কলকাতা 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্ন সফল, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চায়েতে জিতে রের্কড শাসক তৃণমূলের

শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : রাজ্যে পঞ্চায়েত আইন অনুসারে পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালে। কংগ্রেস আমলে পঞ্চায়েত আইন পাশ হলেও বামফ্রন্ট সরকারই প্রথম এই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন করেছিল। ‍১৯৭৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রাজ্যের পঞ্চায়েতে নির্বাচনে মোট বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন ২৩,১৮৫ জন প্রার্থী। আর ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস একাই ২০,০৭৬ টি আসনে জয়ী হয়ে সর্বকালের ভারতীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রের্কড স্থাপন করেছে। এর আগে দেশের কোথাও পঞ্চায়েত নির্বাচনে এভাবে কোনো শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেনি। সেদিক  থেকে বলা যেতে পারে এটা দেশের গনতন্ত্রে একটা নজীর সৃষ্টি করেছে।

বেশ কিছু দিন ধরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে রাজ্যের অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রীরা বিরোধী শূণ্য পঞ্চায়েত গড়ার ডাক দিয়েছিলেন। দল নেত্রীর এই আহ্বানকে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করেছেন নেতা কর্মীরা। মনোনয়ন পত্র জমাকে কেন্দ্র করে যে অশান্তি এই রাজ্যে হয়েছে তা আগে কোনোদিন  এভাবে হয়নি বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। যাইহোক,শনিবার পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। প্রত্যাহার পর্ব শেষ হওয়ার পর যে হিসেব রাজ্য নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন  ৪৮,৬৫০,এর মধ্যে ১৬,৮১৪ টি আসনে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে। শতাংশের বিচারে ৩০-র বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন শাসক দলের প্রার্থীরা। পঞ্চায়েত সমিতি স্তরে মোট আসন ৯,২১৭। এর মধ্যে৩,০৫৯টি আসনে শাসক দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে। শতাংশের বিচারে প্রায় ৩০শতাংশ। অন্যদিকে জেলা পরিষদের মোট আসন ৮২৫,এর মধ্যে ২৫শতাংশ আসন বা ২০৩টি আসন বিনা ভোটে জয়লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

ভোট হওয়ার আগে যেভাবে পঞ্চায়েতে জিতে গেল শাসক দল তা গনতন্ত্রের পক্ষে তো বটেই,এমনকি শাসক দলের পক্ষেও তা শুভ ইঙ্গিত নয়। মজার বিষয় হল,বামফ্রন্ট তথা সিপিএম রাজ্যের যেসব এলাকায় পঞ্চায়েতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততো সেইসব এলাকাতে এখন বামেদের অস্তিত্ব দূরবীন দিয়ে খুজে দেখতে হয়। তবে এটা স্বীকার করতে হবে,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রাম-বাংলার সাধারণ মানুষের স্বার্থে যা করেছেন তা এর আগে ৩৪ বছরের বাম শাসনে হয়নি। গ্রাম-বাংলার মানুষের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে পানীয় জলের ব্যবস্থা তিনি করতে পেরেছেন। পঞ্চায়েতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না। তাই শাসক দলের নেত্রী যদি বিরোধীদের ডেকে এনে জামাই আদর করে ভোটে দাঁড় করাতেন তাহলেও বিরোধীরা আদৌ সফল হতেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি এই উদারতা দেখাতে পারতেন তাহলে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম গনতান্ত্রিক দেশেরেএকটি প্রদেশ, সমগ্র বিশ্বের কাছে গনতন্ত্রের পীঠস্থান হিসেবে পশ্চিমবাংলা আত্ম-প্রকাশ করত।


শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment