দেশ 

মধ্যপ্রদেশের প্রখ্যাত সুফি সাধক কামাল মাওলানা দরগার উপর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা করবে এএসআই, মুসলিম পক্ষের আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : প্রায় হাজার বছর ধরে মধ্যপ্রদেশের ধার শহরে নিকটে অবস্থিত কামাল মাওলানার দরগাকে কেন্দ্র করে আবার নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ওই এলাকায়। লোকসভা ভোটের মুখে কামাল মাওলানার দরগাকে মধ্যপ্রদেশের ভোজ রাজার নাকি ওখানে সরস্বতী মন্দির ছিল। আর সত্যিই মন্দির ছিল কিনা আর্কোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে দিয়ে তদন্ত করার জন্য মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে দারস্ত হয়েছিল হিন্দু পক্ষ।

মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট আর্কোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া কে দিয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল মুসলিম পক্ষ। আজ সোমবার এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল দরগার কাঠামো ঠিক রেখে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা করা হলে আপত্তি নেই।

Advertisement

অর্থাৎ মুসলিম পক্ষ কামাল দরগার ওপর আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সমীক্ষা করার নির্দেশের উপর যে স্থগিতাদেশ চেয়েছিল তা খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

তবে সেই সঙ্গেই স্পষ্ট ভাষায় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কোনও অবস্থাতেই ওই বিতর্কিত কাঠামোর ‘চরিত্র’ বদলের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। কেন্দ্রীয় সরকার, মধ্যপ্রদেশ সরকার এবং সে রাজ্যের ধার জেলা প্রশাসনকে এই নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি হৃষিকেশ রায় এবং বিচারপতি পিকে মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ।

বারাণসীর জ্ঞানবাপীর মতো ভোজশালাতেও এএসআই-এর ‘বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা’র আবেদন জানানো হয়েছিল হিন্দুপক্ষের তরফে। গত ১১ মার্চ মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট সেই আবেদন মেনে রায় ঘোষণার পরে ভোজশালায় সমীক্ষার কাজও শুরু হয়। কিন্তু মুসলিমপক্ষ সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল। দুই বিচারপতির বেঞ্চ সোমবার ‘বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা’য় ছাড়পত্র দিলেও খননের মাধ্যমে ওই সৌধের ‘চরিত্র’ বদলের চেষ্টা সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

মধ্যপ্রদেশের ধার শহরে প্রায় হাজার বছরের পুরনো ওই কামাল মওলানার দরগা এবং মসজিদ রয়েছে এএসআই-এর তত্ত্বাবধানে। হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, সৌধটি আসলে রাজা ভোজের তৈরি প্রাচীন সরস্বতী মন্দির। ২০০৩ সালের সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুদের পুজো করতে দেওয়া হয় ভোজশালায়। মুসলিমদের শুক্রবারে নমাজ পড়তে দেওয়া হয়। কিন্তু হিন্দুপক্ষ সেখানে নমাজ বন্ধের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ