কলকাতা 

শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ভয়াবহ রূপে রাজ্যের মানুষ সন্ত্রস্ত , এ থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজছে : সরদার আমজাদ আলী

শেয়ার করুন
  • 35
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে প্রতিদিন মানুষ খুন হচ্ছে । কোচবিহার থেকে জয়নগর ; জয়নগর থেকে আরামবাগ সর্বত্রই চলছে মানুষ খুন । প্রকাশ্য দিবালোকে শাসক দলের নেতাদের মধ্যে খুনোখুনির লড়াই-এ বিধ্বংস্ত বাংলা । সাধারণ মানুষ সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে বিশিষ্ট আইনজীবী ও প্রাক্তন সাংসদ কংগ্রেস নেতা সরদার আমজাদ আলী মন্তব্য করেন । তিনি বলেন , যুব তৃণমূল বনাম মূল তৃণমূলের লড়াই কবে থামবে তা নিয়ে অবশ্যই সংশয় রয়েছে ।

বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সরদার আমজাদ আলী বলেন, এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ ; কারণ তারা ভেবে উঠতে পারছে না কোথায় গেলে সঠিক কাজ করতে পারবে । গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের মূল কারণ কি ? এই প্রশ্নের উত্তরে বিশিষ্ট আইনজীবী সরদার আমজাদ আলী বলেন , তোলাবাজি । সমগ্র রাজ্যজুড়ে যে তোলাবাজী চলছে সেই অর্থের অংশীদার হওয়ার জন্যেই রাজ্য জুড়ে শাসক দলের মধ্যেই সহিংসতা বিরাজ করছে । আর  এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন , বামেদের মধ্যে একটা নিয়ন্ত্রণ শক্তি কাজ করত । তাই তাদের আমলে শাসক দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভ থাকলেও তা ছিল নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ; দলীয় শৃঙ্খলার মধ্যে আবদ্ধ ।

প্রবীণ আইনজীবী ও প্রাক্তন সাংসদ আমজাদ সাহেব গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের রহস্য সম্পর্কে বলেন , এর নেপথ্যে রয়েছে খোদ দলনেত্রী অন্দর মহলের লড়াই । আগামী লোকসভা নির্বাচনে কার হাতে দলীয় টিকিট দেওয়ার ভার থাকবে ; কারা দলের নিয়ন্ত্রক শক্তি হবে তা নিয়েই চলছে দলের মধ্যে তীব্র লড়াই । সেই লড়াই এখন রাস্তায় নেমে এসেছে । সেই লড়াইয়ের বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ । এ থেকে মুক্তির উপায় কী ? এই প্রশ্নের উত্তরে বর্ষীয়ান আইনজীবীর মন্তব্য, এখনই এ থেকে মুক্তির কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না । আগামী দিনে বাংলার মানুষ যদি সরকার পরিবর্তন করে তাহলে অবশ্যই সন্ত্রাস থেকে মুক্ত হবে বাংলা । ক্ষমতার লড়াই বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ । তারা বুঝে উঠতে পারছে না কোন পথে গেলে বাংলায় শান্তি আসবে ।

রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বিশেষঞ্জ সরদার আমজাদ আলী বলেন, আরামবাগে তৃণমূল নেতা এবং প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষকে যেভাবে প্রকাশ্যে পিটিয়ে খুন করা হল তা শুনে আমরা বিস্মিত ! বাংলা কোন দিকে যাচ্ছে । এই পরিববর্তন আমরা চাইনি। শাসক দলের নেতার নিরাপত্তা যেখানে সেই খানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা থাকবে কি করে ? খোজ নিলে দেখবেন যারা মারা যাচ্ছেন তারা বেশিরভাগই কাজ করতে চেয়েছিলেন সাধারণ মানুষের স্বার্থে । পঞ্চায়েত প্রকল্পগুলির সুফল যাতে সাধারণ গরীব মানুষের কাছে পৌছায় তাদের জন্যই সওয়াল করে প্রাণ দিতে হচ্ছে । এটাই সততার প্রতীক মমতার রাজ্যের এখন সংস্কৃতি ।

তিনি আরও বলেন , যারা প্রকৃতই গ্রাম-বাংলায় অত্যাচার করে চলেছে তাদেরকে দল সবচেয়ে বেশি প্রশয় দিচ্ছে । তবে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন , বাংলার মানুষ এই মাৎসান্যায় পরিস্থিতির পরিবর্তন করবেই । খৃব শীঘ্রই বাংলায় আবার রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় কংগ্রেস ক্ষমতায় আসবে । সেদিনই এই রাজ্যে কৃষক-শ্রমজীবী মানুষ থেকে সাধারণ নাগরিকরা প্রকৃত স্বাধীনতা পাবে ।

তিনি বলেন, যেমন কেন্দ্র সরকারে মোদী যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় তার একটাও বাস্তবায়িত করতে পারেননি । ফলে দেশের সাধারণ মানুষ ২০১৯-এ মোদীর বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দিতে চলেছে । অন্যদিকে মমতা সরকার কাজের চেয়ে কথা বলছে বেশি , ফলে তার বিদায়ও আসন্ন।

 


শেয়ার করুন
  • 35
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment