দেশ 

হোয়াটঅ্যাপসও কেন্দ্রের নজরবন্দী ; এটাই অমিত-মোদীজির গুজরাট মডেল ব্যক্তি-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে কেন্দ্র অভিযোগ কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভির

শেয়ার করুন
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি : দেশের নাগরিকদের কম্পিউটারে নজরদারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। তা নিয়ে দেশজুড়ে বির্তক চলছে । ঠিক সেই সময় আবার  সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি চালানোর জন্য আইন তৈরি করার কথা ভাবছে মোদী সরকার । মানুষের বাক স্বাধীনতার শেষ স্তম্ভে পেরেক পুঁততে চাইছে বিজেপি সরকার । বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে উপরে নজরদারি রাখার খসড়া প্রস্তাব তৈরি করার পর এই অভিযোগ আরও দৃঢ় হয়েছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে।

ইতিমধ্যে কেন্দ্রের এই খসড়া প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা করেছে কংগ্রেস । তারা কটাক্ষ বলেছে, এটাই মোদী মডেল। কারণ বিশ্বের সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, নরেন্দ্র মোদী।  ডিজিটাল সংবাদপত্র আনন্দবাজারে ফলাও করে এই খবর প্রকাশ করে লেখা হয়েছে , “কম্পিউটারের পরে এ বার গুগল, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বেআইনি’ তথ্য খুঁজতে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। বিশেষ করে কোনও মেসেজ বা বার্তার উৎসস্থল কোন মোবাইল ফোন বা কোথা থেকে সেটি প্রথম ফরোয়ার্ড হয়েছে তা চিহ্নিত করতে তথ্যপ্রযুক্তি আইন সংশোধনের কথা বলা হয়েছে একটি খসড়ায়। আর ওই চিহ্নিতকরণের প্রশ্নে ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে কী ভাবে গোটা নজরদারি প্রক্রিয়া চালানো হবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে এক দফা আলোচনা সেরেছে কেন্দ্র। সব মিলিয়ে ভোট বাজারে নজরদারি প্রশ্নে কোনও ছাড় দিতে রাজি নয় মোদী সরকার।”

ওই সংবাদপত্রটি আরও লিখেছে ,“কেন্দ্র সরকারও স্বীকার করে নিয়েছে সংশোধিত তথ্যপ্রযুক্তি বিধির খসড়া নিয়ে গুগল, হোয়াটসঅ্যাপ, আমাজন, ইয়াহু, টুইটার, শেয়ারচ্যাট, সেবি ও ইন্টারনেট পরিষেবা সংস্থাগুলির সংগঠনের প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ৭ জানুয়ারির মধ্যে এ নিয়ে মত জানাবে ওই সংস্থাগুলি। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রক্রিয়াটি শেষ করতে চাইছে সরকার।

সংশোধিত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের খসড়া অনুযায়ী ‘বেআইনি’ বিষয়বস্তু খুঁজে বার করে সেগুলি তিন দিনের মধ্যে সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে। তা না হলে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার। হোয়াটসঅ্যাপের মতো বার্তা আদানপ্রদান পরিষেবায় যে কোনও কথোপকথন সাংকেতিক কোডের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে (এনক্রিপশন)। সংশোধিত আইন চালু হলে সেই এনক্রিপশন ভাঙতে হবে। এ নিয়ে আপত্তি রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের মতো সংস্থাগুলির। তবে সরকারের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপকে এনক্রিপশন ভেঙে বার্তা পড়তে বলা হচ্ছে না। কেবল কোনও ‘বেআইনি’ বার্তার উৎস জানতে বলা হচ্ছে। “

অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি হল, এটা কার্যকর হলে ভবিষ্যতে গুজব ছড়ানো বন্ধ করতে সুবিধে হবে। মোদী সরকার এই ব্যাখ্যা দিলেও বিরোধী দল কংগ্রেস তা মানতে রাজী নয়। কংগ্রেস নেতা সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি  কেন্দ্রের  যুক্তিকে নস্যাৎ করে বলেছেন ,‘‘এটি আসলে গুজরাত মডেল। মোদী-অমিত শাহেরা মনে করেন সকলেই চোর। সকলেই খারাপ। তাই আম জনতার উপর নজরদারি চালাতেই এ ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আসলে বিগ ব্রাদার নরেন্দ্র মোদী সবাইকে ভয়ে রাখতে চান।’’


শেয়ার করুন
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment