দেশ 

রাফাল ইস্যুতে আরও কোনঠাসা মোদী ; রাহুলের বোমায় কার্যত দিশেহারা বিজেপি ; কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলে ফৌজদারি তদন্ত হবে কড়া প্রতিক্রিয়া কংগ্রেস সভাপতির

শেয়ার করুন
  • 46
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক :  সংসদের ভিতরে এবং বাইরে রাফাল নিয়ে কংগ্রেস সভাপতির আক্রমণাত্মক বক্তব্যে বিব্রত মোদী ব্রিগেড । রাহুলের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বরং নানা ভাবে রাহুল এবং তার পরিবারকে আক্রমণ করা হয়েছে । ইন্দিরা গান্ধীকে স্বেরাচারি বলে অভিহিত করেছে অরুন জেটলি । কিন্ত রাফাল ইস্যুর সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর কী সর্ম্পক তার ব্যাখা দিতে পারেননি জেটলি । গত কালই রাহুল গান্ধী রাফাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলেন । সেগুলি হল , “প্রতিটি রাফাল এয়ারক্রাফটের দাম ৫৬০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০০ কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত কে নিল ? এয়ারফোর্সের ১২৬টি এয়ারক্রাফট প্রয়োজন ছিল। কে সেই সংখ্যাটিকে নামিয়ে আনল ? চুক্তিটি অনিল আম্বানিকে দেওয়ার বিষয়টি কে ঠিক করল ? প্রতিরক্ষামন্ত্রক বা রাফাল চুক্তিতে দরকষাকষির জন্য যে দলটি ছিল তা কি নতুন চুক্তির কোনও বিষয় নিয়ে আপত্তি তুলেছিল?”
এই প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীকে করা হলেও তা নিয়ে অন্য কোনো মন্ত্রী মুখ খুলেননি । বরং নানভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে । তাই আজ সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “রাফাল চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে যান। অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি দীর্ঘ বক্তৃতা দেন ও আমায় কূমন্তব্য করেন। কিন্তু, আমার প্রশ্নের উত্তর দেননি। কংগ্রেস সহ বিরোধীদলগুলি চায় প্রধানমন্ত্রীর হয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কথা বলুন। আমরা যে প্রশ্নগুলি তুলেছি, সেগুলির উত্তর দেওয়া উচিত।”

কংগ্রেস সভাপতি রাফাল ইস্যুতে আবার চেপে ধরেছে কেন্দ্র সরকারকে । তিনি বলেছেন , “দুর্নীতির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও তদন্ত করা উচিত।” কিন্তু, কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তাকে দুর্বল করেছেন প্রধানমন্ত্রী ? সে বিষয়ে রাহুল বলেন, “আন্তর্জাতিক ঋণ মাস্টার ও নিজের বন্ধু অনিল আম্বানিকে চুক্তিটি দিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে দুর্বল করেছেন প্রধানমন্ত্রী।” যুবসমাজকে কংগ্রেস সভাপতি অনুরোধ করেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রী কী বলছেন তা মন দিয়ে শোনো তোমরা।”

কংগ্রেস আরও দাবি করেছে “রাফাল চুক্তির ফাইল থেকে নোংরা রহস্য, দুর্নীতি ও কুকর্ম বেরিয়ে আসছে। প্রতারণার পুরো স্পেকট্রাম প্রধানমন্ত্রীর কাছেই রয়েছে। রাফাল চুক্তির সময় দরকষাকষির জন্য যে দলটি ছিল, তারা বেশ কিছু বিষয়ে আপত্তি তোলে। কিন্তু, সেই আপত্তিকে অগ্রাহ্য করেন প্রধানমন্ত্রী।” রাফাল চুক্তি নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি তদন্তের দাবিতে অনড় থাকে তারা।

পাশাপাশি, একটি রিপোর্ট তুলে ধরে কংগ্রেস অভিযোগ করে, “দাশোর আর্থিক রিপোর্ট অনুযায়ী কাতার ও ইজিপ্টকে কম দামে রাফাল বিক্রি করেছিল তারা। আর যেখানে চিন ও পাকিস্তানের দিক থেকে ক্রমাগত চাপ বাড়ছে, সেখানে এটা কি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা নয় ?”

এই দাবিগুলির পাশাপাশি রাহুল গান্ধী বলেছেন , ২০১৯ ক্ষমতায়েএলে রাফাল চুক্তি নিয়ে ফৌজদারি তদন্ত হবে । আজকের রাহুলের সাংবাদিক সম্মেলনের পর এটা পরিস্কার হয়েছে রাফাল ইস্যু নিয়ে আগামী দিনে মোদী সরকারকে বেশ চাপে রাখবে কংগ্রেস । আর এই একটি ইস্যুতেই বিজেপি এবং মোদীকে অনেক বেশি বিব্রত মনে হচ্ছে । বলা যেতে পারে রাহুলের বোমায় কার্যত দিশেহারা বিজেপি ব্রিগেড ।

 

 

 

 

 


শেয়ার করুন
  • 46
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment