কলকাতা 

গঙ্গাধর কয়ালের বিরুদ্ধে আপাতত কোন ব্যবস্থা নিতে পারবে না পুলিশ মৌখিক নির্দেশ বিচারপতির, স্বস্তিতে বিজেপি নেতা

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : মাম্পি দাসের পর এবার সন্দেশখালি দু’নম্বর ব্লকের মন্ডল সভাপতি গঙ্গাধর কয়াল স্বস্তি পেলেন হাইকোর্টে। শেষ দফার নির্বাচন হওয়ার আগে গঙ্গাধর কয়েলের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারবে না পুলিশ বলে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি, জয় সেনগুপ্ত। আর এর ফলে বিজেপি দল অনেকটাই স্বস্তিতে রইলো বলে মনে করা হচ্ছে। সন্দেশখালি মহিলাদের ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ জমা করতে বলেছিল টাকার বিনিময়ে এই ধরনের একটি ভিডিওতে গঙ্গাধর কয়াল মন্তব্য করেন। সেই মন্তব্য কে ঘিরে পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। ইতিমধ্যেই মাম্পি দাসকে এই অভিযোগে জেল হেফাজত দিয়েছিল বসিরহাটের নিম্ন আদালত। আজ শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্ট মাম্পি দাস কে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং আগামী বেশ কয়েক সপ্তাহ তার বিরুদ্ধে কোনো রকম তদন্ত করা যাবে না বলেও বিচারপতি জানিয়েছেন।

গঙ্গাধরের মামলা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠালেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। ভাইরাল ভিডিও নিয়ে এফআইআর খারিজের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন গঙ্গাধর কয়াল। ভাইরাল ভিডিও নিয়ে সিবিআই তদন্তেরও দাবি জানান বিজেপি নেতা।

Advertisement

সন্দেশখালির ভাইরাল ভিডিওকাণ্ডে গত ১০ মে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন, বিজেপি নেতা গঙ্গাধর কয়াল। তাঁর ছবি ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভুয়ো ভিডিও তৈরি করে তা প্রকাশ্যে আনার অভিযোগে এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সন্দেশখালি দু’নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি গঙ্গাধর কয়াল। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের FIR খারিজের আবেদনও জানান গঙ্গাধর।

সন্দেশখালিতে বিজেপি নেত্রী মাম্পি দাসের গ্রেফতারি মামলায় বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য পুলিশ। ব্যক্তিগত বন্ডে সন্দেশখালির বিজেপি নেত্রী জামিন পেয়েছেন। এফআইআরে থাকা জামিন অযোগ্য ধারায় স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। ‘বাকি ধারার ক্ষেত্রে পুলিশ সুপারের নজরদারিতে তদন্ত চলবে’বলে নির্দেশ দেয় আদালত। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বলেন, ‘আদালতের অনুমতি ছাড়া চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করতে পারবে না পুলিশ’। আগামী ১৯ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি। মঙ্গলবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যান সন্দেশখালির বিজেপি নেত্রী মাম্পি দাস। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করে ৮ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত । এরপর গতকালই বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দেন, নতুন মামলায় পিয়ালিকে গ্রেফতার দেখাতে পারবে না পুলিশ। পিয়ালিকে আপাতত হেফাজতেও নিতে পারবে না তারা। শনিবার পর্যন্ত পিয়ালি দাসের বিরুদ্ধে নেওয়া যাবে না কোনও পদক্ষেপ।

অন্যদিকে, খোদ সিভিক ভলান্টিয়ারের স্ত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর থেকে সন্ত্রস্ত সন্দেশখালিতে রাতারাতি বদলে গিয়েছে রাত-পাহারার ছবিটা। ঝাঁটা, লাঠির পাশাপাশি রাত জেগে গ্রাম পাহারায় এবার মহিলারা হাতে তুলে নিয়েছেন শঙ্খ ও কাঁসর। ভাইরাল হয়েছে তার ভিডিও। বেড়মজুরের মহিলাদের একাংশের অভিযোগ, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বুধবার রাতে গ্রামে ঢুকে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। তাঁদের দাবি, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই পালা করে রাত জাগছেন তাঁরা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ