দেশ 

দুর্নীতির দায়ে তিন বছর জেল খাটা আসামিকে প্রার্থী করল বিজেপি, স্বচ্ছ ভারত গড়ার কারিগর নরেন্দ্র মোদী নীরব কেন?

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : স্বচ্ছ ভারত গড়ার কারিগর নরেন্দ্র মোদির আমলে যত দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষরা সব ঠাঁই পেয়েছে। বিজেপিতে। অজিত পাওয়ার থেকে শুরু করে প্রফুল্ল প্যাটেল হেমন্ত বিশ্ব শর্মা, নবীন জিন্দাল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নরেন্দ্র মোদির যে থেকেই দুর্নীতিগ্রস্ত বলে অভিহিত করেছিলেন। এরা এখন বিজেপির সম্পদে পরিণত হয়েছে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে এরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন বিজেপির হয়ে। একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন একজন উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন আর একজন সমস্ত দোষ থেকে মুক্ত হয়েছেন। এবার নবীন জিন্দাল তো বিজেপির সাংসদ হিসাবে লোকসভাতে ঢোকার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদের সকলের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ ছিল কিন্তু প্রমাণিত হয়নি তবে বিজেপি এবার যাকে লোকসভার প্রার্থী করেছে তিনি দোষী সাব্যস্ত একজন রাজনীতিবিদ। নয় নয় করে তিন বছর জেল খেটেছেন হাইকোর্টের নির্দেশে জামিনে আছেন। এখনো কেশ চলছে। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিলীপ রায় উচ্চ আদালতে আবেদন করেছিলেন সেই আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। তবে সাজার উপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাইকোট। আর একই কারণ হিসাবে দেখি, দেখিয়ে নরেন্দ্র মোদী ওড়িশা থেকে প্রার্থী করে দিয়েছেন।

Advertisement

লোকসভা ভোটের পাশাপাশি ওড়িশায় বিধানসভা ভোট হচ্ছে। সেখানকার শিল্পশহর রৌরকেলা বিধানসভা আসনে টিকিট দেওয়া হয়েছে দিলীপকে। একদা বিজেপি প্রধান নবীন পট্টনায়েকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন দিলীপ। বিজেডির সাংসদ হিসাবে নব্বইয়ের দশকে প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকারের কয়লা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বিজেডি তখন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-তে ছিল।

১৯৯৯ সালে ঝাড়খন্ডে কয়লা ব্লক বণ্টনের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল দিলীপের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় স্তরে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল। তৎকালীন এনডিএ সরকার ওই অভিযোগের তদন্তভার দিয়েছিল সিবিআই-কে। কেন্দ্রীয় ওই তদন্তকারী সংস্থা তদন্তে নেমে ওই দুর্নীতিতে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী দিলীপের যোগসাজশ খুঁজে পায়। তাঁকে সে সময় গ্রেফতারও করা হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানির পর ২০২০-র অক্টোবরে দিলীপ-সহ চার জন ওই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। দিল্লির একটি আদালত তাঁকে তিন বছর জেলের সাজা দিয়েছিল।

দুর্নীতি দমন আইনের বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল দিলীকে। যার অর্থ, সরকারি পদাধিকারী হয়ে বিশ্বাসভঙ্গ। যা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। দিলীপের জন্য কারাদণ্ড ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক জানিয়েছিলেন, মন্ত্রী থাকাকালীন দিলীপ বেআইনি এবং অসৎ ভাবে বেসরকারি এবং পরিত্যক্ত কয়লাখনি এলাকা একটি বিশেষ সংস্থাকে পাইয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে ঝাড়খণ্ডের গিরিডিতে ব্রহ্মডিহা কয়লা ব্লক বণ্টনে ওই ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছিল।

সম্প্রতি তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ৭১ বছরের প্রাক্তন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন তিনি সংসদীয় রাজনীতিতে আর থাকবেন না কিন্তু দিল্লি হাইকোর্টের রায় সামনে আসার পরেই তার তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। এরপরেই বিজেপি তাকে প্রার্থী করে দিল। মনে করা হচ্ছে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হতে চলেছেন কয়লা দুর্নীতির অন্যতম মুখ দিলীপ রায়।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ