কলকাতা 

আইনজীবীরা আক্রান্ত, আদালতে কর্মবিরতি আইনজীবীদের হস্তক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

কলকাতা ব্যাঙ্কশাল এবং চন্দননগর আদালতে আইনজীবীদের কর্মবিরতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। কর্মবিরতি দ্রুত তোলার জন্য বার কাউন্সিলের সদস্যকে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে বলল হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ করার কথা বলেছে আদালত।

বারুইপুর আদালতে আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে জনস্বার্থ মামলা করে হাই কোর্ট। মামলায় যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার ওই মামলার শুনানিতে আইনজীবী শুভঙ্কর নাগ অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আইনজীবীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি ব্যাঙ্কশাল ও চন্দননগর আদালতে কর্মবিরতির কথাও তুলে ধরেছেন। তা ছাড়া শালবনিতে কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী শামিম আহমেদের গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টিও আদালতের নজরে আনেন। প্রধান বিচারপতি জানান, শামিম আহমেদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তাঁর নজরে রয়েছে।

গত শনিবার শালবনি থেকে ফেরার পথে আইনজীবী শামিম এবং তাঁর সহযোগী আইনজীবীরা আক্রান্ত হন। বাম মনোভাবাপন্ন ওই আইনজীবী জানান, তাঁরা বেনাচাপাড়ায় ঘরছাড়া পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে পুলিশের সামনেই তাঁদের গাড়িতে হামলা হয়। বাঁশ, শাবল ও লাঠি নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ। সঙ্গে থাকা এক মহিলা আইনজীবীর শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের হস্তক্ষেপে তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।

তার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে সমাজমাধ্যমে কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ধৃত এক ইউটিউবারকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলার সময়ে অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন একদল বিক্ষোভকারী। আদালত চত্বরে উপস্থিত আইনজীবীরা তার প্রতিবাদ করলে তাঁদের প্রহৃত হতে হয়েছে। যার প্রতিবাদে কর্মবিরতি করছিলেন আইনজীবীরা। অন্য দিকে, কেন্দ্রের সেবা প্রকল্পের অঙ্গ হিসেবে চন্দননগর মহকুমা আদালতে যাওয়ার পথ আটকে আলপনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তার প্রতিবাদ করতে গেলে কয়েক জন আইনজীবীকে নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার প্রতিবাদে আদালতের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন আইনজীবীরা।

বুধবার প্রধান বিচারপতি বলেন, “আদালতে কর্মবিরতি কেন চলবে? এতে তো সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।” উচ্চ আদালতের নির্দেশ, রাজ্যের সমস্ত আদালতে আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ