অন্যান্য 

রাহুল গান্ধী লম্বা রেসের ঘোড়া ; মোদীর বিকল্প হিসেবে তিনিই যোগ্য : ইমানুল হক

শেয়ার করুন
  • 281
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইমানুল হক বাংলার বুদ্ধিজীবী সমাজে পরিচিতি মুখ । ভাষা ও চেতনা সমিতির কর্নধার । স্পষ্টবাদী , বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী হলেও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক মেধা বিচক্ষনতার প্রতি তাঁর আস্থা আছে । তিনি বিশ্বাস করেন দেশ থেকে বিজেপি বা মোদীকে হঠাতে হলে অবশ্যই কংগ্রেসের নেতৃত্বেই বিজেপি বিরোধী জোট গড়ে তুলতে হবে ।তাঁর মতে  তৃতীয় ফ্রন্টের কথা যাঁরা বলছেন তারা আসলে বিজেপির সুবিধা করে দিতে চাইছেন । সাম্প্রতিককালের ঘটনাবলী নিয়ে প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক –অধ্যাপক ইমানুল হক বাংলার জনরব-এর মুখোমুখি । সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সেখ ইবাদুল ইসলাম ।

প্রশ্ন : তিন রাজ্যের জয়কে আপনি কী চোখে দেখছেন ?

ইমানুল হক : অবশ্যই ভাল সংকেত । দেশের প্রতিটি রাজ্য থেকে এবার বিজেপির বিদায় শুরু হল । বহু চেষ্টা করেও বিজেপি মধ্যপ্রদেশ-ছত্তিশগড়-রাজস্থানে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি । আমার বিশ্বাস ভোট যদি ব্যালটে হত তাহলে এই সব রাজ্যগুলি থেকে বিজেপি মুছে যেত । আর আগামী লোকসভা নির্বাচনে ব্যালটে ভোট হলে বিজেপি এককভাবে ১০০ আসনও পাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে ।

প্রশ্ন : তিন রাজ্যে কংগ্রেসের এই জয়ে কী প্রমাণিত হল না , পাপ্পু রাহুল গান্ধী এখন অনেক পরিপক্ক রাজনীতিবিদ ?

ইমানুল হক : রাহুল গান্ধী শুধু পরিপক্ক রাজনীতিবিদই নন, তিনি এই মূহুর্তে দেশে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নেতা । তাঁর মত রাজনৈতিক মেধা এখন বিজেপিতে কেউ নেই । তিন রাজ্যে জয়ের পর যে ভাষায় তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করলেন তা থেকে দেশের অনেক রাজনীতিবিদের শিক্ষা নেওয়া উচিত ।

প্রশ্ন : রাহুল গান্ধীর মধ্যে কী ইন্দিরা গান্ধীর ছায়া পরিলক্ষিত হচ্ছে ?

ইমানুল হক : ইন্দিরা গান্ধীর ছায়া নয় , বরং তাঁর দাদু ফিরোজ গান্ধীর সমস্ত রাজনৈতিক লক্ষণ রাহুলের মধ্যে দেখা যাচ্ছে । তিনি কথা বলেন স্পষ্ট কোনো রাখ-ঢাক না রেখেই । ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা ছিল । রাহুলের মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক মানসিকতা । তিনি ঠেকে শিখেছেন তাই ; প্রতি মুহুর্তে গরীর –কৃষক-শ্রমিকদের স্বার্থে কথা বলে যাচ্ছেন । আর এখানেই অন্যদের সঙ্গে তাঁর তফাৎ ।

বরং বলা যেতে পারে প্রিয়াংকার মধ্যে ইন্দিরা গান্ধীর ছায়া খানিকটা পরিলক্ষিত । আমার মনে হয় প্রিয়াংকা রাজনীতিতে এলে তাঁর জনমোহনী শক্তি প্রবল হবে । কিন্ত তিনিও ইন্দিরাজির মতো ‘ অটোক্র্যাট‘ হয়ে উঠতে পারেন । কিন্ত রাহুল গান্ধীর মধ্যে যে রাজনৈতিক বিচক্ষণতা , সাংগঠনিক দক্ষতা দূরদর্শিতা রয়েছে তাতে এটা স্পষ্ট যে তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া । এই রকম নেতার  হাতে দেশের দায়িত্ব গেলে আম জনতার স্বার্থ ক্ষুন্ন হবে না বলে মনে হয় ।

প্রশ্ন : রাহুলের কোন দিকটা আপনাকে ভাল লাগে ; মোদীজি তো কথায় কথায় তাঁকে পাপ্পু বলেন ?

ইমানুল হক : আগেই বলেছি , রাহুলের মধ্যে ফিরোজ গান্ধীর ছায়া বিদ্যমান । জাতীয় রাজনীতির সমস্ত পাঠ তিনি নিরবে করেছেন । তিনিই দেশের একমাত্র নেতা যিনি আদানী-আম্বানীদের মতো শিল্পপতিদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন । এর আগে সিপিএম বলত , তারা এখন আর বলে না । কিন্ত কংগ্রেস নেতা হয়েও তিনি দেশের শিল্পপতিদের পাইয়ে দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করছেন । তবে এটা ইন্দিরা গান্ধী করেছিলেন ব্যাঙ্ক জাতীয়করনের মধ্যে দিয়ে ।

প্রশ্ন : বিজেপি বিকল্প কী কংগ্রেস ?

ইমানুল হক : অবশ্যই । তবে রাজ্যের আঞ্চলিক দলগুলিও জোটবদ্ধ হলে বিকল্প শক্তি হতে পারে । কিন্ত কোনো সময়ই কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিজেপি বিরোধী জোট গঠন করা সম্ভব নয় । কংগ্রেস হল তরকারিতে নুনের মতো । তাই কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে আলাদা ফ্রন্টের অস্তিত্ব আসলে বিজেপিরই সুবিধা করে দেবে ।

কারণ কংগ্রেস অনেক ভুল করেছে । তাদের আমলে দূনীর্তি হয়েছে , স্বজনপোষণ হয়েছে আবার দাঙ্গাও হয়েছে তবু কংগ্রেসই দেশের একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ দল । যারা দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে আপোষ করে না ।

প্রশ্ন : ২০০৪-১৪ এই দশ বছরে ইউপিএ সরকার তো অনেক জনমুখী প্রকল্প চালু করেছিল ?

ইমানুল হক :  ড. মনমোহন সিং সরকারের আমলে দূনীর্তি যেমন হয়েছে একইভাবে সরকার অনেকগুলি জনমুখী প্রকল্পও বাস্তবায়ন করেছে । বিধবা ভাতা শুরু করে কৃষক ভাতা ,তথ্য জানার অধিকার , খাদ্য সুরক্ষা আইন , শিক্ষার অধিকার আইন প্রভৃতি ।

প্রশ্ন : রাফাল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রায়ের পরও রাহুল গান্ধীর সাংবাদিক সম্মেলনকে আপনি কোন চোখে দেখছেন ?

ইমানুল হক : উপযুক্ত সময়ে তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন । এটার প্রয়োজন ছিল । আমার সবচেয়ে খারাপ লেগেছে দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সঙ্গে চা-চক্রে যোগ দিয়েছেন দেখে । এটা ভারতের সংবিধানের ক্ষেত্রে একটা ক্ষতির দিক বলা যেতে পারে । প্রশাসনের সঙ্গে আদালতের সম্পর্ক থাকবে এটা স্বাভাবিক ঘটনা । আদালত প্রভাবিত হবে এটা আমাদের কাছে শ্লাঘার বিষয় । বিচার ব্যবস্থার সব সময় স্বাধীন থাকবে এটা কাম্য । বিচার ব্যবস্থা যদি প্রশাসনে মিশে যায় তখন কী মানুষ সুবিচার পাবে ? আমরা কথায় কথায় বলে থাকি আদালতে তোমাকে দেখে নেব ? কারণ আমাদের দেশের আদালতের প্রতি সাধারণ নাগরিকদের আস্থা রয়েছে , বিশ্বাস রয়েছে । সেই বিশ্বাস যদি ভেঙে যায় তাহলে কী হবে ?

সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের হলমনামা যাচাই না করেই রাফাল মামলার রায় দিয়ে দিলেন । পরবর্তীতে কী হল ? রাহুলের সাংবাদিক সম্মেলন করার পরেই কেন্দ্র বলতে বাধ্য হল মিসটেক হয়েছে । এটা যদি অন্য দেশ হত ; তাহলে সুপ্রিম কোর্টে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দায়ে সরকারকেই অসাংবিধানিক বলে রায় দিত । আমাদের শত্রূ দেশ পাকিস্থানের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে জেলে পাঠিয়েছে , নির্বাচনের দাঁড়ানো নিষিদ্ধ করেছে । আমাদের দেশে সেই রায় কবে হবে সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ১২৫ কোটি ভারতবাসী ?

মনে রাখ্তে হবে যে ,রাফালে  এক লক্ষ ৩৬ হাজার কোটি টাকার কেলেংকারী হয়েছে বলে অভিযোগ । যে দেশের কৃষকরা ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করছে সেদেশের এক শিল্পপতিকে এত টাকা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন তা নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকার দেশের ১২৫ কোটির মানুষের আছে । তাই রাহুল গান্ধীর সাংবাদিক সম্মেলন অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য ।

 


শেয়ার করুন
  • 281
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment