কলকাতা 

রাজ্য বাজেটেও মুখ্যমন্ত্রী কল্পতরু , ৫০ হাজার বেকারকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে বিশেষ আর্থিক সাহায্য , ভাতা বাড়ছে অঙ্গনওয়ারি ও আশা কর্মীদের , বেতন বাড়ছে গ্রূপ সি ও ডি-র কর্মীদের ,চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের অবসরকালীন প্রাপ্য দুই থেকে তিন লাখ করা হয়েছে

শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি : অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র আজ রাজ্য বিধানসভায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরের  জন্য ৯ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ করেছেন।  মোট বাজেট বরাদ্দের পরিমান বিগত অর্থ বছরের ২ লক্ষ ১৪ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা থেকে ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা।  অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন পূর্বতন পরিকল্পনা খাত বা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খাতে বাজেটে ১৩দশমিক ২৫ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।  এছাড়া কৃষি, পরিকাঠামো, শিক্ষা , স্বাস্থ্য , সামাজিক ক্ষেত্রে সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাজটে বরাদ্দ বেড়েছে।  আগামী অর্থবছরে রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা  ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি রাখা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বাজেটে কৃষক , চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও কর্মহীন যুবক যুবতীদের রোজগার বাড়াতে অর্থমন্ত্রী নতুন কয়েকটি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। পয়লা এপ্রিল থেকে প্রতি বছর ৫০ হাজার যুবক যুবতিকে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে । এজন্য বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া বাজেটে অঙ্গনওয়ারি এবং আশাকর্মীদের ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ২ লক্ষ ১০ হাজারের বেশি অঙ্গনওয়ারি কর্মী এবং ৫০ হাজারের বেশি  আশাকর্মী  উপকৃত হবেন।রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির কথাও রাজ্য বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী তাদের  মাসিক বেতন দুহাজার টাকা করে বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন ।
এছাড়া তাদের অবসরকালীন প্রাপ্যও ২ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লক্ষ টাকা করা হচ্ছে।এতে প্রায় একলক্ষ চুক্তিভিত্তিক কর্মী উপকৃত হবেন। কর ও রাজস্ব আদায়  বাড়াতে এবং বকেয়া কর সংগ্রহের লক্ষ্যেও অমিত মিত্র তার বাজেট ভাষণে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপের  কথা ঘোষণা করেছেন। মূল্য যুক্ত কর, সিএসটি-র ক্ষেত্রে বকেয়া করের ৩৫ শতাংশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নিষ্পত্তি করা যাবে ।
প্রবেশ করের অঙ্ক মিটিয়ে দিলে সুদ ও জরিমানা মুকুব করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন । একই রকম ভাবে মোটর যানের করের জন্যও একটি সেটলমেন্ট স্কিম ঘোষণা করা হয়েছে। বকেয়া করের ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ মিটিয়েই  মামলার নিস্পত্তি করা যাবে। চা বাগানের সমস্যা নিরসনে রাজ্য বাজেটে আগামী ২ বছর চা উৎপাদনের ওপর শিক্ষা সেস এবং গ্রামীণ রোজগার সেস সম্পূর্ণ মুকুব করা হয়েছে।  রাজ্য সরকারের ফ্ল্যাগশিপ কৃষক বন্ধু প্রকল্পে বাজেটে নতুন করে অর্থ বরাদ্দের  কথা অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন।আগামী অর্থ বছরে ঐ প্রকল্পে আরও ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এদিকে  বিরোধী বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস রাজ্য বাজেট গুরুত্বহীন বলে দাবি করে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হয়।  অর্থমন্ত্রীর বাজেট ভাষণ চলাকালীনই তাঁরা পোস্টার , প্লাকার্ড সহ ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরে এক যৌথ সাংবাদিক  বৈঠকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান এবং বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী একই সুরে অভিযোগ করেন, এধরনের গুরত্বহীন বাজেট রাজ্যের ইতিহাসে নজির বিহীন। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছেন সেখানে বিধানসভায় বাজেট পেশের  গুরুত্ব কি তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মত বিষয়গুলি নিয়ে বাজেটে কোন উল্লেখ না থাকারও তাঁরা সমালোচনা করেছেন।      ছবি : প্রতীকি

শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment