মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ, প্রথম দশে ৬৬ জন, প্রথম হয়েছেন রায়গঞ্জের আদৃত সরকার
সেখ ইবাদুল ইসলাম : ২০২৫ এর মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হল। শুক্রবার সকাল ন’টায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সল্টলেকের দপ্তরে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করলেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। সাংবাদিক সম্মেলন এর সময় পর্ষদ সভাপতি এর পাশে ছিলেন পর্ষদের সচিব। প্রতিবছরের মত এ বছরও পাশের হারে মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবার পূর্ব মেদিনীপুর এগিয়ে এরপর রয়েছে কালিম্পং জেলা তারপরই রয়েছে কলকাতা জেলা।
এ বছরও মাধ্যমিকে রয়েছে গ্রেড ব্যবস্থা। সর্বোচ্চ ‘এএ’ গ্রেড পেয়েছে ১০,৬৫৯ জন। ‘এ+’ গ্রেড পেয়েছে ২৫,৮২০ জন এবং ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে ৯১,২৩৭ জন।

গত বছরের মতো চলতি বছরেও মোবাইল বা ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। পরীক্ষা চলাকালীন কেউ মোবাইল সমেত ধরা পড়লে পরীক্ষা বাতিল হবে। ২০২৪-এ মোট ১৪৫ জনের পরীক্ষা বাতিল হয়েছিল। চলতি বছরে সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ১৯ জন, যাদের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
২০২৫-এর মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট ৯,৮৪,৭৫৩ জন নাম নথিভুক্ত করেছে। এদের মধ্যে ছাত্র ৪,২৮,৮০৩ জন এবং ছাত্রী ৫,৫৫,৯৫০। গত বছরের তুলনায় এ বছরের মাধ্যমিকে ৬৫ হাজারের বেশি পড়ুয়া পরীক্ষা দিয়েছে। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ন’লক্ষের বেশি।
পর্ষদের তরফে সকাল ৯টা নাগাদ সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে ফল ঘোষণা করা হবে। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে পর্ষদের ওয়েবসাইট ছাড়াও পরীক্ষার্থীরা বেশ কিছু মোবাইল অ্যাপ মারফতও তাদের ফলাফল জেনে নিতে পারবে। এর পর পর্ষদের বিভিন্ন ক্যাম্প অফিস থেকে স্কুলগুলিকে সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষার্থীদের মার্কশিট এবং শংসাপত্র বিতরণ করা হবে।
চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি, শেষ হয়েছে ২২ ফেব্রুয়ারি। মোট ৬৯ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। এ বারের পরীক্ষা ২,৬৮৩ কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। ৪২৩ জন কাস্টোডিয়ান প্রশ্নপত্রের দায়িত্বে ছিলেন।
প্রথম দশে ৬৬ জন স্থান পেয়েছে। প্রথম হয়েছেন একজন রায়গঞ্জের আদৃত সরকার। তার প্রাপ্ত নাম্বার ৬৯৬। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাশের হার সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর মাধ্যমিকে পাশের হার ৮৬.৫৬ শতাংশ। গত বার ছিল ৮৬.৩১ শতাংশ। এ বছর মাধ্যমিকে দ্বিতীয় স্থানে আছে দু’জন। মালদহের রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের অনুভব বিশ্বাস (৬৯৪) এবং বাঁকুড়া বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের সৌম্য পাল (৬৯৪)।
তৃতীয় স্থান দখল করেছেন বাঁকুড়ার ঈশানী চক্রবর্তী। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩। চতুর্থ স্থানে দুজন রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের মোঃ সেলিম এবং পূর্ব মেদিনীপুরের সুপ্রতীক মান্না তাদের প্রাপ্ত নাম্বার ৬৯২। পঞ্চম স্থান দখল করেছেন হুগলি জেলার তিনজন।সিঞ্চন নন্দী, মহম্মদ আসিফ এবং দীপ্তজিৎ ঘোষ। এ ছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোমতীর্থ করণও পঞ্চম হয়েছে। তাদের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১।

