জেলা 

মালদার সভা থেকে বাংলা বদলের ডাক দিলেন অমিত শাহ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : আগামী লোকসভা ভোটে বাংলাকে  পাখির চোখ করেছে বিজেপি । সেজন্য রাজ্যে একাধিক জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ। আজ মালদা জেলায় এক জনসভায় যোগ দেন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ । বক্তব্যের শুরুতেই অমিত শাহ জানিয়ে দেন, আগামী লোকসভা ভোট উপলক্ষে তিনি এই সভায় এসেছেন। এবারের নির্বাচন অন্য রাজ্যের কাছে দেশের ভোট হলেও এই রাজ্যের কাছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রাজ্যে বিজেপিকে রথ যাত্রা করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু মমতার সরকারকে এখান থেকে উৎখাত করতে হবে। সেই সংকল্প করেই তাঁরা সবাই মালদায় এসেছেন। এই রাজ্য রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, নেতাজির রাজ্য। একসময় এই রাজ্যের সংস্কৃতি দেশের মধ্যে এগিয়ে ছিল। কিন্তু এখন কোন অবস্থায় রয়েছে? এখানে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। এখানে খুনের সরকার চলছে। তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের আস্তানা দিচ্ছে। এখানে দুর্গাপুজো কিংবা সরস্বতীপুজোর অনুমতি দেওয়া হয় না। এবার এখানে কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচন হবে না। এখানে সংস্কৃতি রক্ষার লড়াই হবে।

অন্য ক্ষেত্রেও বাঙালিরা দেশের মধ্যে সবার আগে ছিল। কিন্তু প্রথমে কমিউনিস্ট শাসন, এখন মমতার শাসনে সেই বাংলা কোন জায়গায় পৌঁছেছে? যে বাংলা একসময় দেশের মধ্যে ২৭ শতাংশ উৎপাদন করত, মমতার আমলে তা হয়েছে ৩.৩ শতাংশ। বাঙালিকে তৃণমূল এখন কাঙালি বানিয়ে দিয়েছে। সরকারি চাকরিতে ৩২ শতাংশ আগে বাঙালিদের হাতে থাকত। এখন থাকে মাত্র ৪ শতাংশ। বাঙালিরা কমিউনিস্ট শাসন শেষ করে তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছেন। কিন্তু এখন যা অবস্থা, তাতে মানুষই বলছে, এর থেকে কমিউনিস্ট শাসনই ভালো ছিল। প্রত্যেক ৫ জনে একজন এখানে গরিব। তাঁদের যাত্রা রাজ্যের প্রতিটি ঘরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু মমতা বুঝে ফেলেছিলেন, সেই যাত্রা তাঁর অন্তিম যাত্রা হতে চলেছে। তাই তিনি সেই যাত্রা বন্ধ করে দেন।

অমিত শাহ আরও বলেন, “দেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা বাংলার মানুষই ঠিক করবেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই রাজ্যে ৬৫ জন BJP কর্মী খুন হয়েছেন। ১৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এক কোটির বেশি মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আমি আজ তৃণমূলকে বলে যাচ্ছি, এই ছবি যেন আর না আঁকতে যায় তারা। তাতে ফল খুব খারাপ হবে। কারণ, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনীর নিরাপত্তায় এই ভোট হবে। তাই আর কেউ ভোট দিতে যেতে ভয় পাবেন না। এই রাজ্যের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রচুর অর্থ দেয়। UPA সরকারের শেষ ৫ বছরে কেন্দ্র এই রাজ্যের জন্য ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা দিয়েছিল। নরেন্দ্র মোদির সরকার ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা দিয়েছে। এরা এসব দেখতে পায় না।

বিজেপিচায় দেশ থেকে গরিবি, বেকারত্বের মতো সমস্যা হঠাতে। কিন্তু এরা শুধু চায় মোদিকে হঠাতে। এখানে চারদিকে সিন্ডিকেট ট্যাক্স দিতে হয়। এই ট্যাক্সের টাকা কোথায় যায়? বিজেপি দেশের ১৬টি রাজ্যে ক্ষমতায় আছে। কোথাও এই ট্যাক্স কাউকে দিতে হয় না। এই রাজ্য এখন অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গ। এনিয়ে আমরা বিল পাশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ভোটের স্বার্থে তৃণমূল লোকসভা ও রাজ্যসভা অচল করে দিয়েছিল। সবাইকে আশ্বস্ত করছি, বিজেপি প্রত্যেক উদ্বাস্তুকে এদেশের নাগরিকপত্র দেবে।

আগামী লোকসভা নির্বাচনে এই বিষয়টি ইস্যু হতে চলেছে। আমরা ক্ষমতায় এলে একটিও গোরু পাচার হবে না। এখানে তো দুর্গা প্রতিমার বিসর্জনও দিতে দেওয়া হয় না। এখানকার সংস্কৃতি নিয়ে আর কী বলা যাবে? এখানে আগে রবীন্দ্রসংগীত শোনা যেত। এখন বোমার আওয়াজ শোনা যায়। তাই এই বাংলার বদলের প্রয়োজন এসেছে। এখানে ফের চৈতন্যের কীর্তনের সঙ্গে রবীন্দ্র সংগীত শোনা যাবে। এখানে প্রশাসনেরও রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। তাঁর হেলিকপ্টার নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। কিন্তু প্রশাসনিক কর্তারাই বা কী করবেন? কপ্টার নামতে না দেওয়া হলে আমি কপ্টারে বসেই ভাষণ দিতাম।”

তিনি আরও বলেন, “এই রাজ্যে সরকারি কর্মীদের DA কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের তুলনায় ৪৯ শতাংশ কম। এখানে সারদা, নারদের মতো ঘটনা ঘটে। এসব নিয়ে বলতে গেলে আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়। কিন্তু তাতে মুখ বন্ধ করা যাবে না। কথায় কথায় মমতাজি বিজেপি আক্রমণ করেন। তিনি যেন মনে রাখেন, যত কাদা ছোড়া হবে, ততই পদ্ম ফুটবে। এখানে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আসতে গরিব মানুষ পোস্ট অফিসে যান। কিন্তু তৃণমূলের লোকজন সেই কার্ড পোস্ট অফিসে গিয়ে ছিনিয়ে নেয়। নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর জন্য ১২৯টি প্রকল্প চালু করেছেন। কিন্তু মমতাজি সেই সব প্রকল্পের সুবিধা থেকে গরিব মানুষকে বঞ্চিত করছেন। শুধু জোট আর জোট। এটা কিসের জোট? ব্রিগেডের সভায় ৯ জন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আসলে ওঁদের অনেক প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তাঁদের প্রধানমন্ত্রী একজনই। তিনি নরেন্দ্র মোদি। আসলে বিরোধী জোটের অ্যাজেন্ডা একটাই। শুধু মোদির বিদায়। কিন্তু মজবুত সরকার শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদিই দিতে পারেন, অন্য কেউ নয়।

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment