কলকাতা 

জাতীয় স্বার্থে কথা বলার জন্য প্রধানমন্ত্রী যেতেন–বিরোধী দলের নেতার বাড়িতে; ইন্দিরাজি জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন সংবিধান মেনেই দাবি প্রাক্তন সাংসদ সরদার আমজাদ আলীর

শেয়ার করুন
  • 107
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম :  ১৪ ডিসেম্বর কলকাতা প্রেস ক্লাবে প্রাক্তন সাংসদ ও বর্ষীয়ান আইনজীবী সরদার আমজাদ আলীর সংসদীয় জীবনের আলোখ্য নিয়ে প্রথম গ্রন্থ ‘ তিনাঙ্ক ‘ প্রকাশিত হয় । এই গ্রন্থ প্রকাশ হওয়ার পর লেখক সরদার আমজাদ আলী সাংবাদিক ও পাঠকদের মুখোমুখি হন । সভার সঞ্চালক সাংবাদিক সুদীপ্ত রায় চৌধুরি প্রশ্ন করেন, শাসক ও বিরোধী দলের সর্ম্পককে আপনাদের সময়কার রাজনীতিবিদরা  কেমনভাবে দেখতেন ? এই প্রশ্নের উত্তরে সরদার আমজাদ আলী বলেন , আমাদের সময়ের রাজনীতিবিদরা জাতীয় স্বার্থে খুব বেশি মুখ খুলতেন না । একটি ঘটনার কথা উল্লেখ্য তিনি বলেন , প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একটি বিষয় আমার নজরে এসেছিল । তা নিয়ে পাবলিক অ্যাক্যাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান হীরেন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলি । তিনি এই বিষয়ে আমাদের দলনেত্রীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন । তিনি বলেন বিষয়টি ছিল খুবই স্পর্শ কাতর । যদি সংসদে বিষয়টি না বলা হয় তাহলে জনসংঘের সাংসদরা হইচই করবেন , আর এটা প্রকাশ করা হলে প্রতিরক্ষার স্বার্থে ঝুকিপূর্ণ হয়ে যেত । তাই আমি বিষয়টি ইন্দিরা গান্ধীর নজরে আনি । তিনি আমার সঙ্গে কথা বলার পর আর কে ধাওয়ানকে অটলবিহারী বাজপেয়ীকে ফোনে ধরিয়ে দিতে নির্দেশ দেন । অপরপ্রান্তে বিরোধী নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ী , অন্যপ্রান্তে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী । ইন্দিরাজি অটলবিহারীর কুশল কামনা করে জিঞ্জাসা করলেন , আপনার কখন সময় হবে , আমি আপনার কাছে যাব  । এটা আজকের দিনে ভাবা যায় বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে জাতীয় স্বার্থে দেখা করতে যাচ্ছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ! ইন্দিরাজি গেলেন , তাদের দুজনের মধ্যে কথাবার্তা হল , তারপরেই বিষয়টি নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য হল না । আর এখন তো কথায় কথায় সেনাবাহিনীর সাফল্যকেও রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে ।

আর একটি বিষয়ে লেখক সরদার আমজাদ আলীর কাছে জানতে চান সাংবাদিক সুদীপ্ত রায় চৌধুরি । তা হল এই গ্রন্থে সব বিষয়েই আমজাদ সাহেব যখন অকপট ঠিক তখনই ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থাকে তিনি ঘুরিয়ে সমর্থন করে কপটতার আশ্রয় নিচ্ছেন  ? এর উত্তরে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী সরদার আমজাদ আলী বলেন , দেশের সংবিধান প্রণেতারা জানতেন জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে জরুরি অবস্থা জারি করতে হতে পারে । তাই তাঁরা সংবিধানে এই ধারাকে সংযুক্ত করেছিলেন । ইন্দিরা গান্ধী সংবিধান অমান্য করে জরুরি অবস্থা জারি করেননি । সংবিধানকে মান্যতা দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন ।

 


শেয়ার করুন
  • 107
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment