কলকাতা 

জয়ন্তকে না ছাড়া হলে সৌগত রায়কে খুনের হুমকি

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি :  তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আড়িয়াদহের জয়ন্ত সিনহাকে চোর সন্দেহে এক যুবক এবং এক মহিলাকে মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ভিডিও 2021 সালের। জয়ন্ত সিনহা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে আরো বেশ কিছু ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। আড়িয়াদহের তালতলা স্পোর্টিং ক্লাবের বসতো জয়ন্তের আদালত। সেই আদালতেই কোন বিধি ছিল না কোন আইন ছিল না জয়ন্তের কথাই ছিল আইন এবং তার নির্দেশে ছিল শেষ কথা। প্রশ্ন উঠেছে একজন ব্যক্তি কয়েক বছর ধরে সাধারণ মানুষের প্রতি নানাভাবে অত্যাচার করে চলেছে পুলিশ জানে না এটা ঠিক নয়। পুলিশ কেন নিরব হয়েছিল? প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের এই নীরবতার পেছনে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি খারাপ করার উদ্দেশ্য ছিল?

অবশেষে জয়ন্ত সিনহাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ কিন্তু তারপরেও তাকে না ছাড়া হলে সাংসদকে খুন করা হবে এ কথা বলার মত ক্ষমতা কোথা থেকে পাচ্ছে এই মাফিয়া। প্রশ্ন উঠেছে কার মদতে এই ধরনের কাজ করার সাহস পাচ্ছে? কদিন আগেই কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র খুন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তার পেছনেও কি ছিল এই ধরনের হুমকি ফোন?

আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে প্রকৃত অর্থেই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ খুব বেশি কাজ করছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় যেন প্রশাসনকে কন্ট্রোল করতে পারছেন না বলে মনে হচ্ছে। শুধু তাই নয় যে পুলিশ কর্মী বা অফিসার কাজে গাফিলতি দিচ্ছেন, তিনিই ভালো ভালো জায়গায় পোস্টিং পাচ্ছেন।

বুধবার ব্যারাকপুরের নগরপাল অলোক রাজোরিয়া সাংবাদিক বৈঠক করে জয়ন্তকে ‘হিস্ট্রি শিটার’ (যার দীর্ঘ অপরাধের রেকর্ড রয়েছে) বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, মারধরের ভিডিয়োটি ২০২১-এর। তা থেকে জয়ন্তের আট শাগরেদকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও যাদের ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে না, তাদের অন্যান্য বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটিতে বেলঘরিয়া থানা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪১ (বলপূর্বক আটকে রাখা), ৩৫৪ (শ্লীলতাহানি), ৩২৬ (অস্ত্র দিয়ে মারধর), ৩০৮ (খুনের মতো করে মারধর), ৫০৬ (ভয় দেখানো) এবং ৩৪ নম্বর (একই উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া) ধারায় মামলা দায়ের করেছে। যে হেতু ভিডিয়োগুলি বছর কয়েক আগের, তাই পুরনো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগরপাল। তিনি বলেন, ‘‘ওই মারধরের ঘটনায় ছ’জন গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদেরও ধরা হবে।’’

স্থানীয়েরা বলছেন, ‘‘আড়িয়াদহে তো জয়ন্তই পুলিশ, আদালত। ওর দলবলই সব ঘটনায় বিচারসভা বসাত।’’ এ দিন নগরপাল জানান, ওই যুবক ও যুবতীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। অন্য দিকে, ক্লাব সংলগ্ন বন্ধ বাজারে রাতে জয়ন্তের শাগরেদ তন্ময় ধর ওরফে বাপ্পার রিভলভার প্রশিক্ষণ দেওয়ার ভিডিয়োও মঙ্গলবার প্রকাশ্যে এসেছে। বাপ্পাও এখন পুলিশের জালে। আর একটি ভিডিয়োও ওই দিন প্রকাশ্যে আসে। তাতে চোর সন্দেহে এক নাবালকের যৌনাঙ্গে সাঁড়াশি চেপে ধরতে দেখা গিয়েছিল জয়ন্তের শাগরেদ প্রসেনজিৎ দাস ওরফে লাল্টুকে। ওই ঘটনাতেও স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩২৫ (মারাত্মক ভাবে জখম), ৩০৮ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। নগরপাল বলেন, ‘‘ওই অভিযুক্তেরও খোঁজ চলছে। যে যত বড় মাতব্বরই হোক, কাউকে রেয়াত করা হবে না।’’

মঙ্গলবার রাত ৩টের সময়ে ‘জায়ান্ট’কে ছাড়িয়ে আনা না হলে গুলি করে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে সাংসদ সৌগত রায়কে। তিনি জানান, অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে বাংলা-হিন্দি মিলিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় জয়ন্তকে ছাড়িয়ে আনার জন্য বলা হয়। তা না করলে আড়িয়াদহে ঢুকলে ‘বিপদ’-এর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। সৌগত বলেন, ‘‘ঠিক সাত মিনিট পরে আর একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে একই হুমকি দেয় কেউ। নগরপালকে নম্বর দু’টি পাঠিয়েছি। আমি এতে বিচলিত নই। আজও কামারহাটি গিয়েছিলাম।’’ নম্বর দু’টি চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সাংসদকে খুনের হুমকি দেওয়ার পরেও পুলিশ এখনো হুমকি দাতাকে চিহ্নিত করতে পারল না কেন? তাকে গ্রেফতার করা হলো না। কোন উদ্দেশ্যে পুলিশ এতটা ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন পুলিশ মন্ত্রী হিসাবে কেন পুলিশকে শাস্তি দিতে ভয় পাচ্ছেন! কেন দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে দক্ষিণেশ্বরের মতো একটি পবিত্র জায়গাকে অপবিত্র করার অধিকার কোথা থেকে পেয়েছিল জয়ন্ত সিনহারা তা বড্ড জানতে ইচ্ছা করে।? জয়ন্ত সিনহা ইস্যুতে এখনো পর্যন্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোন প্রতিক্রিয়া দেননি কেন?

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ