কলকাতা 

মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মামলার শুনানী শেষ , জানুয়ারিতেই কী মাদ্রাসার জটিলতা অবসান হবে ?

শেয়ার করুন
  • 36
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি : মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে যে মামলা সুপ্রিম কোর্টে চলছিল তার শুনানী শেষ হল বৃহস্পতিবার । আজ শুনানীর শেষ দিনে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকর্তা জনাব আবিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন । সম্প্রতি , মাদ্রাসা পরিচালন সমিতি দ্বারা নিয়োগকৃত শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট দেওয়া সত্ত্বেও কেন বেতন চালু করা হয়নি , সেই বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করে স্বশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের ডিভিসন বেঞ্চ । সেজন্যই মামলার শুনানীর শেষ দিনে মাদ্রাসা অধিকর্তা স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন ।

তবে আজ সুপ্রিম কোর্ট পরিচালন সমিতির দ্বারা নিয়োগকৃত শিক্ষকদের বেতন জটিলতার বিষয়ে কোনো রায় বা নির্দেশ দেননি । মহামান্য বিচারপতিরা জানিয়েছেন , মূল মামলার শুনানী শেষ হয়ে গেছে যেকোনো দিন রায় দেওয়া হবে । সেই রায়ের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন জটিলতা থেকে শুরু করে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ পর্যন্ত সমস্ত বিষয়ে বিচারপতিরা স্পষ্ট নির্দেশ দেবেন বলে জনিয়ে দিয়েছেন ।

উল্লেখ্য,রাজ্যের ৬১৪টি মাদ্রাসাকে বাম সরকার ২০০৮ সালে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেয় এবং এই সব মাদ্রাসায় শিক্ষক  নিয়োগ করার জন্য আলাদা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন গঠন করে বাম সরকার । কিন্ত সাংবিধানিক অধিকার মতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সংখ্যালঘু স্ট্যাটাস দেওয়া হলে সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার সমস্ত দায়িত্ব পরিচালন সমিতির হাতেই থাকবে । মূলত সাংবিধানিক প্রশ্নে সংখ্যালঘুদের অধিকার বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে কাঁথি রহমানিয়া মাদ্রাসা । সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট ২০১৪ সালে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে রায় দেয় । পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর ডিভিসন বেঞ্চ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে অসাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে রায় দেন ।

এরপর রাজ্য সরকার এই রায়কে মান্যতা দিয়ে সরকার পোষিত মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের ছাড়পত্র দিয়ে এক সার্কুলার জারি করে । সেই সাকুর্লার অনুসারে বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা পরিচালন সমিতি শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ করে । সেই নিয়োগ বির্তক এখনও চলছে । এদিকে রাজ্যের এক অরাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয় । সেই মামলা প্রায় দু বছরের বেশি সময় ধরে সুপ্রিম কোর্টে চলছে । বৃহস্পতিবার তার শুনানী শেষ হল । এবার রায়দানের পালা । সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে মামলাকারী আইনজীবী আবু সোহেল বাংলার জনরবকে বলেন , মামলা শুনানী শেষ হয়েছে । এবার আমরা আশা করছি কাঙ্খিত রায় পাব । আমাদের সংবিধান সংখ্যালঘুদের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান তৈরি করার এবং তার পরিচালনা করার যে অধিকার দিয়েছে তা আমাদের সকলের প্রাপ্য ।

সংবিধানে পরিস্কার বলা হয়েছে , সংখ্যালঘু শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলিকে সাহায্য দানের ক্ষেত্রে সরকার কোনো বৈষম্য করতে পারবে না। দেশের সব সরকার পরিচালিত হয় সংবিধান মেনে , আইন তৈরি হয় সংবিধান মেনে সুতরাং সবার উপরে সংবিধান সত্য তার উপরে ভারতীয় শাসন ব্যবস্থায় আর কিছু নেই । ইনশাল্লাহ রায় আমাদের পক্ষেই যাবে , সাংবিধানিক অধিকার আমরা পাবই বলে দাবি করলেন আইনজীবী আবু সোহেল । এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন ২০১৯ –এর প্রথম মাসেই মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন মামলার চূড়ান্ত রায় সুপ্রিম কোর্ট দিতে পারে । সেদিকেই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজ ।

 


শেয়ার করুন
  • 36
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment