কলকাতা 

অধীর সেলিম জুটি হেরে গেলেন !

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম : বহরমপুরের পাঁচবারের সাংসদ গত লোকসভার কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী ইউসুফ পাঠানের কাছে হেরে গেলেন। শুধু হেরে গেলেন তা নয় তৃতীয় স্থানে চলে গেলেন ইউসুফ পাঠানের সঙ্গে লড়াই হল বিজেপি প্রার্থীর। এক কথায় বলা যেতে পারে অধীর চৌধুরী গোহারা হেরেছে। আসলে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মধ্যে যে অহং বোধ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার পরেও তিনি যেভাবে সভাপতি পদ আকড়ে বসে আছেন তার যে প্রভাব কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে পড়বে সেটা বলাই বাহুল্য ছিল।

তারপরেও অধীর রঞ্জন চৌধুরী ভোট প্রচারের সময় যেভাবে মেজাজ হারাচ্ছিলেন নানাভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছিলেন তার প্রভাব পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। অন্যদিকে অধীর রঞ্জন চৌধুরী দীর্ঘ দিন ধরে বহরমপুরের সাংসদ থাকা সত্ত্বেও মুসলমানদের স্বার্থে সেভাবে কোন কাজ করেননি। মুসলিম ভোটকে কাজে লাগিয়ে কতকগুলি মুসলমান ব্যক্তিকে ভোটের কাজের ব্যবহার ছাড়া অন্য কোন কাজে তাদের ব্যবহার করা হয়নি। বহরমপুরে ষাট শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও কোন কারনে এখনো পর্যন্ত কংগ্রেস দল এখানে কোন মুসলিম ব্যক্তিকে প্রার্থী করছিল না তা বড্ড জানতে ইচ্ছা করে?

Advertisement

তৃণমূল কংগ্রেসকে কেন গুজরাট থেকে ইউসুফ পাঠানের মত ব্যক্তিকে নিয়ে এসে এখানে দাঁড় করাতে হলো এ প্রশ্নটাও সামনে আসতে শুরু করেছে। এটা ঠিকই অধীর রঞ্জন চৌধুরীর জন্যই মুর্শিদাবাদ থেকে কোন মুসলিম নেতা কংগ্রেসে প্রতিষ্ঠা পায়নি। অধীর রঞ্জন চৌধুরী জন্যই মুর্শিদাবাদে কোন মুসলিম লিডার কংগ্রেস থেকে তৈরি হয়নি। আর এ কারণেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস কিছু করুক আর নাই করুক মুর্শিদাবাদ জেলায় মুসলিম নেতৃত্বকে তৈরি করার সুযোগ দিয়েছে। মুসলিম নেতৃত্বকে তুলে এনেছে। তৃণমূল কংগ্রেস মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি করেছেন যাকে, তিনি এমন একটি পরিবার থেকে এসেছেন যে পরিবারে কোনো রাজনীতি ছিল না। সুতরাং অধীর রঞ্জন চৌধুরীর পরাজয়ের নেপথ্যে  দীর্ঘ দিন ধরে ওই এলাকার মুসলমানদের বঞ্চনার প্রতিশোধ বলা যেতে পারে।

এরপরেও বলা যেতে পারে একজন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হিসাবে অধীর রঞ্জন চৌধুরী যে অহংকার দেখান যেভাবে মানুষের সঙ্গে দেমাক নিয়ে কথা বলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে যারা জুনিয়র সাংবাদিক তাদের সঙ্গে যেভাবে তিনি কথা বলেন তাতে স্পষ্টভাবে তার অহংকার ধরা পড়ে। বলা যেতে পারে বহরমপুরের জনা দেশ কার্যত অধীর রঞ্জন চৌধুরীর অহংকারের বিরুদ্ধে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মোঃ সেলিম পুনরায় সাংসদ হওয়ার লক্ষ্যে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন। নিঃসন্দেহে তিনি যোগ্য সাংসদ হতেন। কিন্তু একজন বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রাজনীতিবিদ যেভাবে হাত-পা নেড়ে এবং অহংকার দেখিয়ে কথা বলেন তা বাংলার মানুষ মেনে নিতে পারবেন না। উনি যখন রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন কিংবা সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগমের চেয়ারম্যান ছিলেন সেই সময় বেশ কয়েকবার আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল সাংবাদিক হিসাবে। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে এই মোহাম্মদ সেলিম ধরাকে সরাজ্ঞান করতেন। বেশ কয়েকবার উনি আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না বলে উনার চেম্বার থেকে বের করে দিয়েছেন। অর্থাৎ শুধু মোদি আর যোগীর দোষ দিয়ে লাভ নেই যারা ক্ষমতায় থাকেন তারা সবাই সকলেই এই অহং বোধ থেকে কাজ করেন। আর বর্তমান সময়ে উনি রাজ্যসম্পাদক হিসাবে যেভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তা এক কথায় অহং বোধটা সব সময় মধ্যে লক্ষ্য করা যায়।

অধীর চৌধুরীর যেমন অহংকারের পতন ঘটেছে একই রকম ভাবে মোহাম্মদ সেলিমেরও অহংকারে পতন ঘটল বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। এরা বিজেপি বিরোধিতার চেয়ে সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কারণ এই রাজ্যের মানুষ বিজেপি বিরোধীদের পছন্দ করেন বিজেপির সঙ্গে একমত হয়ে কথা বলা কে পছন্দ করে না। প্রবীণ রাজনীতিবিদ হয়েও এই সহজ সত্য কথাটা উপলব্ধি করতে না পারার জন্যই আজ অধীর এবং সেলিমকে বাংলার মানুষ প্রত্যাখ্যান করল।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ