প্রচ্ছদ 

শবেবরাত আমাদের কাছে এবাদতের রাত

শেয়ার করুন
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডঃ সৈয়দ মানাল শাহ আলকাদেরী, পীরএ-তরিকত সাজ্জাদানসীন, দায়রা শরীফ কলকাতা

আল্লাহর অসীম করুণায় আমরা হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর উম্মত হতে পেরেছি। মহানবীর উম্মত হওয়ার কারণেই আমরা শবেবরাতের মতো সৌভাগ্যের রজনী লাভ করেছি। এই রাতে আমাদের সকলকে এবাদতে মশগুল থাকতে হবে। বুজুর্গানে দ্বীন বলেছেন যে, ১৪ শাবান আসরের নামাযের পর সূর্য অস্ত যাওয়ার মধ্যে চল্লিশ বার ‘লাহাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আলিউল আজিম’ পড়লে চল্লিশ বছরের গুণা মাফ হয়ে যাবে। ১৫ শাবান সূরা বাকারার শেষ রুকু ২১ বার পড়লে জান ও মালের হেফাজত হবে। এই রাতে সূরা ইয়াসিন তিনবার পড়লে রুজির বরকত হয়, হায়াত বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন বিপদ থেকে নাজাত পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই রাতে সূরা আদ্দুকান ৭ বার পড়লে আল্লাহ্তায়ালা দুনিয়া ও অাখেরাতে ৭০ টি করে ইচ্ছা পূরণ করবেন। এই রাতে সূরা ফাতেহা এবং ১০ বার সূরা এখলাশ সহ ১০০ রাকাত নামায পড়লে তাহলেও ৭০ টা ইচ্ছা আল্লাহ্ আমাদের পূরণ করবেন। হাসান বসরি (রা.) হইতে বর্ণিত, এই রাতে কেউ এইভাবে ১০০ রাকাত নামায আদায় করলে আল্লাহ্তায়ালা ৭০ বার ‘নজরে রহমত’ এর দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রতিবার ৭০ টা উদ্দেশ্য বা ইচ্ছা পূরণ হবে। ইমাম জামাকশারি ও ইমাম রাজী  হইতে বর্ণিত এক হাদিশে জানা যায় রাসুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন, এই রাতে যে ১০০ রাকাত নামায আদায় করেন, তাঁর কাছে আল্লাহ্ তায়ালা ১০০ ফেরেশতা পাঠান। এর মধ্যে ৩০ জন ফেরেশতা জান্নাতের খুুুশির খবর দিয়ে থাকেন। ৩০ জন আযাব থেকে বাঁচানোর জন্য, ৩০ জন দুনিয়ার বিপদ থেকে রক্ষার জন্য ও ১০ জন শয়তানের কাছ থেকে রক্ষা করার জন্য থাকেন। হাদিশ শরীফ মোতাবেক যাঁরা মাগরিবের নামাযের পর ২ থেকে ৬ রাকাত পর্যন্ত আওয়াবিলের নামায পড়েন, তাঁরা ১২ বছরের ইবাদতের শওয়াব পাবেন।  এই হাদিশের কথা উল্লেখ করে বুজুর্গানে দ্বীন বলেছেন এই রাতে আওয়াবিলের নামায পাঠ উত্তম। এই রাতে প্রতি ২ রাকাত নফল নামায তওবার নিয়তে পড়লে ভালো। এই রাতে তাহাজ্বদের নামায পড়া অবশ্যই উচিত। এই নামায ২, ৮ কিংবা ১২ রাকাতও পড়া যায়।

এই রাতে বেশি বেশি করে দরুদ শরীফ পড়া আবশ্যিক। একবার দরুদ শরীফ পড়লে আল্লাহ্তায়ালা ১০ টি রহমত দান করেন ও ১০ টি গুণা মাফ করেন। এই রাতে সাদকা, দান খয়রাত করলেও বেশি বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। মৃত আত্মীয় স্বজনের উদ্দেশ্যে গরীব ও মিসকীনকে খাবার খাওয়ানোও সওয়াবের কাজ। আসতাগ ফিরুল্লাহ্ বেশি বেশি পড়ার সঙ্গে কুরআন তেলাওয়াতও করা উচিত।

হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রা. থেকে বর্ণিত এক রাতে আমি রসুল ( সা.) কে উনার শোওয়ার ঘরে দেখতে পেলামনা। আমি উনার খোঁজ করতে লাগলাম। শেষ পর্যন্ত আমি উনাকে জান্নাতুল বাকীতে দেখলাম। রসুল সা. আমাকে দেখে বলেন, যে তোমার কি মনে হয়, আল্লাহ্ ও রসুল (সা.) তোমার সাথে বেইনসাফি করবেন। আমি বললাম ইয়া রসুলুল্লাহ্ আমি ভাবলাম আপনি বোধ হয়,  অন্য কোনও স্ত্রীর কাছে গেছেন। রসুল পাক ( সা.) বলেন, ১৫ শাবান আল্লাহ্তায়ালা নিজের শান অনুযায়ি দুনিয়া আর আকাশে নাজিল হয় । কবিলায়ে বানু  কোলবের ছাগলদের লোমের চেয়েও বেশি মানুষের মাগফিরাত করে দেন (মুসনাদ আহমাদ বিন হাম্বাল, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা নম্বর ২৩৮, হাদিশ নম্বর ২৬০৬০)। এছাড়া ইমাম বেহাকি ( রহ.), ইমাম তাবরানি, ইমাম তিরমিযিও শবেবরাত সম্পর্কে হাদিশ লিখেছেন। কিন্তু এখানে একটি হাদিশই বর্ণিত করা হয়েছে।


শেয়ার করুন
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment