কলকাতা 

হারের জন্য দলের বর্তমান নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুললেন দিলীপ ঘোষ।

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : বাংলার জনরব অনেক আগেই বলেছিল দিলীপ ঘোষ কে মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়াটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তা আজ প্রকাশ্যে চলে এলো। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের হেভিওয়েট বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছেন। এই পরাজয়ের পরেই সরাসরি বিজেপি নেতৃত্বকে আক্রমণ করেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি।

আমরা যে প্রশ্ন অনেকদিন আগেই করেছিলাম সে প্রশ্নই করতে শুরু করেছেন শৃঙ্খলা পরায়ন দলের কর্মী বা নেতা দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষের পরাজয় নিঃসন্দেহে রাজ্য রাজনীতিতে একটি দুঃখজনক ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। বহরমপুরের অধীর রঞ্জন চৌধুরীর পরাজয় যেমন দুঃখজনক একই রকম ভাবে দিলীপ ঘোষের পরাজয় অতি দুঃখজনক। দিলীপ ঘোষের দাবি, মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে সরিয়ে আনা ভুল হয়েছিল, সেটা প্রমাণিত। কে সরিয়ে এনেছে? জবাবে নাম না করে শুভেন্দু-সুকান্তকে বিঁধে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির দাবি, “এত দিন তো সব দোষ তো দিলীপ ঘোষ হত। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন দায় তাঁদের নিতে হবে। জিতলে মালা পরব আর হারলে দায় নেব না, এটা তো হয় না।”

Advertisement

রাজ্যে ৩০ আসনের ধুঁয়ো তুলে মোটে ১২ আসনে জয় এসেছে। বঙ্গ বিজেপির এই করুণ দশার জন্য সংগঠনের ফাঁকফোকরকেই দায়ী করলেন দিলীপ। তাঁর কথায়, “বাংলায় বিজেপির সংগঠন একেবারে শুয়ে পড়েছে। জেলা থেকে মণ্ডলে নতুন লোক এসেছে। কিন্তু তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্য়বস্থা করা হয়নি। ফলে কীভাবে নির্বাচন করতে হয়, সেই টিমই তৈরি হয়নি। সংগঠনের দুর্বলতা ছিল, প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, তাই ভোট কমেছে।” দীর্ঘদিন রাজ্য সভাপতি ছিলেন দিলীপ। সেই সময় কাজের হিসেব তুলে ধরে তাঁর দাবি, “গ্রামে গ্রামে গিয়ে সংগঠন তৈরি করেছিলাম। সবাই আমার পক্ষে ছিল। দলের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল, তা প্রমাণিত।”

মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিলীপ ঘোষকে এবার বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছিল। কার হাত ছিল এর নেপথ্যে? দিলীপ বলছেন, “ভূমিকা তো থাকেই দলেরই। কার ভূমিকা আমি জানি না। খোঁজ করারও কথা নয়। পার্টি বলেছে, আমি শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মী। আমায় দল নির্বাচনে লড়তে বলেছে, আমি লড়েছি, জিতেছি- তখন অনেককিছু আমার হাতে ছিল। এখন খালি লড়াইটা আমার হাতে ছিল।” তাঁর হারের দায় কার? জবাবে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির দাবি, “এখন যারা ক্ষমতায় আছেন দায় তাঁদের নিতে হবে। জিতলে মালা পরব আর হারলে দায় নেব না, এটা তো হয় না।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ