আইআইটি বম্বেতে ছাত্রমৃত্যু: বিক্ষোভ আরও জোরালো, ডিরেক্টরের পদত্যাগ চেয়ে মৃতের বাবা মায়ের সঙ্গে অনশন শুরু পড়ুয়াদের
বাংলার জনরব ডেস্ক : আইআইটি বম্বের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিল ওয়াকোডের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ আরও জোরালো হচ্ছে। শুক্রবার আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের একাংশ অনশন শুরু করেছেন। মৃত ছাত্রের বাবা-মা আগেই অনশনে বসেছিলেন। এ বার পড়ুয়ারাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলেন। তাঁদের অন্যতম প্রধান দাবি, ছাত্রের মৃত্যুর দায় স্বীকার করে, জবাবদিহি করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। আইআইটি বম্বের ডিরেক্টর শিরীষ কেদারের পদত্যাগও দাবি করেছেন তাঁরা।
পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল সাহিলের বিরুদ্ধে। আইআইটি বম্বের প্রথম বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছিল, তিনি প্রশ্নপত্রের ছবি চ্যাটজিপিটি-তে আপলোড করেছিলেন। পরীক্ষক তা ধরে ফেলেন এবং তাঁকে পরীক্ষার হল থেকে বার করে দেওয়া হয়।পরে ওই বিবৃতি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেই হস্টেলের ঘর থেকে সাহিলের দেহ উদ্ধার হয়। আইআইটি বম্বের পড়ুয়াদের দাবি, গত কয়েক মাসে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে একাধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। অবিলম্বে তার দায় নিয়ে জবাবদিহি করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। এ ছাড়া, অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা, যিনি সে দিন পরীক্ষার হলে দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর শাস্তিও চেয়েছেন বিক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা। অভিযোগ, জাত তুলে সাহিলকে অপমান করতেন তিনি।
সূর্যনারায়ণের বিরুদ্ধে জাতিবৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন সাহিলের মা-বাবাও। অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে তিনি তাঁদের পুত্রকে হেনস্থা করেছেন নানা ভাবে। পুলিশ তাঁদের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এর মধ্যে অধ্যাপককে ডিনের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ক্ষোভ তাতে কমেনি।
সাহিলের মা-বাবা মুম্বইয়ের আজ়াদ ময়দানে অনশনে বসেছেন। কিন্তু পুলিশ ওই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ। গত ১৫ দিন ধরে এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আইআইটি বম্বে ক্যাম্পাস উত্তাল। আন্দোলন আরও জোরদার করার জন্য বিক্ষুব্ধদের একাংশ অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার তাঁরা প্রথমে মিছিল করে ক্যাম্পাসের মূল ফটক পর্যন্ত পৌঁছোন। ১৮ দফা দাবি তুলে দেন কর্তৃপক্ষের হাতে। তার পর আনুষ্ঠানিক ভাবে অনশন শুরু করা হয়।

