অন্যান্য 

দেশের সব নাগরিকের মোবাইল –কমপিউটারে নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে মোদী সরকার দেশের সাধারন মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে : ড. আবদুস সাত্তার

শেয়ার করুন
  • 50
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি :  কমপিউটারের পর হোয়াটসঅ্যাপেও নজরদারি চালানোর জন্য জানুয়ারি মাসে বৈঠক করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার । প্রয়োজনে আইন সংশোধনের কথা ভাবছে । সোস্যাল মিডিয়ার পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকে করে এই সব সামাজিক মাধ্যমগুলির উপর নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্তের কথা সরকার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেবে । তাদের সহযোগিতা চাইবে । আর তারা যাতে সহযোগিতা করতে বা্ধ্য হয় তার জন্য আইটি আইন সংশোধনের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে । বাংলার জনরব গতকাল থেকেই বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মীদের এ বিষয়ে মতামত প্রকাশ করছে । আজ এই প্রসঙ্গে মতামত জানিয়েছেন , প্রাক্তন মন্ত্রী কংগ্রেস নেতা এবং নব বালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার । তিনি প্রথমেই বলেন বিশ্বের প্রায় সব দেশেই দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে নজরদারি চালানো হয় । আমাদের দেশও ব্যতিক্রম নয় । দেশের সব সরকারই সন্দেহজনক ব্যক্তিদের উপর নজরদারি চালিয়ে থাকে । এটা নতুন কিছু নয় । কিন্ত এক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা মোদী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে , দেশের সব নাগরিকের উপর নজরদারি চালানোর । এখানে প্রশ্ন উঠছে তাহলে মোদীজি কী দেশের সব নাগরিককে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ? এ প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যটির সঙ্গে আমি সহমত । তিনি বলেছেন, দেশের ১২৫ কোটি জনতাকে নজরদারি করার জন্য সমগ্র দেশটাকে থানায় রুপান্তরিত করা হয়েছে । দেশকে থানা করে লাভ নেই ; মানুষ এর জবাব দেবে ।

ড. আবদুস সাত্তার বলেন , আসলে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদীর জয়ের নেপথ্যে ছিল এই সামাজিক মাধ্যমের অবদান । সেই সময় বিজেপি সোস্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে সমগ্র দেশজুড়ে মোদীর এক ভাবমূর্তি তৈরি করেছিল । তখন সোস্যাল মিডিয়ার লড়াইয়ে বিরোধীরা বিজেপির সঙ্গে পেরে উঠতে পারেনি । কিন্ত এখন ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে সোস্যাল মিডিয়ায় সমানভাবে বিরোধীরা প্রচার চালাচ্ছে । বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপের গুরুত্ব এই মূহুর্তে সবচেয়ে বেশি । সাধারন মানুষের কাছে যেকোনো তথ্য সঙ্গে সঙ্গে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে । ফলে এতদিন ধরে মোদী যে প্রচার চালাচ্ছিলেন এক তরফা তা এখন সেয়ানে সেয়ানে চলছে । ফলে ক্ষমতা হারানো ভয় পাচ্ছে মোদী সরকার । তাই সন্দেহ জনক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয় , দেশের সব নাগরিককেই নজরদারির আওতায় আনতে চাইছে কেন্দ্র । এর জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাবও নেওয়া হয়েছে।

তবে একথা বলতে হবে , মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহ সংবিধান বিরোধী। আমাদের সংবিধান যে বাক স্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকারের মর্যাদা দিয়েছে ; সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা কাউকে দেওয়া হয়নি । কিন্ত মোদী সরকার কমপিউটারের পর হোয়াটসঅ্যাপে নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের সাধারন মানুষের সাংবিধানিক রক্ষা কবজ মৌলিক অধিকারকে হরণ করতে চলেছে ।

এক প্রশ্নের উত্তরে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ড. আবদুস সাত্তার বলেন , এ থেকে মুক্তির একটাই পথ । জনমত গঠন । জনমতের মধ্যে দিয়েই আগামী লোকসভা নির্বাচনে মানুষ যেন সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য নিরব প্রতিবাদ জানায় ব্যালটের মাধ্যমে । এই সরকারের পতনের মধ্য দিয়েই সুরক্ষিত হবে নাগরিকে মৌলিক অধিকার ।


শেয়ার করুন
  • 50
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment