কলকাতা 

মাদ্রাসা বোর্ডে গণতান্ত্রিক কাঠামো স্থাপনের জন্যই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি: আবু সোহেল

শেয়ার করুন
  • 55
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা বোর্ড দেশের শিক্ষা মানচিত্রে নজীর হয়ে রয়েছে। সরকার অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলির পঠন-পাঠন দেখভালের জন্য,সিলেবাস তৈরি সহ প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করার জন্য ৭০ দশকেই মাদ্রাসা বোর্ড কাজ শুরু করে। যদিও এর আগে, অালিয়া মাদ্রাসার রেজিষ্টারের অধীনে রাজ্যের মাদ্রাসাগুলি ছিল।বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা জনাব শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে সিদ্ধার্থ শঙকর রায়ের আমলেই মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার লক্ষে মাদ্রাসা বোর্ড স্থাপিত হয়(১৯৭৩ সালে)।মাদ্রাসা বোর্ডের শুরুতে তেমন কোনো আইন ছিল না।১৯৯৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালিন বিচারপতি জনাব খাজা ইউসুফ সাহেবের নির্দেশে মাদ্রাসা বোর্ড পরিচালনা করার জন্য এক আইন প্রণয়ন করে রাজ্য সরকার।এই আইনে বলা হয়,মাদ্রাসা বোর্ড গঠিত হবে ৬ জন সদস্যকে নিয়ে। এছাড়া একজন সভাপতিও থাকবেন। এই ৬ জন প্রতিনিধির মধ্যে তিনজন হবেন শিক্ষকদের মধ্য থেকেেআর তিনজন হবেন অশিক্ষক কর্মচারিদের মধ্য থেকে। এরা সবাই সমস্ত সরকার অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলির শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারিদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সদস্য হবেন।

কিন্ত আইন থাকা সত্ত্বেও তা যেমন বামেরা কার্যকর করেনি,তেমনি মা-মাটি-মানুষের সরকারও তা করেনি। সব সরকারই মনোনিত সদস্য পাঠিয়েছে। সরকারের অনুগত মাদ্রাসা শিক্ষকরা বরাবরই সদস্য হয়েছেন। ২০১০ সালে তৎকালিন বামফ্রন্ট সরকার মাদ্রাসা বোর্ডকে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্টানের স্বীকৃতি দেয়। স্বাভাবিকভাবেই সংবিধানের ৩০এ ধারা অনুসারে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্টানের মর্যাদা দেওয়া হলে তার পরিচালন ক্ষমতাও সংখ্যালঘুদের হাতেই চলে যায়। সাংবিধানিক এই অধিকারকে সামনে রেখেই মাদ্রাসা বোর্ডে গণতান্ত্রিক কাঠামো স্থাপনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী জনাব আবু সোহেল। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,আমার মাদ্রাসা বোর্ডের বিরোধী নই। আমরা মাদ্রাসা বোর্ডের গঠনতন্ত্রের বিরোধিতা করে ১৯৯৪ সালের আইনের ৪,৫,৯ ও ১০ নম্বর ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছি মাত্র। এই চারটি ধারাতেই মাদ্রাসা বোর্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধান মতে,সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্টানের পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার নাক গলাতে পারে না। আমরা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছি,বোর্ডের সভাপতি নির্বাচন থেকে শুরু করে সদস্য নির্বাচনে রাজ্যের ৬১৪ টি সরকার অনুমোদিত মাদ্রাসার শিক্ষক,পরিচালন সমিতি  এবং অশিক্ষক কর্মচারিদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বোর্ড গঠিত হোক।এটা হলে আমরা মনে করছি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে এবং আরও উন্নত হবে মাদ্রাসা শিক্ষা।

আর একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,সোস্যাল মিডিয়ায় কিছু ভুল বার্তা দেওয়া হচ্ছে। ডাক বিভাগের চাকরিতে কেন মাদ্রাসার সার্টিফিকেটকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না,তা একমাত্র ডাক বিভাগই বলতে পারবে।তারাতো এটা বলছে না,মাদ্রসা বোর্ডের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা আছে বলেই তারা এই সার্টিফিকেটকে গুরুত্ব দিচ্ছে না! তাহলে আপনাদের দায়ি করা হচ্ছে কেন? এর উত্তরে তরুণ আইনজীবী আবু সোহেল বলেন, এটা অপপ্রচার মাত্র। আমরা সবাই মাদ্রাসা বোর্ডের পক্ষে,কিন্ত মাদ্রাসা বোর্ডে গণতন্ত্র ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চাওয়া কী অপরাধ?

এদিকে মনু মেমোরিয়াল ইন্সটিটিউশনের টিচার-ইনচার্জ জনাব আবদুল ওয়াহাব বলেন,আবু সোহেল মাদ্রাসা বোর্ডে ১৯৯৪ সালের আইনকে চ্যালেঞ্জ করে যে মামলা করেছে তা আমরা পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। এটা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি যে মাদ্রাসা বোর্ডের সদস্য ও সভাপতি নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়োগ করতে হবে। তিনি আরও বলেন,আমার মনে  হয়,পশ্চিমবাংলার ৬১৪টি মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালন সমিতি এই দাবির পক্ষেই সহমত পোষণ করবেন।


শেয়ার করুন
  • 55
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment