অন্যান্য 

তৃণমূল কংগ্রেসের ২১তম প্রতিষ্ঠা দিবসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেশের প্রধানমন্ত্রী করার আহ্বান কর্মীদের

শেয়ার করুন
  • 45
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : হাঁটি হাঁটি পা পা করে নানান চড়াই উতরাই পার হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস দলটি ২১ বছরে পা দিল । এখন তৃণমূল আর ছোট দল নয় ; রাজ্যে ক্ষমতাসীন দল, দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে রয়েছে তার শাখা । ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূল দল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কংগ্রেসের তাবড় তাবড় নেতারা বলেছিলেন দলের মূল স্রোত থেকে বেরিয়ে গিয়ে কেউ সাফল্য পায়নি । প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী পাননি , প্রণব মুখার্জি পারেননি , মমতা কীভাবে পারবেন ? কিন্ত দলের মূলস্রোত থেকে বেরিয়ে এসে মমতা পেরেছেন । কারণ তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন । মানুষের সুখ-দুঃখের শরীক হয়েছিলেন বলেই মানুষ তাঁকে বিশ্বাস করেছিল । ৩৪ বছরের বাম জামানার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় মা-মাটি-মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি ।

তারপর কেটে গেছে ৮ বছর । রাজ্যের অন্যতম সফল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইতিমধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের সেরা মুখ্যমন্ত্রীর স্বীকৃতি পেয়েছেন । শুধু তাই নয় , জনপরিষেবার ক্ষেত্রে কন্যাশ্রী প্রকল্পের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন । তবে একথা স্বীকার করতে হবে সরকার চালাতে গিয়ে কোথাও কোথাও তিনি ভুল যে করেননি তা নয় । তবে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন । তাঁর মস্তিস্ক প্রসূত প্রকল্পগুলির মধ্যে কন্যাশ্রী , যুবশ্রী রূপশ্রী এবং কৃষক বন্ধু প্রকল্পগুলি জনমানসে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে । গরীব-মেহনতি-নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষদের জন্য তিনি প্রতিনিয়ত কাজ করে যে চলেছেন তা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না । তবে দল পরিচালনা ক্ষেত্রে তাঁর খানিকটা যে খামতি আছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই ।

আর কয়েক মাস পরই দেশে অনুষ্ঠিত হবে সাধারণ নির্বাচন । এই নির্বাচন দেশের মানুষের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে । আর এসএস বিশ্ব হিন্দু পরিষদ যেভাবে দেশজুড়ে হিন্দু রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে তা বিগত ৭২ বছরে দেখা যায়নি । মোদী ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুত্ববাদীরা বেলাগাম ছুট পেয়ে গেছে । দেশের সংবিধানকেও এরা মানছে না । শুধু তাই নয় মোদী সরকার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে । সিবিআইকে এক সময় স্বচ্ছ সংস্থা বলে সাধারণ মানুষ মনে করত কিন্ত দেখা গেল মোদীর আমলে সেই সিবিআই-র পদস্থ অফিসারদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে । এক তরফাভাবে সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান বলে কথিত সিবিআইয়ের উপর । সিবিআই-র মত সংস্থাকে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে সুবিচারের আশায় । যে সংস্থা এতদিন মানুষকে সুবিচার পাইয়ে দিত সেই সংস্থা মোদীর আমলে নিজেই সুপ্রিম কোর্টে ইনসাফ প্রার্থী ।

তাই ২০১৯ নির্বাচন দেশের গনতন্ত্র ও সংবিধানকে বাঁচানোর নির্বাচন । সেই নির্বাচনে যদি বিজেপি একক গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি যে সমূলে বিনষ্ট হবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই । এই প্রেক্ষাপটে দেশের ঐক্য সংহতি রক্ষায় সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির এক জোট হওয়া জরুরি । ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে দেশের রাজনীতিকদের মধ্যে রাহুল গান্ধীর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান । এ নিয়ে কারও কোনো দ্বিমত নেই ।

সুতরাং আগামী লোকসভা নির্বাচনে যদি দিল্লিতে বিজেপি একক গরিষ্ঠতা না পায় ; আবার কংগ্রেসও গরিষ্ঠতা না পায় তাহলে দেশের অধিকাংশ বিজেপি বিরোধী দলের নেতাদের কাছে গ্রহনযোগ্য নেতা কে হবেন ? এই প্রশ্নটাই উঠবে । সেক্ষেত্রে সোনিয়া গান্ধীর সমর্থন পেলে বাঙালি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যেতে পারে । দেশের মধ্যে একমাত্র কংগ্রেসই একটি দল যে অনেক সময় নিজে সরকারে না গিয়ে সরকার গড়তে পেছন থেকে সাহায্য করেছে । তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না এই ধারনা ঠিক নয় । কর্ণাটকে যদি কুমারস্বামীর দল তৃতীয় হয়েও মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন তাহলে মমতারও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে ।

আর এই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই তৃণমূলের ২১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে রাজ্যের গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই তৃণমূল কর্মীরা শপথ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২০১৯-এ দেশের প্রধানমন্ত্রী করার । কলকাতার মেয়র ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও আজ প্রতিষ্ঠা দিবসের দিনে বলেই ফেললেন দিদিকেই আমরা প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই । রাজ্যের প্রতিটি বাঙালি আজ মনে মনে প্রার্থনা করছে আগামী লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন বাঙালি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাইসিনা হিলে শপথ নেন ।

 


শেয়ার করুন
  • 45
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment