অন্যান্য 

ভার্মাকে সরিয়ে নরেন্দ্র মোদী নিজেই রাহুল গান্ধীর বিখ্যাত শ্লোগান “ চৌকিদার চোর হ্যায় “-র পক্ষেই জনমতকে সক্রিয় করলেন

শেয়ার করুন
  • 30
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : শুক্রবার নয়া দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিজেপির জাতীয় কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় । সেই সভায় বিজেপি দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা লালকৃষ্ণ আদবানী যখন প্রদীপ জ্বালিয়ে সভার উদ্ধোধন করেন তখন করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে । উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মঞ্চে ওঠার সময়ও দেখা গেল করতালিতে মুখরিত রামলীলা ময়দান । আর নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে এলেন , সেভাবে উৎসাহ দেখা গেল না বিজেপির কর্মী নেতাদের মধ্যে । অবশ্য বিজেপির অনেকেই মনে করছেন ২০১৯-র সম্ভাবনাময় জয়ের পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর কয়েকটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। নোটবন্দী করার সময় কোনো অর্থনীতিবিদ তো দূরের কথা খোদ বিজেপি দলেও তিনি আলোচনা করেননি । সেই নোট বন্দীর ফল এখন দেশের মানুষ হাড়ে-হাড়ে টের পাচ্ছে । জিএসটি চালু করে দেশের কোষাগার ভর্তি হচ্ছে ঠিকই , কিন্ত পরিকল্পনাহীন জিএসটি চালু করে আসলে সাধারণ মানুষের উপর বোঝা চাপিয়েছে বিজেপি সরকার । সাধারন মানুষের উপর বোঝা চাপিয়ে নীরব মোদী , বিজয় মালিয়ার মত শিল্পপতিদের ঋণ ছাড় দেওয়া হয়েছে কিংবা তাদেরকে বিদেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য করা হয়েছে ।

অন্যদিকে, রাফাল ইস্যুতে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদীর স্বরুপ উদঘাটিত হয়েছে । সরকারি সংস্থা হ্যালকে বাদ দিয়ে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা অনিল আম্বানীর সংস্থাকে কেন রাফালের বরাত দেওয়া হল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে খোদ বিজেপি দলের অন্দরে বলে জানা গেছে ।  কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী যতবার এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন ততবারই নরেন্দ্র মোদী এর কোনো জবাব দেননি । বরং বোর্ফস যেটা এখন মানুষের কাছে কোনো ইস্যুই নয়, সেটাকে বারবার তুলে ধরে মোদী নিজেকে আরও বেশি হাস্যকর করে তুলেছেন । ২০১৪ সালে যিনি দেশের মানুষকে দূনীর্তি মুক্ত সরকার গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেই তিনিই রাফাল দূনীর্তি যেটা তাঁকে টার্গেট করেছে কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ উঠেছে সেটা নিয়ে নিরব থাকাটা দেশবাসী তো বটেই খোদ বিজেপি দলের কর্মী-নেতাদের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

আসলে গত দুবছর ধরে মোদীজি যা করছেন তার সবটাই ভুল করছেন । তিনি হয়তো বিষয়টি উপলদ্ধি করতে পারছেন না , তবে এটা ঠিক দিন দিন তাঁর পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে । সম্প্রতি বিজেপি ঘনিষ্ট এক সংবাদ মাধ্যমের সমীক্ষাতেই উঠে এসেছে এখনই নির্বাচন হলে ক্ষমতায় আসতে পারবে না এনডিএ । এরপরেই যেন মনে হচ্ছে ক্ষমতায় ফিরতে আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন মোদী-অমিত শাহ । দেশের সাংবিধানিক সংস্থাগুলির স্বাধীনতাকে খর্ব করতে তৎপরতা দেখাচ্ছেন মোদীজি । কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন সিবিআই ডিরেক্টর অলোক ভার্মা রাফাল দূনীর্তি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিলেন বলেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে । তারপর যমুনা নদী দিয়ে অনেক জল প্রবাহিত হয়ে গেছে । অলোক ভার্মা সুপ্রিম কোর্টে যান । তিনি আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হন । আদালত তাঁকে পুনরায় সিবিআই ডিরেক্টর পদে বসান । তবে শর্ত অনুযায়ী সিলেক্ট কমিটিকে পুনরায় বৈঠক করে তাঁকে ওই পদে কাজ করতে দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলে দেশের শীর্ষ আদালত ।

দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি তিন সদস্যের উচ্চ-পর্যায়ের কমিটির কাছে বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পাঠিয়ে মোদীকে হয়তো পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন । আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মোদীজি নিজেকে উদার এবং স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ সর্বোপরি সিবিআই-র স্বাধীনতাকে অক্ষুন্ন রাখতে পারতেন । অলোক ভার্মাকে পুনরায় ওই পদে বসিয়ে নিজের ভাবমূর্তি জনতার আরও বেশি উজ্জ্বল করতে পারতেন । তা তিনি করলেন না । সরিয়ে দিলেন ভার্মাকে । ফলে রাহুলের বিখ্যাত শ্লোগান “ চৌকিদার চোর হ্যায় “ জনমনে খানিকটা হলেও স্থান পেয়ে গেল । ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে দেশের মানুষের কাছে স্বচ্ছ ভারত গড়ার যে অঙ্গিকার তিনি করেছিলেন তা ভুলে গেলেন । আর তাঁর এই ভুলেই ক্রমেই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছেন রাহুল গান্ধী । একদিন যাকে ব্যঙ্গ করে মোদিজি পাপ্পু বলতেন , আজ দলীয় সভায় দাঁড়িয়ে সেই পাপ্পুর নাম ধরেই আক্রমণ করতে হয় । গান্ধী পরিবার মুক্ত ভারত গড়ার শপথ নিয়েও মোদী-অমিতদের এখন প্রতিটি সভায় তাঁদের বিরুদ্ধেই নিয়ম করে বলতে হচ্ছে । কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়ার শপথ নিয়ে কংগ্রেসের কাছেই এখন নাকানি-চোবানি খেতে হচ্ছে মোদী-অমিতদের ।

অলোক ভার্মাকে সিবিআই-র ডিরেক্টর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন । পদত্যাগ করার পর তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন,‘সিবিআইয়ের উচিত বাইরের প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করা। সিবিআইয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। আমি সেটাই ধরে রাখার চেষ্টা করছিলাম।’ পদত্যাগের পর ভার্মার এই উক্তি দেশের জনমানসে যে ব্যাপক প্রভাব পড়বে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে ৩১ জানুয়ারি তো ভার্মা এমনিতেই অবসর নিতেন তাহলে এই কটা দিন তাঁকে রেখে দিলে কী ক্ষতি হত ? এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর নরেন্দ্র মোদীর কাছে নেই বলে আমাদের মনে হয়েছে । তাহলে ভার্মা কী সঠিক বলেছেন ? তিনি সিবিআই-র বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলেই কী তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল ? রাহুলের রাফাল ইস্যুতে “ চৌকিদার চোর হ্যায় “ বলার পর ভার্মার মতে চৌকিদারের হাতেই সিবিআই-র বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে এই বক্তব্যের পর মানুষের কাছে মোদীজির স্বচ্ছ ভারত গড়ার অঙ্গিকার অনেকটাই ম্লান হয়ে গেল  ।

 

 

 

 

 

 

 

 


শেয়ার করুন
  • 30
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment