দেশ 

আবগারি দুর্নীতির মুল পান্ডা বিজেপিকে নির্বাচনী বন্ডে বিপুল অংকের চাঁদা, তাঁর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল গ্রেফতার! মুখ লুকাচ্ছে বিজেপি!

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : আবগারি দুর্নীতি মামলায়, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করে আসলে বিজেপি বেকায়দায় পড়ে গেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এতদিন ধরে বিজেপি যে দুর্নীতিমুক্ত ভারত গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছিল ভারতবাসীকে কাজে আদতে সত্য নয় সেটা প্রমাণিত হয়ে গেল ইলেক্টোরাল বন্ড থেকে। যার সাক্ষীর ভিত্তিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করেছে ইদি দেখা যাচ্ছে তিনি নির্বাচনী বন্ডে সবচেয়ে বেশি টাকা দিয়েছে বিজেপিকে। দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলার সবচেয়ে বড় কিং পিন শরৎচন্দ্র রেড্ডি নিরবে এ কাজটি করেছিলেন নিজেকে বাঁচার জন্য। কিন্তু মুশকিল হলো সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইলেক্ট্রাল বন্ড সংক্রান্ত তথ্য বাইরে আসার পর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে নয় নয় করে বেশ কয়েক কোটি টাকা বিজেপি কে দিয়েছে পি শরৎচন্দ্র রেড্ডি। তার পরিচালিত দুটি ওষুধ কোম্পানির তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে যে, পি শরৎচন্দ্র রেড্ডি গ্রেফতার হওয়ার পরেই অরবিন্দ ফার্মা নামে তার ওষুধ কোম্পানির পক্ষ থেকে পাঁচ কোটি টাকা নির্বাচনী বন্ড হিসাবে বিজেপিকে দেওয়া হয়েছে।

এরপর কোমরে ব্যথার কারণ দেখিয়ে দিল্লি হাই কোর্ট থেকে জামিন পান রেড্ডি। ইডি তাঁর জামিনের বিরোধিতা করেনি। এবং রেড্ডি আবগারি দুর্নীতির মামলায় রাজসাক্ষী হয়ে যান। এরপরে নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে আরও ২৫ কোটি টাকা বিজেপির তহবিলে জমা করে অরবিন্দ ফার্মা।

Advertisement

ইডি শুক্রবার দুপুরে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে কেজরীওয়ালকে হাজির করে। সেখানে রাজসাক্ষী হিসেবে রেড্ডির বিবৃতিকেই ইডি কেজরীওয়ালের বিরুদ্ধে কাজে লাগিয়েছে। নির্বাচনে স্বচ্ছতার পক্ষে আন্দোলনকারী অঞ্জলি ভরদ্বাজ এ নিয়ে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘নির্বাচনী বন্ড সংক্রান্ত তথ্য থেকে স্পষ্ট, ২০২২-এর ১০ নভেম্বর ইডি রেড্ডিকে গ্রেফতারের পাঁচ দিন পরেই ১৫ নভেম্বর অরবিন্দ ফার্মা ৫ কোটি টাকার বন্ড কিনেছিল। তা বিজেপির তহবিলে জমা হয়। ২০২৩-এর মে মাসে রেড্ডি দিল্লি হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করেন। কোমরে ব্যথার যুক্তি দেখিয়ে জামিন চাওয়া হলেও ইডি তার বিরোধিতা করেনি। ইডি জামিনে সায় দিয়েছে, এমন ক’টি মামলা আছে? এরপরে রেড্ডি জুন মাসে রাজসাক্ষী হয়ে যান। তার পরে অরবিন্দ ফার্মা আরও ২৫ কোটি টাকার বন্ড কিনে বিজেপির তহবিলে জমা করে। এই সব তথ্য দেখে প্রশ্ন ওঠে, আমাদের গণতন্ত্রে আজ কী চলছে!”

নির্বাচনী বন্ড সংক্রান্ত তথ্য বলছে, রেড্ডির অরবিন্দ ফার্মা মোট ৫২ কোটি টাকার বন্ড কিনেছিল। তার মধ্যে ৩৪.৫ কোটি টাকাই বিজেপির তহবিলে জমা পড়ে। রেড্ডির অন্য সংস্থা এপিএল হেলথকেয়ার ১০ কোটি টাকার বন্ড কিনেছিল। তার পুরোটাই বিজেপির অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। সব মিলিয়ে আবগারি দুর্নীতির অন্যতম অভিযুক্ত থেকে রাজসাক্ষী হয়ে যাওয়া রেড্ডি বিজেপিকে ৪৪.৫ কোটি টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন।

কেজরীওয়ালের সরকার ২০২১-এর নভেম্বরে দিল্লিতে মদ বেচার নীতি চালু করে। অভিযোগ, তাতে হাতে গোনা কিছু মদ-ব্যবসায়ীর হাতে পুরো ব্যবসা তুলে দেওয়ার রাস্তা খুলে দেওয়া হয়। এই অভিযোগও ওঠে, ওই সব ডিলাররা মদ বেচার লাইসেন্সের বিনিময়ে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ দেন। ইডি-র অভিযোগ ছিল, বিআরএস নেত্রী কে কবিতার মদতপুষ্ট দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু সংস্থা ঘুষ দিয়ে এই লাইসেন্স আদায় করে এবং ১০০ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের পিছনে ভূমিকা ছিল রেড্ডির।

ইডি-র আইনজীবীরা আজ কেজরীওয়ালকে আবগারি দুর্নীতির মূল মাথা প্রমাণ করতে রাজসাক্ষী রেড্ডির বিবৃতিকেই হাতিয়ার করেছেন। জবাবে কেজরীওয়ালের হয়ে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, ‘‘এটা নতুন কায়দা। এক জন সাক্ষী প্রথমে কেজরীওয়ালের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেননি। তার পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি রাজসাক্ষী হয়ে যান এবং এক সকালে তদন্তকারীদের মনের মতো বিবৃতি দেন।’’

এই বিষয়টি সামনে আসার পরেই দুর্নীতির ইস্যুতে বেশ খানিকটা বেকায়দায় পড়ে গেছে বিজেপি। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করে বিজেপি নিজের ক্ষতি ডেকে আনছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। এতদিন ধরে দেশজুড়ে বিজেপি যে নিজস্ব ভাবমূর্তি তৈরি করেছিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির পর পুরো বিষয়টি যেন বিজেপির দিকেই আঙ্গুল উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের অভিমত হচ্ছে যে যদি ৪০০ টি আসনে পেয়ে যায় এনডিএ তাহলে এত ভয় পাচ্ছে কেন? কেন বিরোধীদের প্রধান মুখ অরবিন্দ কেজরিওয়াল কিংবা রাহুল গান্ধীকে নিয়ে এত চিন্তাভাবনা করছে বিজেপি! শেষ বিচারে বলা যেতে পারে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করে কার্যত বিজেপি রাজনৈতিকভাবে দেশে অনেকটাই ব্যাক ফুটে চলে গেল!


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ