দেশ 

রাফাল ইস্যুতে আরও বেকায়দায় মোদী সরকার ; রাহুলের শ্লোগান “ চৌকিদার চোর হ্যায় “ জনমানসে আরও ধারণা স্পষ্ট হল প্রকাশিত ‘ দি হিন্দুর ‘ নিবন্ধে কী ?

শেয়ার করুন
  • 25
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : রাফাল বির্তক যেন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে তাড়া করছে । সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পাওয়ার পরও মানুষের দরবারে যেন নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি আরও বেশি করে অস্বস্তিতে পড়ছে । রাহুল গান্ধী নিয়ম করেই বলে চলেছেন তাঁর প্রশ্নের উত্তর না দিলে তিনি বলে যাবেন , “ চৌকিদার চোর হ্যায় “ । আবার বিজেপির প্রবীণ নেতা যশবন্ত সিনহা , অরূণ শৌরি ও সাংসদ শত্রূঘ্ন সিনহারা প্রকাশ্যে বলছেন রাফাল ডিল নিয়ে যে দূনীর্তি হয়েছে তা স্বাধীনতারপর আর কোনো সময় হয়নি । এই সমালোচনা যখন চলছে ঠিক সেই সময় ভারতের ঐতিহ্যবাহী ইংরেজি সংবাদ পত্র দি হিন্দু পত্রিকায় প্রখ্যাত সাংবাদিক এন রাম এক প্রবন্ধে দাবি  করেছেন রাফাল বিমান কেনার চুক্তিতে অতিরিক্ত ৪১.৪২ শতাংশ বেশি দামে কেনার চুক্তি হয়েছে । প্রতিরক্ষা দফতরের অফিসারদের আপত্তি থাকা সত্ত্বে  তাদের দাবিকে মান্যতা দেয়নি মোদী সরকার বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক এন রাম ।

‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক এন রাম, এই বিষয়ে সম্প্রতি একটি নিবন্ধে ‘দ্য হিন্দু’-র হাতে আসা কিছু নথি ঘেঁটে তিনি দাবি করেছেন, ১৩টি ‘ইন্ডিয়া স্পেসিফিক এনহ্য়ান্সমেন্ট’ এবং ১২৬টির বদলে মাত্র ৩৬টি বিমান কেনাই এই বিস্ময়কর মূল্য বৃদ্ধির মূল কারণ। প্রখ্যাত সাংবাদিক এন. রাম অভিযোগ করেছেন , এই বিষয়ে সরকারি অফিসারদের আপত্তিকেও পাত্তা দেয়নি মোদী সরকার। এ বিষয়ে এন রাম লিখেছেন ,এই যুদ্ধবিমান জোগানের টেন্ডার-লাভের ৫ বছর আগে ডাসল্ট এভিয়েশন সংস্থা প্রতিটি রাফালে বিমানের দাম জানিয়েছিল ৭৯.৩ মিলিয়ন উইরো। ২০১১ সালে যন্ত্রাংশের খরচ বাড়ার কারণে সেই মূল্ গিযে দাঁড়ায় ১০০,৮৫ মিলিয়ন ইউরো.য়। ২০১৬ সালে এনডিএ সরকার ৩৬টি বিমান কেনার চুক্তি পাকা করার সময় ৯ শতাংশ ছাড় দিয়ে প্রতিটি বিমানের দাম হয় ৯১.৭৫ মিলিয়ন ইউরো।
কিন্তু অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণ ভারতীয় বায়ুসেনার চাওয়া ওই ১৩টি ‘ইন্ডিয়া স্পেসিফিক এনহ্য়ান্সমেন্ট’, অর্থাত ভারতীয়দের নির্দিষ্ট চাহিদা পুরণের জন্য অতিরিক্ত কিছু হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারগত আপডেট। এর জন্য় ডাস্লট সংস্থা বাড়তি ১.৪ বিলিয়ন ইউরো দাবি করেছিল। এর আগে সেই অতিরিক্ত খরচ ১২৬টি বিমানে ভাগ হওয়ার ফলে প্রতি বিমান পিছু খরচ পড়ছিল ১১.১ মিলিয়ন ইউরো। চুক্তির সময় দরাদরিতে এই অর্থটা ১.৩বিলিয়ন ইউরোয় নামাতে পেরেছিল এনডিএ সরকার। যা মাত্র ৩৬টি বিমানের মধ্যে ভাগাভাগি হওয়ায় প্রতি বিমান পিছু বাড়তি খরচ হয়েছে ৩৬.১১ মিলিয়ন ইউরো।

এন রাম জানিয়েছেন, দ্য হিন্দুর হাতে আসা নথি অনুযায়ী দরাদরির সেই ৭ সদস্যের অফিসারদের মধ্যে, রাজীব ভার্মা, জয়েন্ট সেক্রেটারি ও অ্যাকুইজেশন ম্যানেজার (এয়ার), অজিত সুলে, ফিনান্শিয়াল ম্যানেজার (এয়ার), এবং এমপি সিং, অ্যাডভাইজার (কস্ট) – এই ৩ জন আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের পেশ করা নোটে বলা হয়েছিল এই ‘ইন্ডিয়া স্পেসিফিক এনহ্য়ান্সমেন্ট’-এর মূল্য়টা অত্যন্ত চড়া।

নিরাপত্তার খাতিরে এই ১৩টি ইন্ডিয়া স্পেসিফিক এনহ্যান্সমেন্ট সরকারের তরফ থেকে গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও এই সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য ইতিমধ্যেই জন সমক্ষে এসেছে। এন রামও তার কয়েকটির কথা নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে, রেডারের পাল্লা বৃদ্ধি করা। হেলমেটেই ডিসপ্লের ব্য়বস্থা করা, যার মারফত বিভিন্ন তথ্য সহজে দেখতে পারবেন পাইলট। উচ্চ স্থান থেকেও ওড়ার ক্ষমতা। এছাড়া ইনফ্রারেড সার্চ অ্যান্ড ট্র্যাক সেন্সর, ইলেকট্রিক জ্যামার পড ইত্যাদি।

তবে রাম জানিয়েছেন চাপ দিয়ে এই মূল্যটা কমানোর পথ ছিল মোদী সরকারে হাতে। তিনি জানিয়েছেন, ইউরোপিয়ান এরোনটিকস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস সংস্থা ভারতীয় বায়ুসেনার চাহিদা পূরণের যোগ্য রাফালের মানের বিমান জোগানে আগ্রহী ছিল। তাঁরা ২০ শতাংশ ছাড়ও দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তা দরপত্র ডাকার সময়ের পরে দেওয়ায় সেই অফারকে পাত্তা দেওয়া হয়নি। সেই অফারকে ব্যবহার করে রাফালের দাম কমানোর চেষ্টাও করা হয়নি।

এন রামের এই নিবন্ধের পরই কংগ্রেস তেড়ে ফুড়ে আবার মোদী বিরুদ্ধে সরব হয়েছে । কংগ্রেস নেতা নেতা পি চিদম্বরম সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন বায়ুসেনার ১২৬টি বিমানের প্রয়োজন থাকলেও সরকার কেন ৩৬টি বিমান কিনল, এই নিবন্ধের পর সেই প্রশ্নটা আরও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।  তিনি অভিযোগ করেছেন , সরকার জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আসলে ছিনিমিনি খেলছে । এটা চলতে দেওয়া যাবে না ।

উল্লেখ্য , রাফাল ইস্যুতে ইতিমধ্যে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদীকে কটাক্ষ করে বলছেন , চৌকিদার চোর হ্যায় । গতকালও মমতা ডাকা  মোদী বিরোধী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ শত্রূঘ্ন সিনহাও মোদীকে কটাক্ষ করে বলেছেন , রাফাল নিয়ে তিনটি প্রশ্নের উত্তর না দিলে আমরা বলতেই থাকব , ‘চৌকিদার চোর হ্যায় ‘।

মনে করা হচ্ছে , দি হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত এন রামের নিবন্ধের পর আবার নতুন করে রাফাল ইস্যুতে কংগ্রেস সহ বিরোধীরা মোদীকে টার্গেট করবে । লোকসভা নির্বাচনে আগে রাফাল ইস্যুতেই বেকায়দায় পড়তে পারে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি ।


শেয়ার করুন
  • 25
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment