত ঘৃণার রাজনীতির ফল। যদিও এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, মূল অভিযুক্ত পারিজাত গাঙ্গুলি এখনও অধরা, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও পক্ষপাতিত্বের প্রতিচ্ছবি।

Advertisement

দ্বিতীয়ত, হুগলির ব্যান্ডেল কেওটা এলাকার ‘বিদ্যাসাগর ক্লাব’-এর নামে মুসলিম পরিবারদের ঘর ভাড়া না দেওয়ার নামে প্রকাশিত ফতোয়াসদৃশ লিফলেট—একটি স্পষ্টভাবে বিভাজনমূলক, অসাংবিধানিক ও অপরাধমূলক সাম্প্রদায়িক কর্ম। এতে শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিক অধিকার খর্ব করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হলেও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইনি শাস্তির আওতায় আনা এখনো বাকি।

সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া এই ধরনের ঘৃণার রাজনীতি ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বয়কট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে। এসডিপিআই প্রশাসনের কাছে এও দাবি জানাচ্ছে— পারিজাত গাঙ্গুলির অবিলম্বে গ্রেফতার ও দুর্গাপুর ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার। রাজ্য সরকার যদি প্রশাসনকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়, এবং প্রশাসন ও সরকারি মেশিনারির মধ্যে থাকা সাম্প্রদায়িক অফিসার ও আধিকারিকদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয় তবে রাজ্যের শান্তি, শৃংখলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা অসম্ভব। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে খুশি করার মাধ্যমে ধর্মীয় রাজনীতি থেকে বেরিয়ে না আসলে রাজ্যের বিভিন্ন জাতি, ধর্মের মানুষদের মধ্যে ঐক্য টিকিয়ে রাখাও সম্ভব না। এসডিপিআই সরকারের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছে— রাজ্যের মূল সমস্যা নিয়ে কাজ করার।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ