দেশ 

উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনে দেশের সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা বিপন্ন ! বিশ্ব-র‌্যাঙ্কে ১৩৮

শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম:

নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এদেশের সংবাদ-মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ করত বিরোধীরা । এবার সেই অভিযোগে সিলমোহর দিল সাংবাদিকদের স্বাধীনতার উপর নজরদারি চালানো বিশ্ব-সংস্থা রিপোর্টারস উইথদাউট বর্ডারস। সম্প্রতি তাদের এক রিপোর্টে বিশ্ব-জুড়ে চলা সাংবাদিকদের উপর হামলা ও খুনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্যারিসে অবস্থিত এই বিশ্ব সংস্থাটি সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও তাদের নিরাপত্তার বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ১৮০টি দেশের যে র‌্যাঙ্ক প্রকাশ করেছে তাতে সংবাদ-মাধ্যমের স্বাধীনতার দিক থেকে প্রথম স্থান দখল করেছে নরওয়ে। সাংবাদিকদের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা উত্তর কোরিয়ার,এই দেশটি ১৮০ তম স্থানে রয়েছে। চিন ১৭৩ তম স্থানে,বাংলাদেশ ১৪৬ তম স্থানে,পাকিস্থান ১৩৯ তম স্থানে, আর মোদীজির ভারতের স্থান ঠিক পাকিস্থানের পরেই ১৩৮ তম স্থানে। ২০১৭ সালের তুলনায় আমাদের দেশ ভারতে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা আরও খর্ব হয়েছে বলে ওই বিশ্ব সংস্থাটি অভিযোগ করেছে। ২০১৭ সালে সংবাদ-মাধ্যমের স্বাধীনতার দিক থেকে ভারতের স্থান ছিল ১৩৬ তম।

ভারতের সংবাদ-মাধ্যমের স্বাধীনতার এই করুণ অবস্থার জন্য এদেশের বর্তমান কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন সরকারকে দায়ী করা হয়েছে। রিপোর্টারস উইথদাউট বর্ডারে স্পষ্ট করে বলা হয়েছেেএই ক্রমাবনুবতির কারণ বর্তমান কেন্দ্রের শাসক দল। কারণ সরকার বিরোধী কোনো সংবাদ বা প্রবন্ধ  প্রকাশ হলেই,সেই সাংবাদিককে আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে। সরকারের প্রশংসাসূচক লেখা না হলে রেহাই নেই,এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে। উগ্র জাতীয়তাবাদীদের হুমকির ফলে বেশিরভাগ খবর ও লেখাকে সেল্ফ সেন্সরশীপ করতে বাধ্য হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমগুলি। দেশের সংবাদ-মাধ্যম যে মোদীজির আমলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তার প্রমাণ হিসেবে ওই রিপোর্টে সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের খুনের বিষয়টি উল্লেখ্য করা হয়েছে। রিপোর্টে কোন রাখঢাক না রেখেই বলা হয়েছে,”তাঁর সরকার বিরোধী রিপোর্টের জন্য তাঁকে খুন করা হয়েছে। খুনের আগে তাঁকে নানাভাবে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল,তারপর একদিন সত্যিই তাঁকে গুলি করে মেরে ফেলা হল। কারণ তিনি হিন্দুত্ববাদী সরকারের নানা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন।” এই কারণে ২০১৭ সালে আরও তিনজন সাংবাদিককে খুন করা হয়েছে ভারতে বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ্য করা হয়েছে। এছাড়া এদেশের গ্রামীণ সাংবাদিকদের অবস্থা আরও সংকটজনক বলে এই বিশ্ব-সংস্থাটি তাদের রিপোর্টে উল্লেখ্য করেছে। তাদের মতে,গ্রামীণ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা একেবারেই থাকে না। বেতনও ভাল নয়।তাঁদেরকে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করা হয়েছে।

আরএসএফ আরও কঠিন ভাষায়, কেন্দ্রে মোদী সরকারের সমালোচনা করে বলেছে,নরেন্দ্র মোদীর শাসনে ভারতে বিদ্বেষমূলক প্রচার কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করে এই বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে,তা উদ্বেগের। মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকে উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদ যেভাবে মাথা চাড়া দিয়েছে এবং তারা যেভাবে সাংবাদিকদেরও হুমকি দিচ্ছেন তা নিন্দাজনক।কাজেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ভাষা ব্যবহারের জন্যই একের পর এক হত্যা আক্রমণ নেমে আসছে। আর এজন্য মোদীজির আচ্ছা দিনের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেই সংবাদ-মাধ্যমের স্বাধীনতায় আরও দু ধাপ নেমে বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গেল না কী!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংবাদ-মাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে মাঝে-মাঝেই বক্তব্য রাখেন। তিনি হুংকারও দেন,কিন্ত বাস্তব বলছে তিনি উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারছেন না। ফলে সমগ্র বিশ্বে সংবাদ-মাধ্যমের স্বাধীনতায় মানবতাবিরোধী বলে পরিচিতি যে রাষ্ট্র সেই পাকিস্থানের এক ধাপ আগে আমাদের অবস্থান! যদিও এতে আবাক হওয়ার কিছুই নেই মোদীর বন্ধু আমেরিকার ট্রাম্পের দেশও ৪৫ তম স্থানে সংবাদ-মাধ্যমের স্বাধীনতায় অবস্থান করছে।


শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment