মোবাইলে পেমেন্ট ‘সাকসেসফুল’-এর মেসেজ দেখিয়ে সোনার গহনা হাতানোর অভিযোগে নরেন্দ্রপুরে গ্রেফতার এক মহিলা
মোবাইলে পেমেন্ট ‘সাকসেসফুল’-এর মেসেজ দোকান কর্মীদের দেখিয়ে গয়না হাতানোর অভিযোগে এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ধৃতের নাম মধুরিমা দাস। তিনি লেক থানা এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রথমে রীতিমতো রেইকি করে বিভিন্ন সোনার দোকান সম্পর্কে খোঁজখবর নিতেন ওই মহিলা। এরপর ক্রেতা সেজে দোকানে ঢুকে পছন্দ করতেন সোনার গয়না। অভিযোগ, দাম মেটানোর সময় নানা অজুহাতের পর মোবাইলে এমন একটি মেসেজ দেখাতেন, যা দেখে মনে হত সংশ্লিষ্ট দোকানের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছে। সেই মেসেজ দেখে টাকা পেয়ে গিয়েছেন মনে করে গয়না দিয়ে দিতেন ব্যবসায়ীরা। পরে অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে বোঝা যেত, বাস্তবে কোনও টাকা জমাই পড়েনি।
এমনই একটি ঘটনা ঘটে নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার কালীবাজারের একটি সোনার দোকানে। দোকানের কর্ণধার তারক কর্মকারের দাবি, ওই মহিলার দেখানো মেসেজটি ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেও প্রাথমিক ভাবে যাচাই করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে লেনদেনের বিস্তারিত পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা ঢোকেনি।
প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে নরেন্দ্রপুর থানার দ্বারস্থ হন তারক। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাঁর দাবি, এর মধ্যে ওই মহিলার সঙ্গে একাধিক বার ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বারবার জানান, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই দোকানদারের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
এর মধ্যে চৌহাটি এলাকার আরও একটি সোনার দোকানে অভিযুক্ত গয়না কিনতে যান বলে অভিযোগ। সেখানে দোকানদারের সন্দেহ হওয়ায় তিনি পুলিশকে খবর দেন এবং কথাবার্তার মাধ্যমে মহিলাকে দোকানেই আটকে রাখেন। পুলিশ পৌঁছে তাঁকে আটক করে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা রুজু করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সোনার গয়নাও।
পুলিশ তদন্তে নেমে জেনেছে, বাদুড়িয়া, খড়দহ, রাজারহাট-সহ একাধিক এলাকার সোনার দোকানেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। মূলত শহরতলির সোনার দোকানগুলিকে টার্গেট করা হত বলে তদন্তকারীদের অনুমান। এই ঘটনায় ওই মহিলা একাই যুক্ত, নাকি নেপথ্যে আরও কেউ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার পর সোনার ব্যবসায়ীদের আরও সতর্ক হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন সোনারপুর উত্তর স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রতন মালাকার। বিশেষ করে শুধু মোবাইলে পেমেন্ট সফল হওয়ার মেসেজ দেখে গয়না না দিয়ে, নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে কি না নিশ্চিত হওয়ার পরেই হস্তান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

