কলকাতা 

সরকারের প্রতি বিশ্বাস হারাচ্ছে সংখ্যালঘুরা, তোপ পীরজাদা রুহুল আমিনের

শেয়ার করুন
  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ মিজানুর রহমান

সংখ্যালঘু উন্নয়নের যেসমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিল, সাত বছরে তার একটিও পূরণ হয়নি। তাই সংখ্যালঘু মুসলিমরা তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের প্রতি বিশ্বাস হারাচ্ছে। সরকারের মানসিকতার পরিবর্তন না ঘটলে আগামিদিনে এর ফল হাতে নাতে পাবেন মুুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘বাংলার জনরব’ প্রতিনিধির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটি অ্যাসোসিয়েশন (আইমা)’র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পীরজাদা সৈয়দ রুহুল আমিন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে রুহুল সাহেব বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে মুখ্যমন্ত্রী বলে থাকেন, সংখ্যালঘু উন্নয়নে ৯০ শতাংশ কাজ হয়েছে। কিন্তু উন্নয়নে কোথায় কি কাজ হয়েছে, তা আজও রাজ্যবাসী জানেনা। তবে রাজারহাটে আলিয়ার নতুন ক্যাম্পাস কিংবা নিউটাউন হজ টাওয়ার করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী যে দাবি করছেন, সেগুলি ছিল বামেদের সময়ের প্রকল্প। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বাস্তবায়িত করেছে মাত্র। এছাড়া ইমাম ভাতা দেওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে প্রচার করছেন, সেটা সরকারের তহবিল থেকে দেওয়া হয়না। দেওয়া হয় ওয়াকফ বোর্ডের তরফে। যা মুসলিম সমাজের ধর্মগুরুদের প্রাপ্য। এখানে সরকারের কৃতিত্ব নেওয়ার কিছু নেই। সংখ্যালঘু বেকার ছেলে মেয়েদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পীরজাদা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মুসলিম ছেলে মেয়েদের চাকরিতে সুযোগ করে দিতে ৯৭ শতাংশকে ওবিসি সংরক্ষণের অন্তর্ভুক্ত করেছে ঠিকই, কিন্তু রাজ্যে সরকারি চাকরি দেওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তৃণমূল সরকারের সাত বছরের সময়কালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে মাত্র একবার শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। অন্যদিকে প্রাথমিকে দুবার শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। বাকি ক্ষেত্রে সেরকম নিয়োগ আর হচ্ছে না। তাহলে চাকরিতে সংরক্ষণ দিয়ে কীলাভ হল- সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এছাড়া, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্তনিগমও যথাযথভাবে কাজ করছেনা বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, ‘ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্তনিগমের কাজ সংখ্যালঘু বেকার ছেলেমেয়েদের ঋণ দিয়ে স্বনির্ভর করে তোলা। কিন্তু সরকার এখন তার চেয়েও বেশি জোর দিয়ছে সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্তনিগমের মাধ্যমে স্কুলপড়ুয়াদের স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে। যা বিত্তনিগমের কাজ নয়।

রুহুল সাহেব মনে করেন, মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘু উন্নয়ন না করেও যেভাবে বার বার বলছেন, সংখ্যালঘুদের জন্য অধিকাংশ কাজই করে দিয়েছি, তাতে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ হচ্ছে। এর ফলে হিন্দুরা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি রুষ্ট হচ্ছেন। তাঁরা মুুুুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ তুলছেন। অন্যদিকে সংখ্যালঘু উন্নয়নে কিছু কাজ না করেও মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বলছেন যে সব কাজ করে ফেলেছি, তাতে সরকারের প্রতি বিশ্বাস হারাচ্ছে সংখ্যালঘু মুসলমানরাও। তাঁরা সরকারের সমস্ত প্রতিশ্রুতিকেই ভুয়ো বলে মনে করছে। যার ফল আগামিদিনে সরকার পাবে।

প্রসঙ্গত, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার প্রতাপপুর দরবার শরীফের পীর সাহেব সৈয়দ রুহুল আমীনের আব্বাজান আলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ খালেদ হুসাইন সাহেব। এপার বাংলা তো বটেই সারা দেশ সহ ওপার বাংলাতেও তাঁদের লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও  মুরিদ রয়েছে। রুহুল সাহেবের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের সমূহ প্রভাব তাঁঁর ভক্ত ও মুরিদদের উপর পড়বে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

 


শেয়ার করুন
  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment