কলকাতা 

‘গান্ধীজীর বেলেঘাটা পর্ব : ঘটন-অঘটনে ছাব্বিশ দিন’, অঞ্জন বেরার লেখা গান্ধীজিকে নিয়ে বইয়ের উদ্বোধন করলেন বিমান বসু

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি: প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা ও বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু আজ মুজফফর আহমদ ভবনে বেলা সোয়া একটায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করলেন অঞ্জন বেরা’র লেখা নতুন বই ‘গান্ধীজীর বেলেঘাটা পর্ব: ঘটন-অঘটনে ছাব্বিশ দিন’। বইটির প্রকাশক অজিতা প্রকাশন।

‘গান্ধীজীর বেলেঘাটা পর্ব: ঘটন-অঘটনে ছাব্বিশ দিন’ এক অনবদ্য সময়ের আন্তরিক পুন:পাঠ। ১৯৪৭ সালের ১৩ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর—টানা ছাব্বিশ দিন অতিবাহিত করেন মহাত্মা গান্ধী কলকাতার বেলেঘাটায় হায়দরি মঞ্জিল (এখন নাম গান্ধীভবন) নামে একটি ভগ্নপ্রায় বাড়িতে।

স্বাধীনতার উষালগ্নে দাঙ্গা-ধ্বস্ত মহানগরীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে আটাত্তর বছর বয়স্ক গান্ধীজীর সেই ঐতিহাসিক অভিযানের উপরই এই বই লেখা হয়েছে। ঘটনাক্রমে এবছর গান্ধীজীর শেষবারের মতো কলকাতা তথা বাংলা সফরেরও ৭৫ বছর পূর্তি।

আগ্রাসী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি আজ যখন সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক মর্মবস্তুকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছে, তখন গান্ধীজীর বেলেঘাটা পর্বের দিনগুলি যেন নতুনতর ভাবে প্রাসঙ্গিক। ইতিহাসের পুনর্লিখনের নামে স্বাধীনতা সংগ্রামের গর্বের ইতিহাসকে রক্ষা করা আজকের প্রজন্মের কাছে এক জরুরী কর্তব্য।

তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত ১৫৯ পৃষ্ঠার এই পেপারব্যাকে রয়েছে ১৯৪৭ সালের ১৩ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর হায়দরি মঞ্জিলকে কেন্দ্র করে গান্ধীজীর যাবতীয় কর্মকান্ডের বিস্তারিত বিবরণ। সেই সঙ্গে রয়েছে বেলাঘাটা পর্বের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট; এবং আজকের সময়ের প্রেক্ষিতে সেই পর্বের তাৎপর্য সন্ধানের প্রচেষ্টা। বইয়ের পরিশিষ্টাংশে রয়েছে কয়েকটি মূল্যবান দলিল।

এই বইয়ে উল্লেখিত হয়েছে সেই পর্বে গান্ধীজীর ভূমিকা প্রসঙ্গে একটি অসামান্য সমকালীন পর্যবেক্ষণ। সেই সময় কমিউনিস্ট পার্টির বিধায়ক তেত্রিশ বছর বয়সী জ্যোতি বসুর। গান্ধীজীর জীবনাবসানের পর ১৯৪৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ আইনসভায় পেশ করা শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বসু বলেন:‘‘গত কয়েক মাসে গান্ধীজী তাঁর অসাধারণ দৃষ্টিভঙ্গীর কারনে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন।…তাঁর গভীর দূরদৃষ্টিতে তিনি দেখতে পেয়েছিলেন যে, সাম্প্রদায়িক হানাহানি আবার একবার পরাধীনতার নয়া সাম্রাজ্যবাদী শৃঙ্খল আমাদের পায়ে পরিয়ে দেবার পথ প্রশস্ত করবে। যখন ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ আমাদের মন ছেয়ে ফেলেছিল, হাজার হাজার নারী- পুরুষ-শিশুর যন্ত্রণাবিদ্ধ চীৎকারে বাতাস ভারী হয়ে উঠছিল, এমনকি কংগ্রেসের নামীদামী নেতারাও যখন আদর্শচ্যুত, এই সার্বজনীন ঘৃণার প্লাবনের গতিরুদ্ধ করতে কংগ্রেস মন্ত্রীরা যখন সর্বাংশে ব্যর্থ, তখন নিজস্ব সহজ সরল পথে গান্ধীজী নোয়াখালি, কলকাতা, দিল্লি, দেশের সর্বত্র সাধারণ মানুষের দরজায় দরজায় তাঁদের মৌলিক মনুষ্যত্বের আবেদন জানিয়ে ফিরেছেন।… কি হিন্দু, কি মুসলিম, ভারতে কি পাকিস্তানে, সর্বত্র সাধারণ মানুষ তাঁর ডাকে অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছিল। এটা নিশ্চিত যে, এই মহান কর্তব্য সম্পূর্ণ করার মধ্যেই গান্ধীজী তাঁর জীবন উৎসর্গ করলেন, খুন হয়ে গেলেন সাম্প্রদায়িক হিন্দু মহাসভার আততায়ীর নোংরা হাতে।’’ (জ্যোতি বসুর নির্বাচিত রচনা সংগ্রহ, প্রথম খন্ড; ন্যাশনাল বুক এজেন্সি, কলকাতা,২০০৬; পৃষ্ঠা ৬৫)

গান্ধীজীর বেলেঘাটা পর্ব : ঘটন-অঘটনে ছাব্বিশ দিন

লেখক- অঞ্জন বেরা

প্রকাশক- অজিতা প্রকাশন/দাম- ১৫০ টাকা


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ